Foto

শ্রীলঙ্কায় হামলার সময়ই হোতা হাশিম নিহত: সিরিসেনা


শ্রীলঙ্কায় ইস্টার সানডেতে ভয়াবহ বোমা হামলার প্রধান সন্দেহভাজন জাহরান হাশিম ঘটনার দিনই নিহত হয়েছেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট এই তথ্যের সত্যতা আজ শুক্রবার নিশ্চিত করেছেন। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়।


উগ্রপন্থী ইসলামি নেতা জাহরান হাশিম গত রোববারের হামলায় মুখ্য ভূমিকা পালন করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। হামলার পর তাঁকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল শ্রীলঙ্কার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা আজ সাংবাদিকদের বলেন, দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাঁকে জানিয়েছে, ইস্টার সানডেতে কলম্বোর বিলাসবহুল শাংরি-লা হোটেলে হামলার সময় জাহরান হাশিম নিহত হন।

মাইথ্রিপালা সিরিসেনার ভাষ্য, স্থানীয় উগ্রপন্থী ইসলামি গোষ্ঠী ন্যাশনাল তৌহিদ জামায়াতের (এনটিজে) নেতা ছিলেন জাহরান হাশিম।

শ্রীলঙ্কায় রোববার একাধিক হামলার পর মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) দায় স্বীকার করে একটি ভিডিও প্রকাশ করে। ভিডিওতে একজনের মুখ খোলা ছিল। তিনি হাশিম বলে ধারণা করা হয়। তিনি দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন।

হামলার পর হাশিমের অবস্থান সম্পর্কে কিছু জানাতে পারেনি শ্রীলঙ্কার কর্তৃপক্ষ। কিন্তু আজ দেশটির প্রেসিডেন্ট জানালেন, ঘটনার দিন হামলার সময় হাশিম নিহত হয়েছেন।

শাংরি-লা হোটেলে হামলায় হাশিমের ভূমিকা কী ছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট করেননি শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট।

হামলার আগে শ্রীলঙ্কাতে হাশিম প্রায় অচেনা ব্যক্তি ছিলেন। হামলার পরই তিনি আলোচনায় আসেন।

ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাশিমের হাজার হাজার অনুসারী থাকার বিষয়টি লক্ষ করা যায়। এই মাধ্যমগুলোতে তিনি ধর্মীয় বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য প্রকাশ করতেন।

স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, হাশিম ২০১৪ সালে কাত্তানকুদিতে এনটিজে প্রতিষ্ঠা করেন।

শ্রীলঙ্কার মুসলিম কাউন্সিলের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিলমি আহমেদ জানান, হাশিম সম্পর্কে তিন বছর আগে স্থানীয় প্রশাসনকে জানিয়েছিলেন তিনি।

হিলমি আহমেদ বলেন, মোহাম্মদ জাহরান ও মৌলভি হাশিম নামেও হাশিম পরিচিত ছিলেন। তাঁর বয়স প্রায় ৪০ বছর। তিনি বাত্তিকোলার বাসিন্দা।

হিলমি আহমেদ বলেন, মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হাশিম। একসময় পড়াশোনা ছেড়েছিলেন তিনি। কাত্তানকুদির একটি ইসলামি কলেজে পড়তেন তিনি।

শ্রীলঙ্কায় ইস্টার সানডের দিন গির্জা, হোটেলসহ অন্তত আটটি স্থানে বোমা হামলায় নিহত হন ২৫৩ জন। আহত পাঁচ শতাধিক।

 

Facebook Comments

" বিশ্ব সংবাদ " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ