Foto

রেকর্ড গড়ে তামিমের পর সাজঘরে মুশফিক


ফিফটি তুলে ফিরেছিলেন তামিম ইকবাল। সঙ্গী হারিয়ে বেশিক্ষণ ক্রিজে স্থায়ী হতে পারলেন মুশফিকুর রহিমও। তিনিও তামিমের পথ ধরে সাজঘরে ফিরলেন। ওশানে থমাসের দুর্দান্ত ডেলিভেরিতে উইকেটের পেছনে শাই হোপকে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন মিস্টার ডিপেন্ডেবল।


ক্যারিয়ারে ২০তম ফিফটি তুলে ফেরার আগে তামিমের সঙ্গে শতরানের জুটি গড়েন মুশফিক। এ সুবাদে একটি চূড়ায় ওঠে যান তারা। বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি জুটি গড়ার নজির স্থাপন করেন দুই ব্যাটিং স্তম্ভ।

তামিম-মুশফিকের এটি পঞ্চম শতরানের জুটি। শেষ পর্যন্ত ৮০ বলে ৫ চারে ৬২ রান করে ফেরেন মুশফিক। এর আগে চারটি সেঞ্চুরি জুটি নিয়ে এতদিন শীর্ষে ছিলেন সাকিব ও মুশফিক।

শেষ খবর পর্যন্ত ৩২ ওভার শেষে ৩ উইকেটে ১৫৩ রান করেছে বাংলাদেশ। সাকিব আল হাসান ৮ রান নিয়ে ক্রিজে আছেন। নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে তার সঙ্গে যোগ দিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

এদিকে সুখবর মিলেছে লিটনকে নিয়ে। তার সবশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে জানা গেছে। স্টেডিয়ামের নিকটবর্তী হাসপাতালে এক্স রে করা হয়েছে। এর রিপোর্ট পজিটিভ। পায়ে কোনো চিড় ধরা পড়েনি। তবে সামান্য ব্যথা আছে। তা কমলে ফের ব্যাটিংয়ে নামতে পারেন তিনি।

মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ফিল্ডিং নেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক রোভম্যান পাওয়েল। ফলে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে লেগ স্টাস্পে দ্রুতগতির ইয়র্কার ছুড়েন ওশানে থমাস। বলটি ফ্লিক করতে যান লিটন দাস। তবে ব্যাটে-বলে হয়নি। সরাসরি আঘাত করে পেছনের পায়ের (ডান পা) গোড়ালিতে। বল চলে যায় লেগে। তা থেকে ১ রানও আসে। কিন্তু রান নিয়েই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। বোঝা যায় আঘাতটি তীব্র ছিল। ফিজিও এসে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। তাতেও লাভ হয়নি। পরে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়েন এ ওপেনার। সেখান থেকে সরাসরি হাসপাতালে।

সেই পরিস্থিতিতে ক্রিজে আসেন ইমরুল কায়েস। তবে সাম্প্রতিক ফর্মের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেননি তিনি। ওশানের অফস্টাম্পের বাইরের বল ব্যাটের কানায় লাগিয়ে উইকেটের পেছনে শাই হোপকে ক্যাচ দিয়ে আসেন। ফেরার আগে রানের খাতায় খুলতে পারেননি এ বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

পরে মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে প্রাথমিক ধাক্কা সামলে ওঠেন তামিম ইকবাল। ধীরে ধীরে দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন তারা। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে দারুণ মেলবন্ধন গড়ে ওঠে। দুজনই ব্যাটে ছোটান স্ট্রোকের ফুলঝুরি। উভয়ই ফিফটি তুলে প্রতিপক্ষ শিবিরে চোখ রাঙাতে থাকেন। এতে দুরন্ত গতিতে ছুটতে থাকে বাংলাদেশ।

তবে হঠাৎই খেই হারান তামিম। দেবেন্দ্র বিশুকে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনে কেমার রোচকে ক্যাচ দিয়ে আসেন তিনি। ফেরার আগে ৬৩ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কায় কাঁটায় ৫০ রান করেন ড্যাশিং ওপেনার। এটি তার ক্যারিয়ারের ২৬তম ফিফটি।

এ ম্যাচ দিয়ে অনন্য রেকর্ড ছুঁয়েছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। অধিনায়ক হিসেবে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে সর্বোচ্চসংখ্যক ম্যাচে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেয়ার নজির গড়েছেন তিনি। ৬৯ ম্যাচে টাইগারদের নেতৃত্ব দিয়ে এতদিন রেকর্ডটি ছিল সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশারের দখলে। তাকে ধরে ফেললেন ক্যাপ্টেন ফ্যান্টাস্টিক।

অবশ্য নিজের রেকর্ডের দিনে টস ভাগ্যকে পাশে পাননি মাশরাফি। টস জেতেন ক্যারিবীয় অধিনায়ক রোভম্যান পাওয়েল। প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। প্রথম ম্যাচে ৫ উইকেটে হেরে ব্যাকফুটে উইন্ডিজ। এ ম্যাচ জিতে সিরিজে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া সফরকারীরা। এ লক্ষ্যে একাদশে একটি পরিবর্তন আনে তারা। ওপেনার কাইরন পাওয়েলের স্থানে ঢোকায় চন্দ্রপল হেমরাজকে।

তবে উইনিং কম্বিনেশন ধরে রাখে বাংলাদেশ। গত ম্যাচে সেরা একাদশই থাকে। এ ম্যাচ দিয়ে অন্যরকম সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন টাইগার পঞ্চপাণ্ডব । একসঙ্গে ১০০তম ম্যাচ খেলছেন মাশরাফি, সাকিব, তামিম, মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ। এ ওয়ানডে জিতে সিরিজ জয় নিশ্চিত করে ম্যাচটি স্মরণীয় করে রাখতে চান তারা।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ একাদশ: রোভম্যান পাওয়েল (অধিনায়ক), মারলন স্যামুয়েলস, ড্যারেন ব্রাভো, দেবেন্দ্র বিশু, চন্দ্রপল হেমরাজ, রোস্টন চেজ, শাই হোপ, শিমরন হেটমায়ার, কেমার রোচ, কিমো পল ও ওশানে থমাস।

বাংলাদেশ একাদশ: তামিম ইকবাল, লিটন দাস, ইমরুল কায়েস, সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মেহেদী হাসান মিরাজ, মাশরাফি মুর্তজা (অধিনায়ক), রুবেল হোসেন ও মোস্তাফিজুর রহমান।

Facebook Comments

" ক্রিকেট নিউজ " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ