Foto

ফারমার্স এবার নাম পাল্টাচ্ছে


অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে ডুবতে বসা ফারমার্স ব্যাংক আগামী জানুয়ারি থেকে পুরোদমে নতুন করে কার্যক্রম শুরু করতে চায়। এ জন্য ব্যাংকটির নামও পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে আসবে নতুন নতুন আমানত ও ঋণ পণ্য। নতুন প্রজন্মের এ ব্যাংককে বাঁচাতে ১ হাজার ২১৫ কোটি টাকা মূলধন সহায়তা দিচ্ছে সরকারি চার ব্যাংক ও একটি বিনিয়োগ সংস্থা। এর মধ্যে ৮১৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, আরও ৪০০ কোটি টাকা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এ ছাড়া শুরু থেকেই ব্যাংকটিতে এসব প্রতিষ্ঠানের ৫৫০ কোটি টাকা ধার রয়েছে।


মূলধন সহায়তা দিয়ে রাষ্ট্রমালিকানাধীন সোনালী, অগ্রণী, জনতা ও রূপালী ব্যাংক এবং ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) ব্যাংকটির পর্ষদের পরিচালক হয়েছে। আর গত জানুয়ারি থেকে চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন রেইস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের অন্যতম উদ্যোক্তা চৌধুরী নাফিজ সরাফাত। ফার্স্ট জনতা ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ডের পক্ষে চেয়ারম্যান হয়েছেন তিনি। তাঁর উদ্যোগেই ব্যাংকটি পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে।

নতুন পর্ষদ দায়িত্ব নেওয়ার আট মাস পেরিয়ে গেলেও ব্যাংকটি এখনো চালু করতে পারেনি ঋণ কার্যক্রম। তবে এর মধ্যে ব্যাংকটি নতুন করে একটি শাখা উদ্বোধন করেছে। আমানতকারীদের পাওনা টাকাও ফেরত দিচ্ছে। তবে পুরোপুরি গ্রাহকের আস্থা না ফেরায় চাহিদামতো আমানত পাচ্ছে না ব্যাংকটি। তাই বন্ড ছেড়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে টাকা সংগ্রহের চেষ্টা করছে। এ জন্য সুদহার নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় সাড়ে ১২ শতাংশ।

ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এহসান খসরু গত বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, সরকারি ব্যাংকগুলো এখন এ ব্যাংকের মালিক। এ কারণে গ্রাহকদের মধ্যে খুব বেশি আতঙ্ক নেই। ব্যাংকটির নামসহ পুরো কার্যক্রমে পরিবর্তন আনা হবে। আগামী জানুয়ারি থেকেই নতুন করে কার্যক্রম শুরু হবে।

এহসান খসরু আরও বলেন, ব্যাংকের পরিচালক হিসেবে যুক্ত হয়েছেন সরকারি ব্যাংক ও আইসিবির পাঁচজন এমডি। ফলে ব্যাংকটি আর খারাপ হওয়ার আশঙ্কা নেই। বরং মডেল ব্যাংকে পরিণত হওয়ার সুযোগ আছে।

ফারমার্স ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, পর্ষদ পুনর্গঠনের পর ব্যাংকে নতুন করে ৭১৫ কোটি টাকা মূলধন জোগান আসে। আগে মূলধন ছিল ৪০১ কোটি টাকা। এ ছাড়া চলতি বছরের শুরু থেকে গত আগস্ট পর্যন্ত নতুন করে আমানত আসে ২৭৭ কোটি টাকা, ঋণ আদায় হয় ৩৬০ কোটি টাকা। তবে এ সময়ে গ্রাহকেরা ৯৮০ কোটি টাকা আমানত তুলে নেয়।

বন্ড ছেড়ে ১ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের অনুমোদন রয়েছে ব্যাংকটির। এ বন্ডেও বিনিয়োগ করবে মূলধন জোগান দেওয়া সরকারি চার ব্যাংক ও আইসিবি। এরই মধ্যে ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে অগ্রণী ব্যাংক।

ফারমার্স ব্যাংক সূত্র জানায়, নতুন করে এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা করছে ব্যাংকটি। এ ছাড়া শাখাগুলোতে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিল নেওয়া শুরু হয়েছে। এ বছর ৫০০ কোটি টাকা নতুন আমানত ও ৪০০ কোটি টাকা ঋণ আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

গত আগস্ট শেষে ব্যাংকটির মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৯২২ কোটি টাকা। আর ঋণ বেড়ে হয়েছে ৫ হাজার ২০০ কোটি টাকা। খেলাপি ঋণ বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৫২১ কোটি টাকা। ব্যাংকটির এমডি এহসান খসরু বলেন, ফাংশনাল নিরীক্ষা চলছে। এরপরই ব্যাংকের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে।

রাজনৈতিক বিবেচনায় ২০১৩ সালে অনুমোদন পাওয়া নতুন ৯ ব্যাংকের একটি ফারমার্স ব্যাংক। কিন্তু চার বছর না পেরোতেই চরম সংকটে পড়ে ব্যাংকটি। পরিস্থিতির চরম অবনতি হওয়ায় গত বছরের নভেম্বরে পদ ছাড়তে বাধ্য হন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর। ব্যাংকটির এমডি এ কে এম শামীমকেও অপসারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

Facebook Comments

" বিশ্ব অর্থনীতি " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ