Foto

লঞ্চের ধাক্বায় নৌকা ডুবে একই পরিবারের নিখোঁজ ৬


রাজধানীর সদরঘাটে বুড়িগঙ্গা নদীতে লঞ্চের ধাক্কায় নৌকা ডুবে একই পরিবারের ছয়জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ পরিবারটির মধ্যে ছয় মাস থেকে আট বছর বয়সী তিন শিশু রয়েছে। লঞ্চের পাখার আঘাতে ওই পরিবারের সদস্য শাহজালালের। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আজ শুক্রবার সকাল সোয়া নয়টা পর্যন্ত কাউকে উদ্ধারের তথ্য পাওয়া যায়নি।


প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পোশাকশিল্প শ্রমিক শাহজালাল মিয়া (৩৮) তাঁর স্ত্রী, দুই মেয়ে, ভাগনি, ভাগনি জামাই ও ভাগনির ছয় মাস বয়সী শিশুসন্তান নিয়ে কেরানীগঞ্জের কালীগঞ্জ থেকে নৌকায় করে রওনা দিয়েছিলেন। সদরঘাটে কাছাকাছি পৌঁছালে সুরভি-৭ নামের একটি লঞ্চের ধাক্কায় নৌকাটি ডুবে যায়।

এতে নিখোঁজ হন শাহজালালের স্ত্রী সাহিদা বেগম (৩২), দুই মেয়ে মিম (৮) ও মাহী (৬), শাহজালালের ভাগনি জামসিদা বেগম (২০), ভাগনি জামাই দেলোয়ার হোসেন (২৮) ও তাঁদের ছয় মাস বয়সী সন্তান জুনায়েদ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার সময় লঞ্চের পেছনে থাকা পাখার আঘাতে শাহজালালের দুই পা বিচ্ছিন্ন হয়। পাশেই থাকা নৌ পুলিশের একটি টহলদল শাহজালালকে উদ্ধার করে মিটফোর্ড হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। সেখান থেকে তাঁকে অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে (পঙ্গু হাসপাতাল) ভর্তি করা হয়। নৌকার মাঝি সাঁতরে পাড়ে উঠতে সক্ষম হন।

সদরঘাট নৌ থানার উপপরিদর্শক শহিদুল ইসলাম জানান, রাত থেকে উদ্ধার অভিযান চলছে। তবে এখন পর্যন্ত নিখোঁজ কাউকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

শাহজালালের শ্বশুর আবদুর রশিদ প্রথম আলোকে জানান, রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনি দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ছুটে আসেন। তাঁর জামাতা শাহজালাল কেরানীগঞ্জে পরিবার নিয়ে থাকতেন। সেখান থেকে তাঁরা গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের বজেশ্বরের উদ্দেশে রওনা দেন। শাহজালাল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। মেয়ে–নাতনিসহ অন্যদের খোঁজে তিনি রাত থেকে অপেক্ষা করছেন। এখন পর্যন্ত কেউ উদ্ধার হয়নি। আবদুর রশিদ আহাজারি করে বলছিলেন, ’একজনের লাশও যদি পাইতাম, মনটায় শান্তি পাইতাম।’

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ঢাকা জোন-৩–এর সহকারী পরিচালক মোস্তফা মহিউদ্দিন জানান, নৌকাটিতে সাতজন যাত্রী ও একজন মাঝি ছিলেন। সাতজনের মধ্যে একজনকে দুই পা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি ছয় যাত্রী নিখোঁজ। তাঁরা সবাই একই পরিবারের সদস্য। লঞ্চের পেছন দিকের সঙ্গে নৌকাটির ধাক্কা লাগে বলে তিনি জানান।

সদরঘাট নৌ-থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রাজ্জাক জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। সেখান থেকে শাহজালালকে তারা উদ্ধার করে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে চেষ্টা করছেন ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি, নৌপুলিশ ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) সদস্যরা।

Facebook Comments

" জাতীয় খবর " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ