Foto

রেজা কিবরিয়ার ধানের শীষে নির্বাচন লজ্জার


আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেটের নির্বাচনী জনসভায় বলেছেন, আওয়ামী লীগ আমলের সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়াকে হত্যা করেছে বিএনপি। সেই বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন শাহ কিবরিয়ার ছেলে। প্রধানমন্ত্রী একে অত্যন্ত লজ্জার ও পরিতাপের বিষয় বলে উল্লেখ করেন।


সিলেটর আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আজ শনিবার বিকেলে আওয়ামী লীগ আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় দেওয়া ভাষণে শেখ হাসিনা এ মন্তব্য করেন। আজ বেলা পৌনে ১১টায় বাংলাদেশ বিমানের নিয়মিত ফ্লাইটে তিনি সিলেটে পৌঁছান। এরপর তিনি হজরত শাহজালাল (রহ.)–এর মাজার জিয়ারত করেন। পরে হজরত শাহপরান (রহ.) ও হজরত গাজী বোরহান উদ্দিনের (রহ.)–এর মাজার জিয়ারত করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রসঙ্গত হবিগঞ্জ-১ আসন থেকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়া। কিবরিয়া শেখ হাসিনার সরকারের প্রথম মেয়াদে (১৯৯৬-২০০১) ৫ বছর অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৫ সালে কিববিয়া গ্রেনেড হামলায় নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ডের জন্য আওয়ামী লীগ বিএনপিকেই দায়ী করে আসছে। আজকের জনসভায় শেখ হাসিনা বলেন, ‘একটি কথা না বললেই নয়। অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, হবিগঞ্জ-১-এ ধানের শীষ নিয়ে যিনি দাঁড়িয়েছেন, তাঁর পিতার (শাহ এ এম এস কিবরিয়া) হত্যাকারী ওই ধানের শীষ। বিএনপি শাহ কিবরিয়াকে হত্যা করেছে। সেই শাহ এম এস কিবরিয়ার ছেলে আজকে বিএনপির ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করে, এর চেয়ে লজ্জার আর কিছু থাকে না।’ এ ঘটনাকে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় উল্লেখ করেন তিনি। পরে তিনি নিজ দল ও মহাজোটের প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চান।

সুনামগঞ্জ-৪ আসনে মহাজোটের প্রার্থী জাতীয় পার্টির পীর হাবিবুর রহমানের মিসবাহর জন্য ভোট চাওয়ার একপর্যায়ে শেখ হাসিনা সিলেটবাসীর উদ্দেশে বলেন, ‘আপাতত লাঙ্গল মার্কায় ভোট দেন, এরপরে লাঙ্গল...সব নৌকায় নিয়ে আসব। কোনো চিন্তা নেই।’

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের হয়ে লড়ছে। দলটি মহাজোট থেকে ২৬টি আসন পেয়েছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যদি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে না থাকে, সেই বিষয় মাথায় রেখে জাতীয় পার্টির এককভাবে আরও ১৪৬ আসনে প্রার্থী দিয়েছে।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে ঢাকার গুলশানের জনসভায় ভাষণ দেন শেখ হাসিনা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে এটি ছিল রাজধানী ঢাকায় আওয়ামী লীগের প্রথম জনসভা, যেখানে প্রধানমন্ত্রী প্রথমবারের মতো যোগ দেন। আগামীকাল রোববার রংপুরের পীরগঞ্জ ও তারাগঞ্জে দলের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এর আগে ১২ ডিসেম্বর গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি তাঁর নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন।

Facebook Comments

" রাজনীতি " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ