Foto

যৌক্তিক ঋণখেলাপিদের জন্য বিশেষ সুবিধা


দেশে গ্যাস-বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হলেও পর্যাপ্ত সরবরাহ না হওয়ায় অনেক শিল্পই রুগ্ন হয়ে যাচ্ছে। কোনো কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান ঋণখেলাপি হয়ে গেছে। সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত এ দায় উদ্যোক্তাকে বহন করতে হচ্ছে। প্রকারান্তরে, ইচ্ছেকৃত খেলাপিরা ব্যাংকের সঙ্গে যোগসাজশে নানা সুবিধা নিচ্ছে। এ অবস্থায় অর্থমন্ত্রণালয়ের নির্দেশে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ভালো-মন্দ গ্রাহক যাছাইয়ের কাজ শুরু করেছে। যারা যৌক্তিক কারণে খেলাপি হয়েছেন তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ব্যাংকিং খাত বর্তমানে তারল্য সংকটে ভুগছে। খেলাপি ঋণের পরিমাণ সর্বশেষ হিসাবে ৯৪ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এর সিংহভাগই শীর্ষ ঋণখেলাপিদের কাছে। এসব ঋণখেলাপিরা নানা সময়ে সুদ মওকুফসহ বিভিন্ন সুবিধা নিয়েছে। প্রভাব খাটিয়ে, ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে নানা ফন্দি এঁটে এরা ব্যাংকিং খাতের ওপর ঘাপটি মেরে বসে আছে। এধরনের খেলাপিরা আর কত সুবিধা পাবে— সে প্রশ্ন এখন সবমহলে।

তবে পরিবেশ পরিস্থিতির কারণে যারা ঋণখেলাপি হয়েছেন তাদের বিষয়টি দীর্ঘদিন ছিল উপেক্ষিত। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল যৌক্তিক ঋণখেলাপিদের বিষয়টি অনুধাবন করে তাদের জন্য প্রণোদনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যাতে করে ওসব প্রতিষ্ঠান চাঙ্গা হয়ে আবার উত্পাদনে যেতে পারে এবং অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে পারে। এধরনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে খেলাপি ঋণের পরিমাণ যেমন কমবে, তেমনি কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে বলে মত দিয়েছেন শিল্পমালিকরা। তাদের মতে, শিল্প, কল-কারখানায় প্রত্যাশিত হারে জ্বালানি সরবরাহ না পাওয়ায় উত্পাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পূর্ণ সক্ষমতা ব্যবহার করে পণ্য উত্পাদনে না যাওয়া এবং বিদ্যুতের আসা-যাওয়ার কারণে উত্পাদিত পণ্যের মানও নষ্ট হচ্ছে। এডিসন গ্রুপের সিনিয়র ডিরেক্টর মাকসুদুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, ঢাকার পাশেই আমাদের কারখানা। আশুলিয়া, সাভার এলাকায় নিয়মিত জ্বালানি সরবরাহের অভাব। কখন বিদ্যুত্ আসে, সে অপেক্ষায় থাকে কর্মীরা। উত্পাদন বাধাগ্রস্ত হলে ব্যবসা টিকবে কিভাবে?

সংশ্লিষ্টদের মতে, যারা অনিচ্ছাকৃতভাবে, পরিবেশ-পরিস্থিতির কারণে খেলাপি হয়েছেন তাদেরকে বিশেষ সুবিধা প্রদান সময়ের দাবি। তবে একথাও উঠেছে যে, যারা নানা সংকট সত্ত্বেও নিয়মিত ব্যাংকের কিস্তি পরিশোধ করেছেন তাদের জন্য কি কোনো প্রণোদনা নেই? তারা কি শুধু থ্যাংক ইউ প্রাপ্য। তাদের জন্য বরং অগ্রাধিকারভিত্তিতে কিছু সুবিধা দেওয়া আবশ্যক।

এ প্রসঙ্গে অর্থনীতিবিদ ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী বলেন, অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী সরল সুদ বাস্তবায়ন দ্রুতকরণ এবং যারা নিয়মিত কিস্তি দেবেন, তাদেরকে বছরে এক কিস্তির অর্থ মওকুফ করার বিধান করা যেতে পারে। ব্যাংক ঋণের সুদ নির্ধারণের ক্ষেত্রে অভিন্ন হার এবং আলাদা খাতভিত্তিক সুদ হার নির্ধারণ না করে সমহারে সিঙ্গেল ডিজিটে সরল সুদ ব্যবস্থা চালু করলে অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। উদ্যোক্তা অর্থনীতির বিকাশের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি ঋণ জালিয়াতির জন্য যেসব ব্যাংক কর্মকর্তা দায়ী তাদেরকেও বিচারের আওতায় আনতে হবে। সূত্রমতে, ব্যাংকের পরিচালক, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ যোগসাজশ করে ঋণ প্রদানের কারণেই ব্যাংকিং খাতের এই দশা হয়েছে। যদিও গুটিকয় মধ্যসারির কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই শুধু ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু পরিচালক বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বরাবরই রয়ে যাচ্ছেন জবাবদিহিতার বাইরে। অথচ তারাও দায় এড়াতে পারেন না। এদিকে, গত তিন বছরে ব্যাংকগুলোর সার্বিক ঋণ পরিস্থিতির তথ্য নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ভালো-মন্দ গ্রাহক যাছাই ছাড়াও ব্যাংকগুলোতে বিশেষ অডিট করা হবে। প্রাথমিকভাবে ১১টি ব্যাংকে বিশেষ অডিট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলো হচ্ছে—এনসিসি, শাহজালাল ইসলামী, ব্র্যাক, এবি, মিউচুয়াল ট্রাস্ট, সাউথইস্ট, মার্কেন্টাইল, ইস্টার্ন, ওয়ান, আলআরাফাহ ইসলামী ও রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের জনতা ব্যাংক।

Facebook Comments

" বিশ্ব অর্থনীতি " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ