Foto

লঞ্চের ধাক্কায় নৌকাডুবি: নিখোঁজ ভাইবোনের লাশ উদ্ধার


রাজধানীর সদরঘাটে লঞ্চের ধাক্কায় নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ ভাইবোনের শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার বেলা ১২টার পর ১ নম্বর পন্টুনের কাছাকাছি এলাকা থেকে শিশু দুটির লাশ উদ্ধার করেন নৌবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা।


মৃত শিশু দুটির মধ্যে ১২ বছর বয়সী ভাইটির নাম মেশকাত। আর তার বোন নুসরাতের বয়স ৫ বছর। তাদের বাবা বাবুল ফরাজী কেরানীগঞ্জ এলাকায় ব্যবসা করেন। তাদের গ্রামের বাড়ি বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার উত্তমপুর গ্রামে।

সদরঘাট নৌ থানার ওসি মো. রেজাউল লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ১ নম্বর পন্টুন বরাবর নদী থেকে প্রথমে মেশকাতের লাশ উদ্ধার করেন নৌবাহিনীর ডুবুরিরা। কিছুক্ষণ পর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা কাছাকাছি এলাকায় নদী থেকে নুসরাতের লাশ উদ্ধার করেন।

এর আগে শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে সদরঘাটের ১ নম্বর পন্টুন বরাবর মাঝ নদীতে লঞ্চের ধাক্কায় নৌকাডুবির ওই দুর্ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, মায়ের সঙ্গে মেশকাতরা বরিশালে গ্রামের বাড়ি গিয়েছিল বেড়াতে। রাতের লঞ্চে বরিশাল থেকে মামা শামীম হাওলাদারের সঙ্গে ঢাকায় ফেরে শিশু দুটি।

ভোরে ঢাকা সদরঘাটে পৌঁছানোর পর নৌকায় করে কেরানীগঞ্জের বাসায় ফেরার পথে তারা দুর্ঘটনায় পড়ে।

শামীম হাওলাদার জানান, তার বোন জ্যোৎস্না, তাদের তিন সন্তান মেশকাত, নুসরাত ও এক বছর বয়সী নুসাইবা ছিল ওই নৌকায়। মাঝ নদীতে এমভি পুবালী-৫ লঞ্চের ধাক্কায় নৌকাটি ডুবে যায়।

তিনি বলেন, নুসাইবা ছিল আমার কোলে। ধাক্কা লাগার পর দেখলাম আমরা লঞ্চের নিচে, পানির মধ্যে। কোনো রকমে সাঁতরে বের হই। জ্যোৎস্না বের হয়। কিন্তু মেশকাত আর নুসরাতকে পাওয়া গেল না। খবর পেয়ে মেশকাতদের বাবা বাবুল ফরাজী কেরানীগঞ্জ থেকে সদরঘাটে ছুটে আসেন। পুলিশ ও ঘাটে থাকা নৌকাগুলো তাৎক্ষণিকভাবে খোঁজাখুঁজি শুরু করে।

পরে ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনীর ডুবুরিরা নদীতে নেমে তল্লাশি শুরু করেন। কোস্টগার্ড ও আইডব্লিউটিএর উদ্ধারকর্মীরাও তল্লাশি অভিযানে অংশ নেন।

বিআইডব্লিউটিএর পরিবহন পরিদর্শক মো. সেলিম বলেন, পুবালী লঞ্চটি সদরঘাটে যাত্রী নামিয়ে কেরানীগঞ্জের দিকে যাচ্ছিল। নৌকাটি লঞ্চের পেছন দিয়ে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনা ঘটে। মাঝি দেখেশুনে চালালে এ দুর্ঘটনা হতো না।

Facebook Comments

" জাতীয় খবর " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ