Foto

স্পিডবোট থেকে গ্রেপ্তার সেই ব্যক্তি আইনজীবী


প্রচারপত্র বিলি করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন বরিশাল-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সারোয়ারের অনুসারী মশিউর রহমান। শিক্ষানবিশ আইনজীবী মশিউরকে বৃহস্পতিবার বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে বন্দর থানা-পুলিশ। এই মশিউর রহমান হলেন সেই ব্যক্তি, যাঁকে সাদা পোশাকে পুলিশ স্পিডবোট থেকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে—এমন একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।


মশিউর শিক্ষানবিশ আইনজীবী। তাঁর বাবার নাম ইউনুস আলী। বাড়ি পিরোজপুরের কাউখালী। বরিশাল পশ্চিম কাউনিয়া এলাকার হাজেরা খাতুন সড়কের ভাড়া বাড়িতে থাকতেন।

মজিবর রহমান সারোয়ার বরিশাল সদর থেকে চন্দ্রমোহন ইউনিয়নে স্পিডবোটে করে যাচ্ছিলেন প্রচারপত্র বিলি করতে। সাহেবের হাট এলাকায় তাঁদের একটি স্পিডবোট তাড়া করতে শুরু করে। একপর্যায়ে তাঁরা মজিবর রহমান সারওয়ারের স্পিডবোটটি থামতে বাধ্য করেন। সেখান থেকে একরকম চ্যাংদোলা করে মশিউর রহমানকে স্পিডবোটে উঠিয়ে হাতকড়া পরান।

মজিবর রহমান সারোয়ার প্রথম আলোকে বলেন, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পর থেকে সারাক্ষণ সাদা পোশাকে পুলিশ তাঁকে অনুসরণ করছে। তাঁর কর্মী সমর্থকদের বেশির ভাগকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেছে। অনেকে গা ঢাকা দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে ছিলেন শুধু মশিউর রহমান। শিক্ষানবিশ আইনজীবী মশিউরকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেল। তাঁর প্রশ্ন, এটা কোন ধরনের গণতন্ত্র।

গ্রেপ্তার করতে আসা লোকজন সাদা পোশাকে থাকায় ধারণা করা হচ্ছিল, তারা গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি)। এ বিষয়ে জানতে নগর পুলিশের মুখপাত্র নাসিরুদ্দীন মল্লিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তিনি জানান, গ্রেপ্তার করেছে বন্দর থানা-পুলিশ। তারাই কথা বলবে।

বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা কামালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মশিউরের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তিনি জেল হাজতে আছেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, মিছিল মিটিং নিয়ে ব্যস্ত থাকায় খোঁজ নিতে পারেননি। পরে জানাতে পারবেন। এরপর একাধিকবার তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

আদালত সূত্র জানিয়েছে, মশিউরের বিরুদ্ধে নেহালগঞ্জে ফেরি ভাঙচুর ও সরকারি সম্পদ ধ্বংসের অভিযোগ আনা হয়েছে।

Facebook Comments

" জাতীয় খবর " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ