Foto

২৫ নেতার প্রার্থিতা বহাল রেখেছে ইসি


নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন হারানো জামায়াতে ইসলামীর ২৫ জন নেতার প্রার্থিতা বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তাদের প্রার্থিতা বাতিলে আইনগত পদক্ষেপ নেয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে ইসি।


রোববার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদার সভাপতিত্বে কমিশনের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এছাড়াও আদালতের রায়ে দলীয় প্রার্থিতা বাতিল হওয়া আসনে বিএনপির দাবি অনুযায়ী পুনঃতফসিল বা বিকল্প প্রার্থী দেয়ার সুযোগ চেয়ে করা আবেদনও নাকচ করা হয়েছে।

নির্বাচন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে রোববার রাতে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ কমিশনের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। পাশাপাশি গাইবান্ধা-৩ আসনের জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মনোনীত ডা. টিআইএম ফজলে রাব্বী চৌধুরীর মৃত্যুতে স্থগিত হওয়া নির্বাচনের পুনঃতফসিল ঘোষণা করা হয়।

জানা গেছে, জামায়াতের ২৫ নেতার মধ্যে ২২ জন বিএনপির দলীয় প্রতীক ধানের শীষে এবং তিনজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। তাদের প্রার্থিতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ইসিতে আবেদনের পাশাপাশি আদালতে রিট আবেদন করেন তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরী। আদালতের নির্দেশনা মেনে তিন কার্যদিবসের মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তির বাধ্যবাধকতা ছিল ইসির। বৃহস্পতিবার রায়ের কপি ইসিতে পৌঁছে। সোমবার সেই তিন দিন শেষ হওয়ার আগে রোববার রাতে ইসি এই সিদ্ধান্ত নেয়।

কমিশনের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে ইসি সচিব বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে প্রার্থিতা চূড়ান্ত করেছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে কোনো আপিল হয়নি। ইতিমধ্যে নির্বাচনের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তাদের প্রার্থিতা বাতিলের আইনগত কোনো সুযোগ নেই মর্মে কমিশন সিদ্ধান্ত দিয়েছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্বাভাবিকভাবে জামায়াতে ইসলামী নামে নির্বাচন কমিশনের কোনো নিবন্ধিত দল নেই। তারা অন্য দলের প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। সেটি পর্যালোচনা করে কমিশন দেখেছে; তাদের প্রার্থিতা বাতিলের সুযোগ নেই। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা সবাই ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে ইসি মনে করছে।

জামায়াতের এই ২৫ প্রার্থীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বিকাল সাড়ে তিনটায় বৈঠকে বসে ইসি। মাগরিবের বিরতির পর আবারও এই বৈঠক শুরু হয়ে আরও ঘণ্টাখানেক চলে।

জামায়াতের রিট আবেদনকারীদের মধ্যে রেজাউল হক চাঁদপুরীর সঙ্গে আরও রয়েছেন মো. আলী হোসেন, মো. এমদাদুল হক ও হুমায়ুন কবির। রিটে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ২২ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনজন জামায়াত প্রার্থীর ভোটে অংশ নেয়ার ওপর স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়। গত ২০ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার উচ্চ আদালতের নির্দেশের কপি হাতে পায় কমিশন। এ বিষয়ে শুক্রবার কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও আওয়ামী লীগের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচটি ইমাম বলেন, ‘হাইকোর্ট থেকে জামায়াতের যেসব সদস্য প্রার্থী আছেন, তালিকা দিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে তাদের নাম পাঠানো হয়েছে। হাইকোর্ট তাদের বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।

গাইবান্ধায়-৩ আসনে ভোট ২৭ জানুয়ারি : এদিকে প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে স্থগিত হওয়া গাইবান্ধা-৩ আসনের পুনঃতফসিল চূড়ান্ত করা হয়েছে কমিশন সভায়। এতে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় রাখা হয়েছে ২ জানুয়ারি এবং ভোট গ্রহণ করা হবে ২৭ জানুয়ারি।

এছাড়া ইসি সচিব প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, এ পর্যন্ত ২২৩টি আসনের ব্যালট পেপার মুদ্রণের কাজ শেষ হয়েছে। আদালতের নির্দেশনার কারণে কিছু আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের কারণে নতুন করে সমন্বয় করতে হচ্ছে। শিগগিরই বাকি আসনগুলোর রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবরে এসব ব্যালট মুদ্রণ করে পাঠিয়ে দেয়া হবে।

Facebook Comments

" জাতীয় খবর " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ