Foto

সরে দাঁড়ালেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী


গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে সংসদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আফরুজা বারী। তিনি এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। তাঁর প্রতীক ছিল আপেল।


আজ সোমবার দুপুরে আফরুজা বারী সুন্দরগঞ্জের বামনডাঙ্গা মাস্টারপাড়াস্থ নিজ বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তিনি মহাজোট প্রার্থীর লাঙ্গল প্রতীককে সমর্থন জানান।

আফরুজা বারী লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘লাঙ্গল প্রতীকের মহাজোটের প্রার্থী শামীম হায়দার পাটোয়ারীকে বিজয়ী করতে আমি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালাম। এ ছাড়া আগামী ৩০ ডিসেম্বর সংসদ নির্বাচনে এ আসনে মহাজোট প্রার্থীকে বিজয়ী করতে আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীদের প্রতি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।’

এ সময় সুন্দরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য দীপক কুমার, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল মেহেদী, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোক্তাদুল ইসলাম, উপজেলা জাতীয় শ্রমিক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গণেশ চন্দ্র শীল, উপজেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক উম্মে সালমা রহমান, ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল ইসলাম, কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এক প্রশ্নের জবাবে আফরুজা বারী বলেন, ‘নেত্রী আমাকে বলেছিলেন আসনটি উন্মুক্ত থাকবে। তাই মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলাম। পরে শামীম পাটোয়ারীকে মহাজোটের প্রার্থী দেওয়া হয়। তাই মহাজোটের কারণে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালাম। মহাজোটের প্রার্থীর জন্য কাজ করব।’

এ আসনে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনজুরুল ইসলাম লিটন সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন। তাঁর মৃত্যুর পর ২০১৭ সালের ২২ মার্চ অনুষ্ঠিত প্রথম দফার উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের গোলাম মোস্তফা আহম্মেদ সাংসদ নির্বাচিত হন। ওই বছরের ১৯ ডিসেম্বর গোলাম মোস্তফা সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। মোস্তফার মৃত্যুর পর চলতি বছরের ১৩ মার্চ দ্বিতীয় দফা উপনির্বাচনে জাতীয় পার্টির শামীম হায়দার পাটোয়ারী ৭৮ হাজার ৯২৬ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আফরুজা বারী। তিনি ৬৮ হাজার ৯১৩ ভোট পেয়েছিলেন। আফরুজা বারী নিহত সাংসদ মনজুরুল ইসলাম লিটনের বড় বোন ও আনন্দ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, এ আসনে মোট ১১ জন বৈধ প্রার্থী। আফরুজা বারী ও শামীম হায়দার ছাড়া অপর নয়জন হলেন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জামায়াতের মাজেদুর রহমান, হারিকেন প্রতীক নিয়ে মুসলিম লীগের গোলাম আহসান হাবীব মাসুদ, হাতপাখা প্রতীক নিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আশরাফুল ইসলাম খন্দকার, কবুতর প্রতীক নিয়ে গণতন্ত্রী পার্টির আবুল বাসার মো. শরীতুল্লাহ, মাছ প্রতীক নিয়ে গণফ্রন্টের শরিফুল ইসলাম, বটগাছ প্রতীক নিয়ে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের হাফিজুর রহমান সদ্দার, মই প্রতীক নিয়ে বাসদের গোলাম রব্বানী শাহ, মটরগাড়ি (কার) প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সেনা কর্মকর্তা কর্নেল (অব.) আবদুল কাদের খান এবং কুড়াল প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী এমদাদুল হক।

Facebook Comments

" রাজনীতি " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ