Foto

শিক্ষাখাতে বরাদ্দ ব্যয় নয় এটা বিনিয়োগ: প্রধানমন্ত্রী


শিক্ষা ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী করতে চাই–শিক্ষাখাতে বরাদ্দ সরকারের ব্যয় নয় এটা বিনিয়োগ বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের নবনির্মিতি ভবন ৭ মার্চ ভাষণ হলের উদ্বোধন করে এ কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার জন্য যা খরচ করা হয় সেটাকে কখনোই খরচ হিসেবে মনে করি না। এটাকে আমি বিনিয়োগ মনে করি, ভবিষ্যতে দেশ গড়ার জন্য শিক্ষিত ও দক্ষ মানুষ নির্মাণের জন্য বিনিয়োগ। একারণে যারা শিক্ষা দেবেন ও শিক্ষা গ্রহণ করবে, তারাও যেন নিজেকে সেভাবেই গড়ে তোলেন।


শেখ হাসিনা আরো বলেন, স্বায়ত্তশাসিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের খরচে চলতে হয়, এটাই নিয়ম। কিন্তু আমাদের দেশে শতভাগ খরচই সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া হচ্ছে। তাই শিক্ষার্থীরা যেন নিজেদের দায়িত্ব ভুলে না যায়। কোনও উচ্ছৃঙ্খলতা কাম্য নয় বরং দেশ গড়ার জন্য তারা যেন নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তোলে।

পরিকল্পিতভাবে দেশকে এগিয়ে নেয়া হচ্ছে এ কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ক্ষমতা ভোগের জন্য নয় দায়িত্ব পালনের জন্য।

তিনি বলেন, ক্ষমতা আমার কাছে ভোগের বস্তু নয়, দায়িত্বের— জনগণের জন্য দায়িত্ব পালন করলে দেশ এগিয়ে যায় মানুষের কল্যাণ হয়।

শিক্ষার গুরুত্বের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, শিক্ষার ওপর আমরা সবথেকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকি। শিক্ষাকে বহুমুখীকরণ ও জনগোষ্ঠীর কর্মস্থানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বিশেষ করে উচ্চ শিক্ষা। আমরা শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট ফান্ড করেছি যার মাধ্যমে উচ্চ শিক্ষা পর্যায়েও বৃত্তির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তি ব্যবহার করে আধুনিক জ্ঞানসম্পন্ন জাতি গড়ে তুলতে চাই। বিজ্ঞান পড়ার দিকে ছেলেমেয়েদের ঝোঁক বাড়ানোর জন্য ১২টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় করার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নামটি ঠিক করা হয়েছে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান শিক্ষায় আগ্রহী করে তোলার জন্য। এছাড়াও মেডিক্যাল কলেজসহ বিভিন্ন জেলায় আরও বিশ্ববিদ্যালয় করা হয়েছে। শিক্ষাকে বহুমুখী করা ও বহুমুখী গবেষণার জন্য সরকার প্রতিবারই আলাদা বরাদ্দ রাখছে।

জাতির গঠনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৫২ সালের মাতৃভাষার সংগ্রাম থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, সর্বক্ষেত্রেই অগ্রগণ্য ভূমিকা রেখেছে। সেকারণেই এই বিশ্ববিদ্যালয় আলাদা গুরুত্ব বহন করে। ছয় দফা আন্দোলন থেকে শুরু করে যত সংগ্রাম আন্দোলন হয়েছে, সব আন্দোলনের সূতিকাগার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। স্বাধীনতার প্রতিটি আন্দোলনে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা অনেক।

এ সময় তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতাবিরোধীদের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করাই ছিল বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড।

বঙ্গবন্ধু ও ৭ মার্চ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ৭ মার্চের সঙ্গে আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য জড়িত, ৭ মার্চের ভাষণ জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের দিকনির্দেশনা দিয়েছে এবং সেই ভাষণ আজ বিশ্ব ঐতিহ্যে স্থান পেয়েছে। বাংলাদেশ নামক একটি রাষ্ট্র গঠন করা এবং দেশকে উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই ছিল জাতির পিতার জীবনের লক্ষ্য। আজকে বাংলাদেশের যতটুকু অর্জন তা জাতির পিতার অবদান। স্বাধীনতার পর তিনি মাত্র সাড়ে তিন বছর ছিলেন। এই সময়ের মধ্যেই কীভাবে জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন সেসব পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। স্থল সীমান্ত চুক্তি থেকে সমুদ্রের সীমারেখা- সবকিছু নিয়েই পরিকল্পনা করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। আজকে বাংলাদেশে যে উন্নয়ন হচ্ছে তার ভিত্তি রচনা করে গিয়েছেন তিনি।

Facebook Comments

" টিভি সংবাদ " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ