Foto

রক্ষায় নেই কোনো উদ্যোগ


ছোট্ট দেশ বাংলাদেশ। কিন্তু প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য বিশ্বের অন্য সব দেশ থেকে দেশটিকে স্বাতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করে তুলেছে। বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্যতম বৈচিত্র্য হাওর। ছোট-বড় মিলে ৪টি হাওর আছে মৌলভীবাজারে।


ভাটির দেশ হিসেবে পরিচিত সুনামগঞ্জে হাওরের সংখ্যা সর্বাধিক ১৩৩টি। আর সিলেটে ৪৩টি, হবিগঞ্জে ৩৮টি, কিশোরগঞ্জে ১২২টি ও নেত্রকোনায় ৮০টি হাওর রয়েছে। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক মাছের বড় আধার এসব হাওর। দেশের প্রধান খাদ্যশস্য ধানেরও বড় আবাদ এই হাওরকে ঘিরে। কিন্তু মনুষ্য সৃষ্ট ভুলের জন্য ২০১৭ সালে হাওরে বিপর্যয় দেখা দেয়। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল হাইল হাওর- তিনদিকে টিলা ও বনভূমি একদিকে সমতল, মাঝে জলাশয়। এই বৈশিষ্ট্যের জন্য দেশের অন্য হাওর থেকে এই হাইল হাওরের রয়েছে আলাদা ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য। জলচর পাখি ও বিভিন্ন প্রজাতির জলজ উদ্ভিদ এই হাইল হাওরকে দিয়েছে এক ভিন্ন মাত্রা। এর বাইক্কা বিলে রয়েছে মাছের স্থায়ী অভয়াশ্রম। মাছের সঙ্গে এই অভয়াশ্রমে স্থায়ী আবাস গড়েছে হাজারো দেশীয় পাখি। আর শীত এলে যোগ দেয় পরিযায়ী পাখি। প্রাকৃতিক সম্পদ, জীব-বৈচিত্র্য ও জীবন-জীবিকার বিবেচনায় এই হাইল হাওরটি দেশের অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি জলাভূমি। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, গবেষক ও পরিবেশবিদদের কাছেও জ্ঞানের আধার হিসেবে বিবেচিত এই হাইল হাওর। সেই হাইল হাওরটি মনুষ্য সৃষ্ট ধ্বংসযজ্ঞ, আর প্রাকৃতিক কারণে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। আর এজন্য হাওরে মৎস্য, কৃষি, পরিবেশ ও ভূমি আইনের অকার্যকারিতা, অব্যবস্থাপনা আর অবহেলাকে দায়ী করছেন প্রকৃতিপ্রেমী ও বিশেষজ্ঞরা।

হাওরের জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণে ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ইকো সিস্টেম অ্যান্ড লাইভলিহুডের (ত্রেুল) দেওয়া তথ্যমতে, এ হাইল হাওরে রয়েছে ১৬০ প্রজাতির পাখি, ৯৬ প্রজাতির মাছ, ১০০ প্রজাতির জলজ উদ্ভিদ, ৫ প্রজাতির উভচর প্রাণী, ২৫ প্রজাতির সরীসৃপ। হাওরে মাছ ধরে জীবন নির্বাহ করে ৮০ শতাংশ মানুষ। পশুচারণ, পশুখাদ্য আহরণ, গৃহনির্মাণ সামগ্রী সংগ্রহ, খাদ্য ও ঔষধি শাকপাতার প্রয়োজনে হাওরের মানুষেরা এই হাওরের ওপরই নির্ভরশীল।

Facebook Comments

" আঞ্চলিক সংবাদ " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ