Foto

ক্ষেপণাস্ত্র ‘এস–৪০০’ কিনছে ভারত


রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেদের মধ্যকার বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন। গতকাল নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে। • ভারত-রাশিয়া প্রতিরক্ষা চুক্তি • মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ভ্রুকুটি অগ্রাহ্য। • ৪০ হাজার কোটি রুপির চুক্তি ছাড়াও দুই দেশের মধ্যে ৮টি ক্ষেত্রে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ভ্রুকুটি অগ্রাহ্য করে অত্যাধুনিক দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ‘এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ’ কেনার চুক্তিতে সই করল ভারত ও রাশিয়া।


পুতিন ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে শুক্রবার রাজধানী দিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। প্রায় ৪০ হাজার কোটি রুপির এই চুক্তি ছাড়াও দুই দেশের মধ্যে ৮টি ক্ষেত্রে অনুচুক্তি বা সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এগুলোর অন্যতম গগনায়ন, যে কর্মসূচি অনুযায়ী ২০২২ সালে চাঁদে মানুষ পাঠাতে ভারতকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে রাশিয়া।

দুই দেশের ১৯তম বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে পুতিন গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দুদিনের সফরে ভারতে আসেন। এই সফরে তাঁর সঙ্গী হয়েছেন উপপ্রধানমন্ত্রী উরি বরিসোভ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরোভ ও শিল্প-বাণিজ্যমন্ত্রী ডেনিস মান্তুরোভ। দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। বৈঠকের পর দুই শীর্ষ নেতা হায়দরাবাদ হাউসে দুই দেশের সাংবাদিকদের সামনে সংক্ষিপ্ত বিবৃতি দেন। তাতে মোদি বলেন, এই বৈঠক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন আঙ্গিক সৃষ্টি করেছে। এই সম্পর্ক অনন্য ও অদ্বিতীয়। প্রত্যুত্তরে ভারতের সঙ্গে তাঁর দেশের সম্পর্ককে অতুলনীয় আখ্যা দেন পুতিন। প্রধানমন্ত্রী মোদিকে তিনি আরও একবারের জন্য ভ্লাদিভোস্তক ফোরামে প্রধান অতিথি হতে অনুরোধ করেন।

পুতিনের এই সফর ঘিরে সংশয় ও জল্পনার অন্ত ছিল না। এবং তার কেন্দ্রে ছিল এস-৪০০ চুক্তি। গত আগস্ট মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়ে দিয়েছিলেন, রাশিয়ার কাছ থেকে বিমানবাহিনীর জন্য এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধব্যবস্থা কিনলে ভারতকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে হবে। নিষেধাজ্ঞা জারির আগেই ভারত এস-৪০০ কিনতে আগ্রহ দেখিয়েছিল। কথাবার্তাও এগিয়েছিল অনেকটাই। রাশিয়ার কাছ থেকে চীন এই একই ক্ষেপণাস্ত্র কেনায় ভারতের তাগিদও ছিল তীব্র। মার্কিন হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে চুক্তিটি সই হয় কি না, সেটাই ছিল মূল আগ্রহ। চুক্তি সইয়ের পর প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, এই দ্রুত পরিবর্তনশীল পৃথিবীতে আমাদের সম্পর্কও দ্রুতগতিতে এগিয়েছে। দুই দেশের সম্পর্কেরই শক্তি বৃদ্ধি ঘটেছে।

রাশিয়ার ওপর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ক্ষোভের কারণ একাধিক। তাঁর নির্বাচনে রাশিয়ার নাক গলানোকে ট্রাম্প অ​নধিকার চর্চা বলে মনে করেন। তা ছাড়া সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে রাশিয়ার জড়িয়ে পড়াকেও তিনি মেনে নেননি। ক্রিমিয়া দখলও অনুমোদন করেননি। চীনের সঙ্গে সাম্প্রতিক সখ্যও তাঁর চক্ষুশূল। বিশ্ববাজারে রুশ অস্ত্রসম্ভারের জোগান ঠেকাতে ট্রাম্প প্রশাসন তাই কাউন্টারিং আমেরিকাজ অ্যাডভারসারিজ থ্রু স্যাংশন আইন বা সিএএটিএসএ চালু করে। আইন অনুযায়ী রুশ অস্ত্র যারাই কিনবে তারাই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়বে। ভারতের ক্ষেত্রে এই আইন প্রয়োগ না করার (ওয়েভার) আরজি যুক্তরাষ্ট্রকে জানানো হলেও ট্রাম্প প্রশাসন সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত এখনো নেয়নি।

গুরুত্বপূর্ণ এই চুক্তির উল্লেখ পুতিন বা মোদি কেউই অবশ্য তাঁদের যৌথ বিবৃতিতে করেননি। দুই দেশের পক্ষ থেকে ৬৮ অনুচ্ছেদের যে যুগ্ম বিবৃতি (এযাবৎকালের মধ্যে দীর্ঘতম) শুক্রবার প্রকাশ করা হয়, তার ৪৫তম অনুচ্ছেদে একটি মাত্র বাক্যে চুক্তিটির উল্লেখ করা হয়েছে। এই চুক্তি ছাড়া স্বাক্ষরিত হয়েছে মহাকাশ, পরমাণু শক্তি, রেল ও সড়ক পরিবহন ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য ৮টি সমঝোতা স্মারক ।

Facebook Comments

" বিশ্ব সংবাদ " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ