Foto

২১ আগস্ট হামলার আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে জনম‌নে প্রশ্ন


এ ছাড়াও রিজভী ব‌লেন, ‘সাবেক প্রধান বিচারপতি তো দেশে বসেই সৎ সাহসের সঙ্গে কাজ করছিলেন। কিন্তু প্রধান বিচারপতির কাছে তো বন্দুক নেই। রাষ্ট্রের বন্দুকধারীরা যদি তার দিকে বন্দুক তাক করে দেশের বাহিরে যেতে বাধ্য করে তখন তিনি কি করবেন?’ ২১ আগস্টের বোমা হামলার আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে জনম‌নে প্রশ্ন দেখা দি‌য়ে‌ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। ২২ সে‌প্টেম্বর, শ‌নিবার বেলা সোয়া ১১টার দি‌কে রাজধানীর নয়াপল্ট‌নে দ‌লের কেন্দ্রীয় কার্যাল‌য়ে সংবাদ স‌ম্মেল‌নে রিজভী এ কথা ব‌লেন। রুহুল ক‌বির রিজভী ব‌লে‌ন, ‘আদালত দিয়ে প্রতিশোধ গ্রহণের রমরমা রাজনৈতিক সফলতায় ক্ষমতাসীনরা উল্লসিত। এই অবৈধ সরকার আইন, বিচার সবকিছু কুক্ষিগত করে দেশকে ‘‘মগের মুল্লুকে’’ পরিণত করেছে। সরকারের ‘‘গাইডলাইন’’ অনুযায়ী ২১ আগস্ট বোমা হামলা মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলছে কিনা, তা নিয়ে জনগণের মনে বড় ধরনের সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে।’


সরকারের সব ধরনের বক্তব্য, বিবৃতি ও প্রচারকেই জনগণ বাকোয়াস বলে মনে করে। তাদের উন্নয়নের ফানুস ফেটে গেছে। গণতন্ত্রকে বন্দী করে, বিরোধী দলের বিরুদ্ধে রক্তাক্ত দমনের পথ বেছে নিয়ে, মামলা-হামলা-গ্রেফতার করে সরকার বিরোধী দলের নেতাদের ঘুম কেড়ে নিতে চাচ্ছে। আবারও প্রত্যয়-দৃঢ় কন্ঠে বলতে চাই, সরকারের এই সমস্ত অনাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের সম্মিলিত কণ্ঠস্বরে সরকার ও সরকারপ্রধান কতটুকু শান্তিতে ঘুমাতে পারবেন তা দেখার জন্য জনগণ অপেক্ষা করছে।

রিজভী ব‌লেন, জনগণের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, ২১ আগস্টের বোমা হামলার আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে। ১/১১-এর সরকার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নাম তদন্ত করে পেল না। তদন্তকারী কর্মকর্তারা কোথাও সন্দেহবশতও তারেক রহমানসহ সরকারের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের নাম উল্লেখ করেনি। অথচ আওয়ামী লীগ ২০০৯-এ ক্ষমতায় এসে নজীরবিহীনভাবে পছন্দের তদন্তকারী কর্মকর্তা কাহার আকন্দকে অবসর থেকে ডেকে এনে ২১ আগস্ট বোমা হামলা মামলার পুনঃতদন্তের ভার দেয়। সে বিচারকদের কাছ থেকে মামলাটি ফেরত এনে পুনঃতদন্তের নামে তারেক রহমানকে মামলায় জড়িয়ে ষড়যন্ত্রের যাত্রা শুরু করে।

রুহুল কবির বলেন, খালেদা জিয়ার সাথে তার আত্মীয়স্বজন দেখা করেছেন। তি‌নি এখনও গুরুতর অসুস্থ। তার হাত, পায়ের ব্যথা আরও তীব্র হয়েছে। অথচ শারীরিক অসুস্থতাকে আরও অবনতির দিকে ঠেলে দিতেই দেশনেত্রীকে ইচ্ছাকৃতভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না। অসুস্থতা লাঘবের জন্য বেগম জিয়ার আস্থার হাসপাতাল ও চিকিৎসকদেরকে উপেক্ষা করা হচ্ছে। প্রস্থেসিস কমপেটিবল এমআরআই মেশিন ইউনাইটেড হাসপাতাল অথবা অন্য বিশেষায়িত হাসপাতালে রয়েছে। কিন্তু এটি বিএসএমএমইউ-তে নেই, এমনকি বিএসএমএমইউ-তে ভর্তিকৃত অনেক রোগীর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষাও বাইরের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল থেকে করা হয়।

দুপুর দুইটার পর বিএসএমএমইউতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পাওয়া দুষ্কর ও পরীক্ষা-নিরীক্ষাও বন্ধ থাকে। সুতরাং খালেদা জিয়ার যথাযথ চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত হাসপাতালের দাবি কি অন্যায্য? এমনকি সরকারি মেডিকেল বোর্ডও বিএসএমএমইউসহ যেকোনো বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তির সুপারিশ করেছে। বিএসএসএমএমইউ যদি এতই বিশেষায়িত ও ইকুইপড হতো, তাহলে মাননীয় রাষ্ট্রপতি বারবার চিকিৎসা নিতে বিদেশ যাচ্ছেন কেন? কয়েকদিন আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিদেশ থেকে চিকিৎসা করে আসলেন কেন? তারা কেন বিএসএমএমইউতে চিকিৎসা নিলেন না?

খালেদা জিয়ার ওপর জুলুম ও অত্যাচারে সরকার রীতিমতো উৎফুল্ল বোধ করছে মন্তব্য ক‌রে রুহুল ক‌বির ব‌লেন, সরকারপ্রধানের এক ধরনের অহংবোধ চরিতার্থ করতে বেগম জিয়ার চিকিৎসায় বাধা দেওয়া হচ্ছে। মৌলিক মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। সরকারের টালবাহানায় অসুস্থ বেগম জিয়া চিকিৎসা না পাওয়ায় দেশবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে এক বিষাদময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

আপাত সংকীর্ণতার মধ্যেই আওয়ামী লীগের রাজনীতি আবর্তিত হয়। এদের মধ্যে মানবতা, সভ্যতা, উদারতা ও সহমর্মিতার প্রচণ্ড ঘাটতি। বিরোধী নেতা ও সংগঠনকে সবদিক থেকে পর্যুদস্ত করতে এদের সাথে আর কারো তুলনা করা যায় না। আওয়ামী লীগের মানবসত্ত্বায় অন্তর্নিহিত রয়েছে বিপজ্জনক অনাচার।

সা‌বেক প্রধান‌ বিচারপ‌তি এস কে সিনহা সম্প‌র্কে রিজভী ব‌লেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি তো দেশে বসেই সৎ সাহসের সঙ্গে কাজ করছিলেন। কিন্তু প্রধান বিচারপতির কাছে তো বন্দুক নেই। রাষ্ট্রের বন্দুকধারীরা যদি তার দিকে বন্দুক তাক করে দেশের বাহিরে যেতে বাধ্য করে তখন তিনি কি করবেন? তখন তিনি বিদেশে গিয়ে লিখবেন নাকি গণভবনে সবুজ লনে বসে লিখবেন? আওয়ামী লীগ সরকারের লোকেরা একজন নিরস্ত্র প্রধান বিচারপতিকে সন্ত্রাসীদের কায়দায় বন্দুকের নলের মুখে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেয়। এটা কোনো বীরের কাজ নয়, এটি কাপুরুষের কাজ।

সভ্য গণতান্ত্রিক দেশে বিচার বিভাগ একটি স্বাধীন সংস্থা। অথচ বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রীসহ অন্যান্য মন্ত্রী-উপদেষ্টারা কথা বলার নামে এমন আচরণ করেছেন যেন তারা প্রধান বিচারপতিকে রিমান্ডে নিয়েছেন। রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব তাকে বঙ্গভবনে ডেকে নিয়ে গিয়ে রাষ্ট্রপতির সামনে যেভাবে প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রীরা ধমকা-ধমকি করেছেন তা সন্ত্রাসী আক্রমণেরই সমতূল্য।

রিজভী ব‌লেন, প্রধান বিচারপতি তার বইয়ে লিখেছেন যে, ক্ষমতাসীন সরকারই তাকে পদত্যাগে এবং নির্বাসনে যেতে বাধ্য করেছে। সুতরাং নির্যাতিত এস কে সিনহা সাহেব কি আওয়ামী লীগের মৌসুম দেখে বই প্রকাশ করবেন? অথচ ওবায়দুল কাদের সাহেব বলেছেন, প্রধান বিচারপতি সাবেক হয়ে গেছেন, সাবেক হওয়ার অন্তর্জালা আছে।

‌আপনারা (ওবায়দুল কাদের) তো বন্দুকের নল ঠেকিয়ে সুরেন্দ্র কুমার সিনহা সাহেবকে সন্ত্রাসী কায়দায় সাবেক হওয়ার আগেই সাবেক করেছেন। তাই সত্য কথা লিখাতে অন্তর্জালা হচ্ছে আপনাদের। যদি ভোটারবিহীন ক্ষমতাসীন সরকার দেশের প্রধান বিচারপতিকে পদত্যাগে ও নির্বাসনে যেতে বাধ্য করে তাহলে প্রশাসন, আইন-আদালতকে বাধ্য করে বিচারকের কাছ থেকে মামলা ফেরত এনে সম্পূরক চার্জশিটে তারেক রহমানের নাম জড়ানো তো কঠিন কাজ নয়। গণবিরোধী অবৈধ সরকার যেকোনো কাজই করতে পারে।

Facebook Comments

" রাজনীতি " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ