Foto

হোসাইনী দালানে হামলা: সাক্ষীদের হাজিরে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা


পুরান ঢাকার হোসাইনী দালানে তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতির সময় শিয়া সম্প্রদায়ের উপর বোমা হামলার তিন বছর পেরিয়ে গেলেও সাক্ষীদের অনুপস্থিতিতে বিচারে নেই গতি। আরেকটি আশুরার আগের দিন বৃহস্পতিবারও সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালে এ মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু কোনো সাক্ষীর দেখা মেলেনি। রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম আইনজীবী মো. গোলাম ছারোয়ার খান জাকির বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি অসুস্থ বলে আজ আদালতে যাইনি। এ মামলা সম্পর্কে আমি কিছু বলতে পারব না।” ট্রাইব্যুনালের পেশকার আতাউর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বেশ কয়েকজন সাক্ষীকে আনতে আদালত থেকে অজামিনযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। সাক্ষী আসবে।”


ট্রাইবুনালের বিচারক মজিবুর রহমান সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য পরবর্তী তারিখ রেখেছেন আগামী ১১ অক্টোবর।

২০১৫ সালের ২৩ অক্টোবর প্রথম প্রহরে তাজিয়া মিছিলের জন্য পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে হোসাইনী দালান ইমামবাড়ায় সমবেত হয়েছিলেন ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ।
রাত ১টা ৫৫ মিনিটের দিকে হোসাইনী দালান চত্বরে পরপর তিনটি বিস্ফোরণ ঘটে। এই বোমায় অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাজ্জাদ হোসেন নামের এক কিশোর এবং জামাল উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি মারা যান।
পাকিস্তানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে শিয়া সম্প্রদায়ের উপর হামলার ঘটনা ঘটলেও বাংলাদেশে এ ধরনের ঘটনা ওটাই প্রথম।

হামলার দুই দিন পর অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে চকবাজার থানায় মামলা করে পুলিশ। ঘটনার পর তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো. শফিউদ্দিন শেখ ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে অভিযোগপত্র অনুমোদনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠান।

মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়ার পর ২০১৭ সালের ৩১ মে ঢাকার মহানগর জজ আদালতে ১০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর বিচারও শুরু হয়েছিল।

এরপর আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত হয় এই বছরের ১৪ মে।

অষ্টম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে মামলার বাদী চকবাজার থানার এস আই জালাল উদ্দিন সাক্ষ্য দেন।
পরে সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালে গত ১০ জুন, ১৫ জুলাই, ১২ অগাস্ট সাক্ষ্য দেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা। তাদের মধ্যে কয়েকজনের সামনে মামলার তদন্ত কর্তা জব্দ তালিকা তৈরি করেছিলেন।
এ সাক্ষীরা হলেন মির্জা জহির আলী, এস এম ফিরোজ হোসেন, ফারুক হোসেন, সৈয়দ মাজেদ হোসেন, মো. সামির হোসেন, সৈয়দ সালেম আলী, মনির হোসেন ও নূর হোসেন।

মামলার নথিপত্রে দেখা যায়, তারা প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে মামলার ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন। কিন্তু কেউই মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে কোনো কিছু বলেননি।

এই কারণে আসামিদের আইনজীবী ফারুক আহাম্মাদ তাদের জেরাও করতে চাননি।

বাদী আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যেও কোনো আসামিকে শনাক্ত করেননি বলে জানান আইনজীবী ফারুক।

এ মামলায় জামিনে থাকা আসামিদের পক্ষ নিয়ে লড়া এই আইনজীবী বলেন, ”এ মামলায় আমার মোয়াক্কেলদের বিরুদ্ধে কেউ কোনো কিছু বলতে পারবে না। কেননা তারা বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত ছিলেন না। আর সিসিটিভিতেও আমার মোয়াক্কেলদের দেখা যায়নি।”

নথিপত্রে দেখা গেছে, বাদীও সাক্ষ্যে আসামিদের বিরুদ্ধে কিছু বলেননি। তবে তিনি এ হামলায় জঙ্গিরা জড়িত ছিল বলে উল্লেখ করেছেন।


মামলার অভিযোগপত্রে বাদী ও এসব সাক্ষীসহ মোট সাক্ষী রয়েছেন ৪৬ জন।

মামলায় অভিযুক্ত জেএমবির ১৩ সদস্যের মধ্যে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অভিযানের সময় সন্দেহভাজন তিন জঙ্গি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কথিত বন্দুকযুদ্ধে মারা যান।

এরমধ্যে পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলিতে নিহত আল বাণী ওরফে মাহফুজ ওরফে হোজ্জা ভাই জেএমবির সামরিক শাখার প্রধান ছিলেন বলে পুলিশের দাবি।

গ্রেপ্তারদের মধ্যে ওমর ফারুক ওরফে মানিক, শাহ জালাল, হাফেজ আহসান উল্লাহ মাহমুদ ও চাঁন মিয়া ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ থেকে ২৬ মের মধ্যে বিভিন্ন সময় জামিন পান। বাকি ছয় আসামি মাসুদ রানা, কবির হোসেন, আবু সাঈদ, মো. আরমান, জাহিদ হাসান ও রুবেল ইসলাম কারাগারে আছেন।

কারাগারে থাকা আসামিদের মধ্যে তিনজন ওই হামলায় দোষ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

Facebook Comments

" ভিডিও খবর " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ