Foto

সোনার মেয়ে স্বপ্নার চিকিৎসার দায়িত্ব নিচ্ছে এইমস, প্রকাশ রিপোর্টে


হেপ্টাথলন এমন একটা খেলা যাতে চোট আঘাত একেবারে স্বাভাবিক ব্যাপার। কারণ শরীরের ওপর দিকে খুব ধকল যায় এই খেলায়। জাকর্তা এশিয়ান গেমসে ইতিহাস গড়ে হেপ্টাথলনে সোনা জেতা স্বপ্না বর্মনের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে এল এইমস (অল ইন্ডিয়া মেডিক্যাল সাইন্সেস)। দেশের এক নম্বর চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান বাংলার সোনার মেয়ে স্বপ্না-র সমস্ত রকম চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার কথা চিঠি লিখে জানাল। এক সর্বভারতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছে জলপাইগুড়ির হেপ্টাথলিট স্বপ্নাকে সব রকম চিকিৎসার জন্য এইমসে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। চোট নিয়ে নেমেই এশিয়াডে সোনা জিতেেছেন সোনা।


তবে শোনা যাচ্ছে স্বপ্নার চোট সারাতে তাঁকে মুম্বইয়ে নিয়ে যাওয়া হতে পারে। কিন্তু ব্যয়বহুল এই চিকিৎসা নিয়ে চিন্তায় ছিল স্বপ্নার পরিবার। স্বপ্নার কোচ সুভাষ সরকার জানিয়েছিলেন, চোটের জন্য স্বপ্নার অপারেশনও হতে পারে। আসলে হেপ্টাথলন এমন একটা খেলা যাতে চোট আঘাত একেবারে স্বাভাবিক ব্যাপার। কারণ শরীরের ওপর দিকে খুব ধকল যায় এই খেলায়। আর তাই চিকিৎসার পিছনে অনেক খরচ হয়। তাই গ্রামের গরীব বাড়ি থেকে এশিয়ার হেপ্টাথলনের সিংহাসনে বসা স্বপ্নার চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে এগিয়ে এল এইমস। জাকার্তা এশিয়ান গেমসে দাঁতের যন্ত্রণা, পিঠের ব্যাথা ও হাঁটুর সমস্যা নিয়েই সোনা জিতেছিলেন স্বপ্না।

এইমসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, “দেশের গর্ব স্বপ্নাকে আমরা যাবতীয় চিকিৎসার জন্য এইমস-এ আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। ওর দাঁতের সংক্রমণ ও পিঠের সমস্যা রয়েছে। ও গোটা দেশের মুখে হাসি এনেছে। এবার এইমসের কর্তব্য হল কোনও কষ্ট ও যন্ত্রণা ছাড়াই স্বপ্নাকে সেই হাসি ফিরিয়ে দেওয়া। এইমসে দু হাজার ডাক্তার রয়েছেন। ও আমাদের এখানে সেরা চিকিৎসাটাই পাবে সেটা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার তাঁর নিজের ইভেন্টে 6026 পয়েন্ট তুলে এশিয়ান গেমসের হেপ্টাথলনে প্রথম ভারতীয় হিসেবে ইতিহাস গড়ে সোনা জেতেন স্বপ্না বর্মন।

সোনার মেয়ের সমস্যা ছিল প্রচুর। বাধা ছিল শারীরিক ও আর্থিক। তাঁর বাবা রিকশাচালক পঞ্চানন বর্মন বেশ কয়েকবছর ধরেই অসুস্থতার জন্য শয্যাশায়ী। তবু, কোনও প্রতিবন্ধকতাই বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি তাঁর কাছে।

2012 সাল থেকে সল্টলেকের সাইয়ের ট্রেনিং সেন্টার কমপ্লেক্সেই থাকেন জলপাইগুড়ির মেয়ে স্বপ্না। এখনও শহরে কোনও পাকাপাকি আস্তানা নেই তাঁর। স্বপ্নার পরবর্তী লক্ষ্য হল হেপ্টাথলনে তাঁর মোট স্কোরকে 6300-তে নিয়ে যাওয়া। স্বপ্নার পায়ে অপারেশন হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। তাঁর কেরিয়ারে এত বড় উত্থানের পিছনে তাঁর কোচ সুভাষ সরকারের বড় অবদান আছে।

সেই কথা মনে করেই স্বপ্না বলেন, সুভাষ স্যার না থাকলে এসব কিছুই হত না। চোটের ব্যথায় কাবু হয়ে আমি বারবার জলপাইগুড়িতে বাড়ি ফিরে যেতে চাইতাম। আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। সুভাষ স্যারই আমায় বারবার বলতেন বাড়ি ফিরে যাস না স্বপ্না। তোর দ্বারা হবে। লড়াই কর, পরিশ্রম কর। তুই পারবি। স্যারের সেই কথাগুলো এখন মনে পড়ে।

Facebook Comments

" অন্যান্য খেলা " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ