Foto

১৩ বছর পর কাল একসঙ্গে নেই সাকিব–মুশফিক


হ্যামিল্টনে কাল বাংলাদেশ সময় ভোর চারটায় টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। চোটের কারণে নিউজিল্যান্ডেই যেতে পারেননি সাকিব আল হাসান। চোটই কাল হয়তো খেলতে দিচ্ছে না মুশফিককে


প্রথমে জানা গিয়েছিল, শুধু ওয়ানডে সিরিজে তাঁকে পাওয়া যাবে না। ওয়ানডে সিরিজ শেষে কাল হ্যামিল্টনে শুরু হচ্ছে টেস্ট সিরিজ। অথচ সাকিব আল হাসান দেশে। আঙুলের চোট যে তাঁকে প্রথম টেস্ট খেলতে দিচ্ছে না তা নিশ্চিত। মাশরাফি বিন মুর্তজা তো আগেই ভবিষ্যদ্বাণী করে রেখেছেন, ’নিউজিল্যান্ড সফর সব সময়ই কঠিন। সাকিবকে ছাড়া আরও কঠিন হবে।’

কতটা কঠিন—তা খোলাসার আগেই ব্যাপারটি আরও কঠিন হয়ে গেছে। সেই দায় মুশফিকুর রহিমের। তৃতীয় ওয়ানডেতে ব্যাটিংয়ের সময় বুড়ো আঙুলে আঘাত পেয়েছিলেন। আর কবজিতে আগের ব্যথা তো ছিলই। খেলতে পারেননি প্রস্তুতি ম্যাচেও। অলৌকিক কিছু না ঘটলে হ্যামিল্টনে সিরিজের প্রথম টেস্টেও মুশফিক থাকছেন দর্শক হয়ে। অর্থাৎ সাকিবকে ছাড়া যে সফর অনেক কঠিন, সেই সফরে মুশফিক না থাকলে ব্যাপারটা সত্যিকার অর্থেই ’মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’। ব্যাটিংয়ে (ধরে নেওয়া হচ্ছে) নেই টেকনিক্যালি বাংলাদেশের অন্যতম নিখুঁত ব্যাটসম্যানটি, আর বোলিংয়ে নেই এই বিভাগের সর্দার। বাংলাদেশ তো এই টেস্টে মাঠে নামার আগেই ব্যাকফুটে!

পরিসংখ্যানে এই পিছিয়ে পড়া খোলাসার চেষ্টা যায়। টেস্টে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রান সাকিবের (৮ ম্যাচে ৭৬৩)। সর্বোচ্চ উইকেটও সাকিবের (৮ ম্যাচে ২৬ উইকেট)। এর মধ্যে দেশের মাটিতে ৪ ম্যাচ ও নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ৪ ম্যাচ খেলেছেন সাকিব। দেশের চেয়ে নিউজিল্যান্ডের মাটিতেই তিনি বেশি কার্যকর। সেখানেও টেস্টে দেশের হয়ে কিউইদের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রান (৫১৭ রান) ও উইকেট (৯) সাকিবের। সর্বোচ্চ উইকেট (১১) মাশরাফির, কিন্তু তিনি টেস্ট না খেলায় জায়গাটা এখন সাকিবের।

সবচেয়ে বেশি বলও (৭১৫) খেলেছেন সাকিব-ই। সবচেয়ে বেশি ওভার বলও হয়েছে তাঁর হাত থেকে-ই (১২৪.৪ ওভার)। এই সাকিব তো এমনিতেই দেশ সেরা ক্রিকেটার, আর নিউজিল্যান্ডের মাটিতে এমন কেউ না থাকার অর্থ, দলের সেরা অস্ত্রটি-ই নেই।

টেস্টে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে দেশের হয়ে রান তোলায় মুশফিক চারে (৪ ম্যাচে ২২২ রান)। তবে বল খেলার দিক থেকে মুশফিক রয়েছেন সাকিবের পরই (৪৭৭ বল)। নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশের যে তিন ব্যাটসম্যান সেঞ্চুরি পেয়েছেন মুশফিক তাঁদের একজন। সাকিবের একার সেঞ্চুরিসংখ্যাই দুটি। বাকি একটি মাহমুদউল্লাহর। মুশফিকের সেঞ্চুরি প্রসঙ্গে যে স্মৃতি উঠে আসে সেটি সম্ভবত নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্টে বাংলাদেশ দলেরই সেরা স্মৃতি।

২০১৭ সালে বেসিন রিজার্ভে সাকিবের সঙ্গে তাঁর সেই ৩৫৯ রানের জুটি—যেখানে সাকিব তুলেছিলেন ডাবল সেঞ্চুরি আর মুশফিক ১৫৯। ইশ...আহা...উহ তাই কোনোভাবেই দমিয়ে রাখা যাচ্ছে না। চোটকেও শাপ-শাপান্ত করতে হচ্ছে। কেন করতে হচ্ছে তা সবারই জানা। আর এই জানা বিষয় কপচাতে গিয়ে যে প্রশ্নটি উঠে আসে সবার আগে, সাকিব-মুশফিক ছাড়া বাংলাদেশ সবশেষ টেস্ট খেলেছে কবে, তা কারও মনে পড়ে?

’নস্টালজিক’ সমর্থকদের মনে থাকার কথা। প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। ২০০৬, বাংলাদেশ সফরে এসেছিল অস্ট্রেলিয়া। আগের বছরই টেস্টে অভিষিক্ত মুশফিকের জায়গা হয়নি সেই সফরে দুই টেস্টের সিরিজে। সাকিব তখনো টেস্ট আঙিনায় পা রাখেননি। অভিষিক্ত হলেন পরের বছর। সহজ কথায়, সাকিব টেস্টে অভিষিক্ত হওয়ার পর এই দুজনের মধ্যে কেউ না কেউ ছিলেন বাংলাদেশ টেস্ট দলে। সাকিব-মুশফিক একসঙ্গে কিংবা দুজনের মধ্যে একজনকে নিয়ে এই সময়ে ৬৮ টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে জয় ও ড্র সংখ্যা এক ডজন মানে ১২টি করে।

সাকিব অভিষিক্ত হওয়ার আগে দুই টেস্ট খেলেছিলেন মুশফিক। তারপর খেলেছেন ৬৪ টেস্ট। আর সাকিবের ক্যারিয়ারে টেস্টসংখ্যা ৫৫। ২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার সেই সফরের পর টেস্টে বাংলাদেশের শীর্ষ তিন রান সংগ্রাহকের মধ্যে দুইয়ে ও তিনে যথাক্রমে মুশফিক ও সাকিব। তামিম ইকবালকে এই সিরিজে পাচ্ছে বাংলাদেশ। অর্থাৎ ব্যাটিং অর্ডারে ফলাটা সেই আগের মতোই ধারালো কিন্তু মিডল অর্ডার যে ভোঁতা হয়ে গেল!

দেখা যাক কাল অন্য কেউ এই দুই তারকার অভাবটা ঢেকে দিতে পারেন কিনা!

Facebook Comments

" ক্রিকেট নিউজ " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ