Foto

লক্ষ্মীপুরে পুলিশ ও যুবলীগ সংঘর্ষ


লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের ভেতরে পুলিশের সঙ্গে যুবলীগের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশের ৪ সদস্যসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। ৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার দুপুরে ওই হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।


পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন যুবলীগের স্থানীয় কর্মী দেলোয়ার হোসেনের ওপর হামলার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। এতে শহরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বেলা একটার দিকে শহরের তমিজ মার্কেটে জেলা যুবলীগের কার্যালয় ঘেরাও করে পুলিশ। এ সময় দলীয় নেতা-কর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান।

পুলিশ ও যুবলীগ সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার লাহারকান্দি ইউনিয়নের আঠিয়াতলী গ্রামের দেলোয়ার হোসেন আওয়ামী লীগের স্থানীয় এক নেতাকে হত্যাচেষ্টার মামলায় জামিনে মুক্তি পেয়ে গতকাল মঙ্গলবার কারাগার থেকে এলাকায় ফেরেন। বুধবার সকালে তিনি একটি ছুরি নিয়ে ওই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমানকে আক্রমণ করেন। পরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা তাঁকে মারধর করে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত দেলোয়ার হোসেন ও অপর আরেকজনকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। খবর পেয়ে আহত দেলোয়ারকে দেখতে কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে জেলা যুবলীগের সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম সালাহ উদ্দিন টিপু হাসপাতালে যান। এ সময় টিপুর সঙ্গে থাকা লোকজন দেলোয়ারকে মারধর করেন। এতে বাধা দিতে গেলে তাঁরা পুলিশের ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে যুবলীগের নেতা-কর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

আহত ব্যক্তিরা হলেন সদর থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল আলিম, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) গিয়াস উদ্দিন, কনস্টেবল নয়ন পাল, মেহেদী হাসান ও সাংবাদিক মীর ফরহাদ হোসেন সুমন। আহত অন্যদের পরিচয় প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি। তবে পুলিশের আহত সদস্যরা সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

এই ঘটনায় পুলিশ হাসপাতাল এলাকা থেকে যুবলীগ নেতা-কর্মীদের ১০টি মোটরসাইকেল জব্দ করে নিয়ে গেছে। ঘটনাস্থল থেকে সদর (পশ্চিম) উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবুল হক মাহবুব, সদর (পূর্ব) যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক রূপম হাওলাদার, যুবলীগের নেতা সাইমুন, ছাত্রলীগের নেতা আসিক আহমেদ ও মো. রনিকে আটক করেছে পুলিশ।

সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আনোয়ার হোসেন বলেন, আহত আওয়ামী লীগের নেতা আবদুর রহমানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আর দেলোয়ার হোসেন পুলিশ পাহারায় সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্ল্যাহ আল মামুন বলেন, যুবলীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ভুল-বোঝাবুঝি হয়েছে। সমঝোতার চেষ্টা চলছে।

লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লোকমান হোসেন বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন একজনের ওপর হামলার চেষ্টা করে একটি গ্রুপ। এ সময় বাধা দিলে তারা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ এলোপাতাড়ি লাঠিপেটা করে ছয়জনকে আটক করে।

Facebook Comments

" জাতীয় খবর " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ