Foto

রুহুলের আইনজীবীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন


আদালত ও রাষ্ট্রপক্ষকে বিভ্রান্ত করে নোয়াখালীর সুবর্ণচরের গৃহবধূকে গণধর্ষণ মামলার আসামি মো. রুহুল আমিনের আইনজীবী আশেক-ই-রসুলের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন শুনানির জন্য আগামী বুধবার দিন নির্ধারণ করেছেন হাইকোর্ট।


রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন শুনানি নিয়ে সোমবার বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এদিন আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। পরে তিনি বলেন, ’আদালতকে বিভ্রান্ত করে আসামি রুহুল আমিনের জামিন করানো আইনজীবী আশেক-ই-রসুল দেশের বাইরে রয়েছেন। তাই আদালতকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগে ওই আইনজীবীর বিরুদ্ধে মৌখিকভাবে আমরা আদালতে আবেদন জানিয়েছি। তবে লিখিতভাবে এ আবেদন দাখিলের পর আগামী বুধবার এ আবেদন ওপর শুনানি হবে।’

গত ১৮ মার্চ ওই হাইকোর্ট বেঞ্চ রুহুল আমিনকে এক বছরের জামিন দেন। রাষ্ট্রপক্ষকে বিভ্রান্ত করে হাইকোর্ট থেকে জামিন নেওয়ার ওই আদেশের বিষয়টি জানাজানি হয় ২১ মার্চ। এরপর রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আপিল দায়েরের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। শনিবার ছুটির দিনে বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি এসএম কুদ্দুস জামান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষের এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রুহুল আমিনের জামিন বাতিলের আদেশ দেন। জামিন বাতিলের পাশাপাশি এ বিষয়ে পুনঃআদেশের (রি কল) জন্য সোমবার দিন ধার্য করেন আদালত।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ রায় বলেন, আসামিপক্ষের আইনজীবী আশিক-ই রাসুল অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসে মামলার যে কপি সরবরাহ করেন, তাতে হাইকোর্টের ১৪ নম্বর বেঞ্চ উল্লেখ না করে ১৭ নম্বর করেছিলেন। অথচ মামলা শুনানি হয়েছে ১৪ নম্বর বেঞ্চে। এখানে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। এ কারণে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের সময় বিরোধীতা করা যায়নি।

তিনি বলেন, এ ছাড়া মামলার প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে (এফআইআর) রুহুল আমিনের নাম ছিল না। এখানে তাকে হুকুমদাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ভোট দেয়াকে কেন্দ্র করে চার সন্তানের জননীর সঙ্গে কয়েক জনের কথাকাটাকাটি হয়। এর জেরে রুহুল আমিনের নির্দেশে ১০/১২ জন তাদের বাড়িতে গিয়ে স্বামী-সন্তানদের বেঁধে ওই নারীকে গণর্ধষণ ও মারধর করে বলে অভিযোগ।

এ ঘটনায় নির্যাতিতার স্বামী বাদী হয়ে উপজেলার ৫ নম্বর চরজুবলী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মো. রুহুল আমিনকে প্রধান করে ৯ জনের নামে মামলা করেন। মামলার পর গত ২ জানুয়ারি গভীর রাতে রুহুল আমিনকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় আটজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাদের রিমান্ডেও নেয়া হয়। তারা এখন নোয়াখালী কারাগারে। রুহুল আমিন ছাড়া কারাগারে থাকা অন্য আসামিরা হলেন সোহেল, বাদশা আলম, জসিম, বেচু, স্বপন, হাসান আলী বুলু ও ছালাউদ্দিন।

ওই নারীর স্বামী অভিযোগ করেন, গত ৩০ ডিসেম্বর পাংখারবাজার ১৪ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে গেলে ওই নারীকে হুমকি দেয় সন্ত্রাসীরা। ওইদিন রাত ১২টায় কয়েকজন লোক পুলিশ পরিচয় দিয়ে দরজা খুলতে বলে। পরে ১৫/১৬ জন সন্ত্রাসী ওই নারী ও তার স্বামীকে গালাগালি করে। এরপর অস্ত্র দেখিয়ে ওই নারীকে ঘরের বাইরে নিয়ে সবাই মিলে ধর্ষণ ও বেদম মারধর করে। ওই নারীকে গলা কেটে হত্যারও চেষ্টা করা হয়। পরদিন প্রতিবেশীদের সহায়তায় ওই নারীকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

রুহুল আমিন সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ছিলেন। ধর্ষণের আসামি হওয়ার পর তাকে বহিষ্কার করা হয় দল থেকে।

ওই গৃহবধূর স্বামীর করা মামলার এজাহারে মোট নয়জনকে আসামি করা হয়েছিল। রুহুল আমিনকে আসামির তালিকা থেকে বাদ দেয় পুলিশ। এ ঘটনায় চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুকের কাছে হতাশা প্রকাশ করেছিলেন ওই নারী। পরে রুহুল আমিনকেও আসামি হিসেবে গ্রেফতার করা হয় এবং অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা চরজব্বার থানার ওসি নিজাম উদ্দিনকে প্রত্যাহার করা হয়।

Facebook Comments

" আইন ও বিচার " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ