Foto

যুক্তরাজ্যের পর চীনের বাজারে মেইটটুয়েন্টি সিরিজ


লন্ডনের পর চীনের বাজারে এলো বহুজাতিক কোম্পানি হুয়াওয়ের নতুন ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন ‘হুয়াওয়ে মেইট ২০’ সিরিজ। শুক্রবার সাংহাই ওরিয়েন্টাল স্পোর্টস সেন্টারে জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্মার্টফোনেটি বাজারজাত করার ঘোষণা দেন হুয়াওয়ে কনজুমার প্রোডাক্টস ডিভিশন এর সিইও রিচার্ড ইউ। বাংলাদেশের বাজারে শিগগরিই ‘হুয়াওয়ে মেইট ২০’ সিরিজের ফোন পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।


রিচার্ড ইউ জানান, ডিভাইসে সর্বশেষ সংস্করণের অ্যান্ড্রয়েড ৯ অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে।

মেইট টুয়েন্টিতে প্রসেসর হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির চিপ কিরিন ৯৮০। ৬.৫, ৬.৩ এবং ৭.২ ইঞ্চি- এ তিনটি আকারের ফুল ও এলইডি পর্দার ফোন পাওয়া যাবে।

মেইট টুয়েন্টি সিরিজের রম আর র‌্যামের চারটি ভিন্ন কনফিগারেশনের মধ্যে সর্বনিম্ম ৬ জিবি এবং রম ৫১২ জিবি।
ডিভাইসে রয়েছে ৪ হাজার ২০০ এমইএইচ ব্যাটারি। দ্রুত চার্জের জন্য রয়েছে তার এবং তারবিহীন সুপার চার্জের সুবিধা। এর সাথে রয়েছে চমকপ্রদ রিভার্স চার্জিং সিস্টেম। যার মাধ্যমে চার্জ ফুরিয়ে গেলে আরেকটি মেইট স্মার্টফোনের সাথে পাশাপাশি ধরেই চার্জ করা যাবে।
চার্জারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ফোনে জার্মানির টিইউভি সার্টিফাইড ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে।

পানি ও ধুলোবালি নিরোধক এ ফোনটিতে রয়েছে তারবিহীন প্রজেক্টর সুবিধা। ব্যবহার করা হয়েছে ল্যাপটপ লেভেল প্রসেসর, যা ব্যবহারকারীদের নেটবুক ব্যবহারের অভিজ্ঞতা দেবে।

মেইট টুয়েন্টি সিরিজের পেছনে রয়েছে তিনটি ক্যামেরা। এর মধ্যে একটি ক্যামেরা ৪০ মেগাপিক্সেলের। অন্য দুটি যথাক্রমে- ৮ মেগাপিক্সেলের টেলিফটো এবং ২০ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রা ওয়াইড অ্যাঙ্গেল লেন্স ক্যামেরা। সব মিলিয়ে ছবি তোলার ক্ষেত্রে ১৬ থেকে ২৭০ মিলিমিটার জুম লেন্সের সুবিধা পাওয়া যাবে ফোনটিতে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সুবিধা থাকা এ ডিভাইসের ক্যামেরা শুধু ছবি তোলার জন্যই নয়, বিভিন্ন তথ্য দিয়েও সহযোগিতা করবে। যেমন কোন খাবারে কি পরিমাণ ক্যালরি আছে তা জানিয়ে দেবে ফোনটি। কোন কিছুর ছবি তুলে সেটিকে ত্রিমাত্রিক (থ্রিডি) হিসাবে উপস্থাপন করা যাবে।
মেইট টুয়েন্টির ডিজাইনেও এসেছে পরিবর্তন। আগের স্মার্ট ফোনগুলোর তুলনায় বেড়েছে পর্দার আকার। বেশিরভাগ স্মার্টফোনের পেছনে ফিঙ্গার প্রিন্টের সুবিধা থাকলেও মেইট টুয়েন্টিতে সেটি ভেসে উঠবে সামনের পর্দাতেই। এর সাথে আছে ত্রিমাত্রিক চেহারা সনাক্তকরণ প্রযুক্তি এবং বন আইডি (ভয়েস রিকগনিশন), যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীর ভয়েসের সাহায্যে আনলক করা যাবে ফোনটি।
১৬ অক্টোবর থেকে ইউরোপের বাজারে আসা মেইট সিরিজের ফোনটির সর্বনিম্ন মূল্য ৭৯৯ ইউরো এবং সবচেয়ে দামি পোরশে ডিজাইনেমেইট টুয়েন্টি সর্বোচ্চ মূল্য ২০৯৫ ইউরো ।

বিশ্বের প্রায় ১৭০টির বেশি দেশে ও স্থানে হুয়াওয়ে সৃষ্টিশীল আইটি পণ্য, সেবা ও সল্যুশনস ব্যবহার হয়, যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ মানুষকে সেবা দিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র,জার্মানি সুইডেন, রাশিয়া, ভারত ও চীনে হুয়াওয়ের মোট ১৪টি গবেষণা ও উন্নয়ন (আরএন্ডডি) সেন্টার রয়েছে। হুয়াওয়ের তিনটি বিজনেস ইউনিটের মধ্যে হুয়াওয়ে কনজ্যুমার বিজি যারা কাজ করে স্মার্টফোন, পিসি, ট্যাবলেট, পরিধান যোগ্যডিভাইস এবং ক্লাউড সেবা নিয়ে।

Facebook Comments

" ব্যবসা ও বাণিজ্য " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ