Foto

রাহুল : গান্ধী বংশের প্রথম অভাগা


ভারতের কট্টর হিন্দুত্ববাদী দল ক্ষমতাসীন বিজেপি ও নতুন ক্ষমতাকেন্দ্র নরেন্দ্র মোদির কাছে পরাজয়ের এক মাসের কম সময়ের মধ্যে দল থেকে সরে গেলেন রাহুল। বুধবার জনতার উদ্দেশে লেখা চিঠিতে লোকসভা নির্বাচনে ভরাডুবির সব দায় নিজের কাঁধে নিয়েছেন তিনি।


দলীয় প্রধানের পদ থেকে তার এই সরে যাওয়াকে তার রাজনৈতিক জীবনের সমাপ্তি ও গান্ধী পরিবারের জন্য প্রথম ব্যর্থতা বলে মনে করছেন অনেকেই। ঐতিহ্যগতভাবে গান্ধী পরিবারে জন্ম নেয়া মানে ভারতের প্রধানমন্ত্রিত্বের টিকিট নিশ্চিত হওয়া। কিন্তু ৪৯ বছর বয়সী রাহুলের ক্ষেত্রে সেই ম্যাজিক কাজ করেনি।

প্রপিতামহ, দাদি এবং বাবা- বংশপরম্পরায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু রাহুল এতটাই অভাগা- প্রধানমন্ত্রিত্ব দূরে থাক, দলের সভাপতি পদেও বেশিদিন টিকতে পারলেন না তিনি। বৃহস্পতিবার এএফপির বিশ্লেষণে গান্ধী বংশের প্রথম এ দুর্ভাগার চিত্র ফুটে উঠেছে। রাহুলের জন্ম ১৯৭০ সালে। সে সময় তার দাদি ইন্দিরা গান্ধী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর কন্যা ইন্দিরা গান্ধী।

১৯৮৪ সালে দেহরক্ষীর গুলিতে নিহত হন ইন্দিরা। উত্তরসূরি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী হন রাহুলের বাবা রাজীব গান্ধী। একানব্বইয়ে গুপ্তঘাতকের হাতে রাজীব গান্ধীও নিহত হন এবং কংগ্রেস কার্যত দিশাহীন হয়ে পড়ে। আটানব্বইয়ে শেষ পর্যন্ত উপায়ান্তর না দেখে সোনিয়া দলের হাল ধরেন এবং ২০১৭ পর্যন্ত তিনিই দায়িত্বে থাকেন। তার পরে আসেন রাহুল।

২০০৪ সালে রাহুল প্রথম সংসদ সদস্য হন লোকসভায়। ২০০৭ সালে ফাঁস হওয়া মার্কিন কূটনৈতিক নথিতে রাহুলকে ’একজন অন্তঃসারশূন্য’ বা খালি কলস বলে বর্ণনা করা হয়েছিল।

কিন্তু দুই বছর পরই ২০০৯ সালে ফাঁস হওয়া আরেক নথিতে তৎকালীন সিনিয়র মার্কিন কূটনীতিক পিটার বারলেই বলেন, ’রাহুল খুবই মার্জিত ও তার মধ্যে এমন কিছু গুণ রয়েছে, যা অহিংস হিসেবে পরিচিত মহাত্মা গান্ধীর মধ্যেই দেখা যেত।’ এরপর মা সোনিয়া গান্ধী দলের প্রধান থাকতেই ২০১৪ সালের নির্বাচনে প্রচারণার সব দায়িত্বই নিজের কাঁধে তুলে নিলেন। কিন্তু মোদি হাওয়ায় ভেসে গেল কংগ্রেস।

পাঁচ বছর পর এবারের লোকসভায় ধর্মনিরপেক্ষতা, বেকারত্ব, কৃষক অসন্তোষ, দারিদ্র্য প্রভৃতি ইস্যুতে রাহুল জনগণের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেন। গত বছরের শেষের দিকে হিন্দি বলয়ের তিনটি রাজ্যে কংগ্রেস ভালো ফল করলে রাহুলকে বিজেপির শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছিল। কিন্তু নির্বাচনে ওই রাজ্যগুলোতেও মুখ থুবড়ে পড়ে তার দল।

Facebook Comments

" ইন্ডিয়ান সংবাদ " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ