Foto

সব দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি


পুলিশ সপ্তাহের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে বেশ কিছু দাবি তুলে ধরেছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। প্রধানমন্ত্রী পুলিশ কর্মকর্তাদের সব দাবি গুরুত্ব দিয়ে শোনেন এবং বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে—আজীবন পেনশন সুবিধা, বিশেষ ভাতা, ক্রীড়া কমপ্লেক্স স্থাপন, আলাদা মেডিক্যাল কলেজ ও কোর ইত্যাদি। আজীবন পেনশনের বিষয়টি ‘সক্রিয়ভাবে বিবেচনায়’ রাখবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।


গতকাল সোমবার পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস অডিটরিয়ামে কল্যাণসভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দুপুর দেড়টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর সামনে দাবি উত্থাপন করেন পুলিশ সদস্যরা। সভায় পুলিশের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী।

কল্যাণসভায় উপস্থিত কয়েকজন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানান, সভায় পুলিশ সদস্যদের প্রতিটি দাবি মনোযোগ দিয়ে শোনেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি দাবিগুলো শুনে বাস্তবায়নের আশ্বাসও দেন। এর মধ্যে আজীবন পেনশনের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনায় রাখবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

কুড়িগ্রাম জেলায় কর্মরত পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মাহবুবুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর কাছে পুলিশ সদস্যদের জন্য আজীবন পেনশন ও রেশনের দাবি করেন, যাতে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরাও এ সুবিধা পেতে পারেন। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি তিনি সক্রিয়ভাবে বিবেচনায় রাখবেন।

সভার শুরুতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কনস্টেবল নাজমুন্নাহার প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাঁর দাবি তুলে ধরে বলেন, ক্রীড়াঙ্গনে পুলিশের অনেক সফলতা রয়েছে। কিন্তু পুলিশের কোনো ক্রীড়া কমপ্লেক্স নেই। তিনি একটি ক্রীড়া কমপ্লেক্স স্থাপনের দাবি জানান। প্রধানমন্ত্রী তাঁর দাবি মেনে নিয়ে ক্রীড়া কমপ্লেক্সের জন্য জমি দেখতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশনা দেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক সার্জেন্ট সিলভিয়া ফেরদৌস প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাঁর দাবি তুলে ধরে বলেন, বর্তমানে এক কাপ চা ১০ টাকা। কিন্তু পুলিশ সদস্যরা আগের সেই ২০ থেকে ২৫ টাকা ভাতাই পেয়ে থাকেন। ট্রাফিকরা বর্তমানে ২০১১ সালের বেতন স্কেল অনুযায়ী ৩০ শতাংশ ভাতা পেয়ে থাকেন। বর্তমান (২০১৫ সালের) বেতন স্কেল অনুযায়ী ভাতা দেওয়ার দাবি জানান সিলভিয়া। এ ছাড়া গ্রেডভিত্তিক ভাতা বৃদ্ধিরও দাবি জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী এই দাবিও বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।

ব্যক্তিগত যেসব মোটরসাইকেল সরকারি কাজে ব্যবহার করা হয়, সেগুলোর জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি করেন স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই-নিরস্ত্র) কামরুল আলম। প্রধানমন্ত্রী তাঁর এ দাবিও পূরণের আশ্বাস দেন।

গফরগাঁও থানার ওসি আব্দুল আহাদ খান প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাঁর দাবি তুলে ধরে বলেন, চাকরিরত অবস্থায় পুলিশ সদস্যরা মারা গেলে বর্তমানে পাঁচ লাখ টাকা পেয়ে থাকেন। গুরুতর আহত হলে পেয়ে থাকেন মাত্র এক লাখ টাকা। এটিকে আট লাখ ও চার লাখ টাকা করার দাবি জানান তিনি। আর দায়িত্বরত অবস্থায় বা অভিযানে গিয়ে মারা গেলে সে ক্ষেত্রে ১৫ লাখ ও আট লাখ টাকা দেওয়ারও দাবি জানান পরিদর্শক আব্দুল আহাদ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর এই দাবিও মেনে নেন।

Facebook Comments

" জাতীয় খবর " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ