Foto

স্টেট অব ইউনিয়ন ভাষণের আগে বিভক্তি উসকে দিলেন ট্রাম্প


স্টেট অব ইউনিয়ন ভাষণের আগে অভিবাসন নিয়ে দেশে নতুন করে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা শুরু করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাতে ট্রাম্পের এ ভাষণ দেওয়ার কথা। এ ভাষণে ট্রাম্প জাতীয় ঐক্যের ডাক দেবেন এবং এ বছর তাঁর কর্মপরিকল্পনার ফিরিস্তি দেবেন—এটাই দস্তুর। সে রীতি হয়তো ট্রাম্পও পালন করবেন। তবে ভাষণের আগেই এক টুইট বার্তায় মোটামুটি আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প।


গত রবিবার রাতে করা এই টুইটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ’মেক্সিকো হয়ে আমাদের দেশের দিকে এগিয়ে আসছে ক্যারাভান। সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে রিপাবলিকানদের অবশ্যই প্রস্তুত থাকতে হবে। ডেমোক্র্যাটরা কিছুই করেনি। যদি দেয়াল না ওঠে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। মানব, মাদক ও অপরাধী—সব ধরনের পাচার বন্ধ করতে হবে।’ এই টুইট থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে যায়, ট্রাম্প হয়তো তার আঘাত কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে দ্বিদলীয় বিভক্তি আরো গভীর করতে চাইছেন তিনি।

ট্রাম্পের এই টুইট কাকতালীয় নয়। ট্রাম্পের তৃণমূল পর্যায়ের ভোটব্যাংক এ ধরনের টুইট গ্রহণ করে। আর এই সমর্থন এখন ট্রাম্পের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দেয়াল নির্মাণ নিয়ে জেদাজেদির জেরে সরকারে যে অচলাবস্থার সূচনা হয় তাতে ট্রাম্পের পরাজয়ের পর ভোটারদের মধ্যে তার অনুমোদনের হার পড়ে যায়। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার ভূমিকাসংক্রান্ত বিষয়টিও ভোটারদের ওপর প্রভাব ফেলেছে। ট্রাম্প যদি ধরাবাঁধা ধাঁচের প্রেসিডেন্ট হতেন তাহলে এই পরিস্থিতির মধ্যে দাঁড়িয়ে ঐক্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাতেন তিনি। তবে ট্রাম্প ঠিক উল্টো পথে চলেছেন। রাজনৈতিকভাবে বিভক্তি বাড়ানোর চেষ্টা করছেন তিনি। অভিবাসনসহ সব বিষয়েই তাঁর সুর নরম হওয়ার কথা। ২০২০ সালের নির্বাচন নিশ্চিত করতে এখন তাঁর অর্থনৈতিক সাফল্য ও চাকরির বাজারের উন্নতি তুলে ধরার সময়। অভিবাসনের ইস্যু নিয়ে কথা বলার সময় এটি নয়। কারণ জনমত জরিপে দেখা গেছে, অর্ধেকেরও বেশি মানুষ এই দেয়াল নির্মাণকে সমর্থন করে না।

তবে ট্রাম্পের আচরণ সম্পর্কে আগে থেকেই কিছু বলা যায় না। স্টেট অব ইউনিয়ন ভাষণ দেওয়ার সুযোগ বছরে একবারই আসে। এই ৬০ বা ৭০ মিনিটের সময় সবাই কাজে লাগানোর চেষ্টা করে। ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসের এক সহকারী বলেন, এই ভাষণের মধ্য দিয়ে ট্রাম্প যুগ যুগ ধরে চলমান প্রথা ভাঙতে চান। এই সহকারী অবশ্য বিরোধীদের সেতুবন্ধ রচনা, পুরনো ক্ষততে মলম লাগানো, নতুন জোট তৈরি, সমাধান খোঁজা এবং আমেরিকান জনগণের জন্য অসাধারণ ভবিষ্যৎ উপহার দেওয়ার কথা বলা হবে বলেও আশ্বাস দেন। এ ছাড়া ট্রাম্পের আজকের ভাষণে স্থান পাবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য খাত, অবকাঠামো ও জাতীয় নিরাপত্তা। এ ছাড়া ভেনিজুয়েলা প্রসঙ্গ এবং উত্তর কোরিয়া নিয়েও কথা বলতে পারেন ট্রাম্প।

ভাষণ সম্পর্কে এসব আভাসের বাইরেও একটি আশঙ্কা রয়েছে। দেয়াল নির্মাণে অর্থ জোগাড়ের জন্য ট্রাম্প হয়তো জরুরি অবস্থা জারি করতে পারেন। গত শুক্রবার এমন ইঙ্গিতও দিয়েছেন ট্রাম্প, ’আমি এখুনি কিছু বলতে চাই না। তবে আপনারা স্টেট অব ইউনিয়নের ভাষণ শুনবেন তার পরই জানতে পারবেন।’

তবে তাঁর এ চেষ্টা সমর্থন করেন না অধিকাংশ আমেরিকান। সিএসবি পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, ৬৬ শতাংশ আমেরিকান জরুরি অবস্থা জারি করে দেয়াল নির্মাণের পক্ষপাতী নন। ৭৩ শতাংশ চান, ট্রাম্পের উচিত আলোচনা চালিয়ে যাওয়া।

Facebook Comments

" বিশ্ব সংবাদ " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ