Foto

রোহিঙ্গা ইস্যুতে রাজনৈতিক সংলাপের বিকল্প নেই


রোহিঙ্গা ইস্যুতে রাজনৈতিক সংলাপের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক এক সম্মেলনের বক্তারা। শনিবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে দুদিনব্যাপী 'মিয়ানমারের বর্বরতার জন্যে দায়ীদের চিহ্নিত এবং রোহিঙ্গা মুসলমানদের নিরাপত্তা' শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলন শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ মন্তব্য করেন তারা।


তারা বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে রাজনৈতিক সংলাপের বিকল্প নেই। আর এ সংলাপ ৫৭ দেশের সমন্বয়ে গঠিত ওআইসির মাধ্যমেও ফলপ্রসূ হবে না। এটি করতে হবে বাংলাদেশকে।

প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে ’ওয়ার্ল্ড রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশন’। সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন ’ফ্রি রোহিঙ্গা কোয়ালিশন’র সমন্বয়কারী এবং আরকান রোহিঙ্গা ন্যাশনাল অর্গানাইজেশনের পরিচালক রাজিয়া সুলতানা, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে কর্মরত সংগঠনের নেত্রী ইয়াসমীন উল্লাহ, আরকান ইন্সটিটিউট ফর পীচ এ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের পরিচালক মোং মোং, যুক্তরাজ্যস্থ বার্মিজ কোয়ালিশনের প্রেসিডেন্ট টং কিং, ক্যালিফোর্নিয়া থেকে আসা রোহিঙ্গা মুসলমান মো: নূর প্রমুখ।

সুলতানা রাজিয়া বলেন, বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য আমরা সব সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীসহ ১৮ কোটি মানুষের কাছে কৃতজ্ঞ। তবে আমরা আশা করছি, শিবিরে অবস্থানকারি শিশু-কিশোরেরা যাতে শিক্ষার সুযোগ পায়। যুবক-যুবতীরা যাতে শরীর চর্চার সুযোগ পায়। কারণ, নিজ বসতভিটায় ফেরার জন্যে প্রয়োজনে যাতে রুখে দাঁড়ানোর কথা ভাবতে পারে।

সুলতানা রাজিয়া বলেন, ’আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অনেকেই সোচ্চার রয়েছেন। অনেকে সাহায্য-সহায়তার হাত প্রসারিত করেছে। কিন্তু তা সমস্যার সমাধানে যথেষ্ঠ নয়। এজন্যে কার্যকর ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে বাংলাদেশকে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে রাজনৈতিক সংলাপের বিকল্প নেই।’

মো. নূর ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ’চীন ও ভারতের স্বার্থের দ্বন্দ্বের ভিকটিম হয়েছি রোহিঙ্গারা। এই দ্বন্দ্বের স্থায়ী সমাধানের জন্যে বাংলাদেশকে আরো জোরালো ভূমিকায় অবতীর্ণ হবার বিকল্প নেই। রাজনৈতিক সংলাপের আয়োজন করতে হবে বাংলাদেশকে। জাতিসংঘে দেনদরবার চলছে, ওআইসির ৫৭টি সদস্য রাষ্ট্রই সোচ্চার রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যসহ প্রভাবশালী অনেক রাষ্ট্র মিয়ানমারের বর্বরতার বিপক্ষে। তবুও চরম বাস্তবতা হচ্ছে, এখনও রোহিঙ্গারা নির্যাতিত হচ্ছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ের সমন্বয় করেন নিউইয়র্কস্থ ওয়ার্ল্ড রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশনের প্রেসিডেন্ট মহিউদ্দিন মোহাম্মদ ইউসুফ। এ সময় তার সঙ্গে আরও ছিলেন এই সংস্থার কর্মকর্তা লুৎফর রহমান লাতু, মশিউর রহমান প্রমুখ।

৮ ও ৯ ফেব্রুয়ারি এই সেমিনার হয় নিউইয়র্কে বিশ্বখ্যাত কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে। এতে অন্তত ৩৫ জন বক্তা ছিলেন, যারা মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন ফোরামে কাজ করছেন। সকলেই একযোগে প্রায় অভিন্নভাবে সুপারিশ জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক মহলের কাছে, অবিলম্বে উদ্ভূত পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্যে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা মুসলমান নিধনে জড়িত মিয়ানমারের সামরিক জান্তাসহ সিভিল প্রশাসনকেও আন্তর্জাতিক আদালতে সোপর্দ করার প্রয়োজনীয়তা ব্যক্ত করা হয়েছে।

Facebook Comments

" প্রতিবেশী " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ