Foto

সালথায় দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ঘরবাড়ি ভাঙচুর


ফরিদপুরের সালথায় স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই দল গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০টি বাড়ি ঘর ভাঙচুর করা হয়েছে। আহত হয়েছে ৩০জন। পুলিশ প্রথমে কাঁদানে গ্যাসের শেল ও পরে শটগানের গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে ও আজ বুধবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ফুকরা গ্রামে দুই দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।


আহতদের নগরকান্দা স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ এ সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত থাকা সন্দেহে সাতজনকে আটক করেছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ফুকরা গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে হায়দার সিকদারের সঙ্গে একই গ্রামের কাউছার মাতুব্বারের বিরোধ চলে আসছিল। গতকাল রাত ৮টার দিকে ফুকরা বাজারে হায়দার সিকদারের সমর্থক লাল মিয়ার সঙ্গে কাউছার মাতুব্বারের সমর্থক রুহুল মোল্লার কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে লাল মিয়া আহত হয়। এই ঘটনার পর রাতেই উভয় দলের সমর্থকেরা দেশীয় অস্ত্র ঢাল, কাতরা, সড়কি, ভেলা ও ইটপাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে কাঁদানে গ্যাসের শেল ও গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরই জের ধরে আজ সকাল ৭টার দিকে উভয় দলের সমর্থকেরা আবার সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দুই ঘণ্টা ধরে চলা এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০টি বসতবাড়ি ভাঙচুর করে সংঘর্ষকারীরা। সংঘর্ষের খবর পেয়ে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাকছুদুল ইসলাম, ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (সালথা-নগরকান্দা) সার্কেল এফএম মহিউদ্দীন, সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হোসেন খানসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দেলোয়ার হোসেন খান বলেন, সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে দুই দফায় ২৪টি কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটানো হয় এবং শটগানের ৩২টি গুলি ছোড়া হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৭জনকে আটক করা হয়েছে। তবে দুপুর পর্যন্ত কোনো পক্ষই এ ব্যাপারে থানায় কোনো অভিযোগ দেয়নি। ওসি আরও বলেন, সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে ইটের আঘাতে চারজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

Facebook Comments

" জাতীয় খবর " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ