Foto

রশি আছে পোস্টার নেই


আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরুর পর থেকেই নির্বাচনী পোস্টারে ছেয়ে গিয়েছিল রাজধানীর অলিগলি। বিভিন্ন সড়কের ওপর রশিতে ঝুলছিল এসব পোস্টার। কিন্তু ঝিরিঝিরি বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে গেছে অধিকাংশ পোস্টার। গতকাল সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এ দৃশ্য দেখা গেছে।


প্রার্থীদের প্রচারকাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা বলছেন, পোস্টার নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এখন তাঁদের আবার নতুন করে পোস্টার লাগাতে হবে। পোস্টার নষ্ট হওয়ায় প্রার্থীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

গতকাল ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, লেমিনেটিং করা পোষ্টার ছাড়া বেশির ভাগ পোস্টারই নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক জায়গায় রশি ঝুলছে, কিন্তু পোস্টার নেই। কোথাও রশিতে ঝুলছে ছেঁড়া পোস্টার। কোথাও কোথাও রশিও ছিঁড়ে নিচে পড়ে আছে। বেশির ভাগ পোস্টারই নৌকার। কিছু কিছু জায়গায় লাঙল, কাস্তে, কুলা, কোদাল ও হাতপাখা প্রতীকের পোস্টার দেখা গেছে। আর হাতে গোনা দু-একটি আসনে ছিল ধানের শীষ প্রতীকের পোস্টার।

মোহাম্মদপুর, আদাবর ও শেরেবাংলা নগর থানার একাংশ নিয়ে ঢাকা-১৩ আসন। এই আসনের আওতাধীন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সাতটি ওয়ার্ডের প্রতিটি অলিগলি ও মূল রাস্তায় টাঙানো হয়েছিল নৌকার পোস্টার। গতকাল দু-একটি জায়গা ছাড়া সব এলাকারই পোস্টার ছিঁড়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। সাদেক খান সড়কে পলিথিনে মুড়িয়ে পোস্টার ঝুলিয়ে রাখতে দেখা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মোহাম্মদপুর এলাকার এক ভোটার কিছুটা মজা করে বলেন, ’এত দিন নৌকার পোস্টার ছাড়া অন্য কোনো প্রতীকের পোস্টার ছিল না বললেই চলে। অন্য কোনো প্রার্থীর পোস্টার লাগানোর মতো জায়গাও ছিল না। বৃষ্টিতে পোস্টার নষ্ট হয়ে যাওয়ায় লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরি হয়েছে। যাঁরা এত দিন পোস্টার লাগাতে পারেননি, তাঁরা নতুন করে পোস্টার লাগাতে পারবেন।’

জানা গেছে, প্রতিটি সাদা–কালো নির্বাচনী পোস্টারের জন্য দুই থেকে আড়াই টাকা খরচ হয়। ঢাকা মহানগরীর নির্বাচনী আসনগুলোতে ঠিক কী পরিমাণ পোস্টার টাঙানো হয়েছিল, তার সুনির্দিষ্ট কোনো হিসাব নেই। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এ পর্যন্ত ১৫টি নির্বাচনী আসনে টানানো পোস্টারের সংখ্যা কয়েক লাখ হবে।

জানতে চাইলে ঢাকা–১৩ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাদেক খানের নির্বাচনী প্রচারণার সঙ্গে যুক্ত ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সহ–প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আজিজুল হক বলেন, পুরো এলাকাতেই পোস্টার টাঙানো হয়েছিল। বৃষ্টিতে এসব পোস্টারের অধিকাংশই নষ্ট হয়ে গেছে। এখন আবার নতুন করে পোস্টার টাঙাতে হবে। এক হাজার পোস্টার ছাপাতে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা খরচ হয়েছে।

এখন পর্যন্ত কত পোস্টার ছাপা হয়েছে, বা বৃষ্টিতে কী পরিমাণ পোস্টার নষ্ট হয়েছে, তা জানাতে পারেননি আজিজুল হক।

গতকাল ঢাকা–৮ আসনের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অল্প কিছুসংখ্যক পোস্টার ছাড়া অধিকাংশই বৃষ্টিতে ছিঁড়ে গেছে। আসনটিতে নৌকা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। জানতে চাইলে তাঁর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা দীপঙ্কর দীপু বলেন, লেমিনেশন করা পোস্টারগুলো নষ্ট হয়নি। অন্যগুলো নষ্ট হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কথা বিবেচনা করে দুদিন পর আবার পোস্টার লাগানো হবে। তিনি জানান, প্রতিটি পোস্টার ছাপাতে ২ টাকা ২০ পয়সা খরচ হয়েছে।

Facebook Comments

" রাজনীতি " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ