Foto

১৪ কিলোমিটার দুর্গম পথ হেঁটে প্রতিদিন স্কুলে যায় নিকিতা


সকালে ঘুম থেকে উঠে স্কুলে যেতে প্রায় সব শিশুই আলসেমি বোধ করে। যদিও ভ্যান, রিকশা, গাড়ি না হয় অন্য কোন যানবাহনে চড়ে তারা স্কুলে যায়। বাড়ির কাছাকাছি হলে কেউ পায়ে হেঁটেও স্কুলে যায়। কিন্তু স্কুল থেকে বাড়ির দুরত্ব যদি হয় ১৪ কিলোমিটারেরও বেশি? তাহলে প্রতিদিন কোন শিশুর পক্ষে এত দূর হাঁটা নিশ্চয়ই কোন সহজ কাজ নয়। কিন্তু এই কঠিন কাজটাই প্রতিদিন করছে ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের নবম শ্রেনীর ছাত্রী নিকিতা কৃষ্ণা মোরে।


জানা গেছে, রাইগাড় জেলার পারচিলি গ্রামের এই সাহসী মেয়েটি শিক্ষার প্রতি অদম্য আগ্রহ থেকে দুর্গম বনের ভিতর দিয়ে প্রতিদিন ১৪ কিলোমিটার পথ হেঁটে স্কুলে যায়। যে বনের ভিতর দিয়ে প্রতিদিন নিকিতাকে এত পথ পাড়ি দিতে হয় সেখানে বাঘ,শূকর, বিষধর সাপসহ আরও অনেক বন্য প্রাণি রয়েছে।সে পথ চলতে চলতে এসব প্রাণি দেখে ভয়ও পায়। কিন্তু তার চেষ্টা থাকে এদের থেকে নিরাপদ দুরত্ব বজায় রেখে চলা।

নিকিতার বাবা-মা বর্গাচাষী।গ্রামের আশেপাশে কোন স্কুল না থাকায় এত পথ পাড়ি দিয়ে স্কুলে যেতে হয় নিকিতাকে। গত বছর পর্যন্ত দাদার সঙ্গেই সে স্কুলে যেত। কিন্তু দাদা এখন কলেজে পড়ার কারণে তাকে একাই সপ্তাহের ছয়দিন এই দুর্গম পথ দিয়ে হেঁটে যেতে হয়।

১৪ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে নিকিতার প্রতিদিন ২ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। চিকিৎসক হওয়ার ইচ্ছে নিয়েই পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে সে। নিকিতা জানায়, বর্ষার সময়গুলোতে তার খুব সমস্যা হয়। পাহাড়ি পথ পিচ্ছিল হয়ে থাকে। আবার শীতের দিনগুলোতেও তাকে কিছু সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। কারণ বিকালে স্কুল থেকে ফেরার সময় তখন দ্রুত অন্ধকার নেমে আসে।এসময় মাঝেমধ্যে সে দৌড়ে বন পাড়ি দেয়।

এত প্রতিকূলতার মধ্যেও নিকিতা স্কুলে বিজ্ঞান ও অংকে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছে। শিক্ষকরা তার সাহসিকতার সবসময় প্রশংসা করেন। তাকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে মেয়েদের আদর্শ বলে উল্লেখ করেন। ভাল অ্যাথলেট হিসাবেও স্কুলে নিকিতার যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। পর পর দুই বছর স্কুলে অভ্যন্তরীণ দৌড় প্রতিযোগিতায় সে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। নিকিতা মোরের এই পথচলা গ্রামের অন্য মেয়েদেরও পড়াশোনার প্রতি উৎসাহিত করে তুলেছে।

Facebook Comments

" লেখাপড়া " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ