Foto

সংলাপ নিয়ে আওয়ামী লীগে দুই কথা


রাজনৈতিক দলগুলোকে আবারও গণভবনে ডাকার খবর নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ধূম্রজাল কাটছেই না। দলটির শীর্ষ পর্যায়ের দুইজন মঙ্গলবারও এ বিষয়ে দুই রকম কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা বলেছেন ‘সংলাপ হবে’, আর দলের সাধারণ সম্পাদক প্রশ্ন করেছেন- ‘সংলাপ কেন হবে’।


আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরই রাজনৈতিক দলগুলোকে গণভবনে নির্বাচন পরবর্তী সংলাপে ডাকার খবর গত রোববার সাংবাদিকদের দিয়েছিলেন।

কিন্তু একদিন বাদে নিজের কথা উল্টে তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে সংলাপের কোনো বিষয় এখন নেই। কেবল শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে ডাকা হবে।

কাদের তার কথা পাল্টে ফেললেও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম মঙ্গলবার আবার সংলাপের কথাই বলেছেন।

নতুন মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার দায়িত্ব পাওয়া পাঁচজন ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে গিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচ টি ইমাম সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবার সহায়তা চান, সে কারণেই তিনি আবার একটি সংলাপ করবেন।

“প্রধানমন্ত্রী সকলের প্রধানমন্ত্রী। কাজেই অন্যান্য দল, তারা যদি মেনে নেন, আমার মনে হয়, নিশ্চয়ই মেনে নেবেন যে প্রধানমন্ত্রীকে সহায়তা তাদের করতে হবে। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী আবার বলেছেন, উনি আরেকটি সংলাপ করবেন।

“সেই সংলাপে সকল পার্টি যারা এর আগের সংলাপে অংশগ্রহণ করেছিলেন, তাদেরকেও উনি আমন্ত্রণ করেছেন।”

তবে বিএনপি পুনর্নির্বাচনের যে দাবি তুলেছে, তাকে অত্যন্ত অবাস্তব এবং হাস্যকর বলে উড়িয়ে দেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।

“বিএনপির তরফ থেকে যেটি বলা হচ্ছে, যে নতুন নির্বাচন, এটি তো সম্ভব না। পাঁচ বছর পরেই নির্বাচন হবে। অতএব এখন মেনে নিয়ে, বাস্তবতা মেনে নিয়ে সকলে যদি সহায়তা করেন, আমাদের দিক থেকে বলতে পারি, আমরা পাঁচজন অথবা আমাদের মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, অথবা সরকারে যারা আছেন, আমরা সকলে সকলের সহায়তা চাইব।

“প্রধানমন্ত্রী বললে আমরা অন্যদের সঙ্গে (বিরোধী রাজনৈতিক দল) কথাও বলব- আপনারা আসুন, সহায়তা করুন। বাংলাদেশ তো সকলের, দেশকে গড়ে তুলি।”

এইচ টি ইমামের বক্তব্যের আধা-ঘণ্টার ব্যবধানে মাইলখানেক দূরে ধানমণ্ডি ২৭ নম্বর রোডের হোয়াইট হলে মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় ওবায়দুল কাদের বলেন ভিন্ন কথা।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দাবি করেন, রোববার আওয়ামী লীগের যৌথসভায় সংলাপ শব্দটি তিনি উচ্চারণই করেননি।

“সংলাপ নিয়ে আমরা তো কিছু বলিনি। কেউ যদি মনগড়া খবর পরিবেশন করেন তাহলে তো কিছু করার নেই। আমি যে বক্তব্য রেখেছি তার অডিও ভিডিও ক্লিপ রয়েছে, সেখানে সংলাপের কোনো বিষয় নেই।

“প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে ঐক্যফ্রন্ট, যুক্তফ্রন্ট, বিএনপি, বাম গণতান্ত্রিক জোট, ইসলামী জোট সব মিলিয়ে মোট ৭৫টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ করেছিলেন। সেই দলগুলোর নেতৃবৃন্দকে আমাদের নেত্রী আবারও গণভবনে আমন্ত্রণ জানাতে চান শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য।”

এবার সংলাপ হবে না মন্তব্য করে কাদের বলেন, “এখানে সংলাপ নিয়ে ধূম্রজাল কোথা থেকে এল? আমি তো সংলাপ শব্দটি উচ্চারণ করিনি। বলা হয়েছে গণভবনে নেত্রী আমন্ত্রণ জানাবেন, শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন; একটু আপ্যায়নের ব্যবস্থাও থাকবে। এই ছিল আমাদের কথা। এখানে ধূম্রজাল কেন হবে, সংলাপ কেন হবে?”

নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে গিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, “প্রধানমন্ত্রী একবারও সংলাপের কথা বলেননি। আমি বলেছি, তিনি আমন্ত্রণ জানাবেন। আমি তো সংলাপের কথা বলিনি! কাজেই এ শব্দটি কোথা থেকে এল আমি জানি না।”

Facebook Comments

" রাজনীতি " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ