Foto

মোদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে বসতে বললেন কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী


প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের সঙ্গে বসতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আহ্বান জানিয়েছেন কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি। ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পুলওয়ামায় এক আত্মঘাতী হামলায় দেশটির একটি আধাসামরিক বাহিনীর ৪৪ জওয়ান নিহত হওয়ার পর পরমাণু শক্তিধর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চলছে।


মেহবুবা মুফতি বলেন, ঘরোয়াভাবে এবং পাকিস্তানের সঙ্গে সংলাপ প্রক্রিয়ার জোরালো প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি আমি। যদি সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু না করা হয়, তবে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাবে বলে তিনি হুশিয়ারি করেন।-খবর রয়টার্সের।

ইতিমধ্যে ১৮ বিচ্ছিন্নতাবাদীকে হত্যার দাবি করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। অস্ত্র সমর্পণ না করলে সব বিদ্রোহীকে নির্মূল করার ঘোষণা দিয়েছে ভারত সরকার।

কাশ্মীরের সাবেক এ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিদ্রোহী ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে ভারতীয় সেনাবাহিনীর চলমান ধরপাকড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়বে।

নরেন্দ্র মোদির উগ্র হিন্দুত্ববাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সমর্থনে ২০১৪ সালের শুরু থেকে সেই বছরের জুন পর্যন্ত কাশ্মীরের মুখমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন মুফতি। পরে বিজেপি তার ওপর থেকে সমর্থন তুলে নেয়।

বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পাকিস্তানের সঙ্গে বসতে বারবার অস্বীকার জানিয়েছে ভারত। গত মাসে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়ার বালাকোট শহরের বাইরে বোমা ফেলে এসেছিল ভারতীয় বিমানবাহিনী।

পর দিন দুই দেশের মধ্যে আকাশযুদ্ধে এক ভারতীয় পাইলটকে গ্রেফতার করে পাকিস্তান। যদিও আটক পাইলট অভিনন্দন বর্তমানকে শান্তির নিদর্শন হিসেবে ভারতের কাছে ফেরত পাঠিয়েছিল পাকিস্তান।

মুফতি বলেন, কোনো আলোচনা নেই, কথা নেই- এই যুদ্ধংদেহী অবস্থার একটি খারাপ প্রভাব রয়েছে। পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের যে সম্পর্ক রয়েছে, জম্মুতে অবশ্যই তার প্রভাব পড়ছে। আর এই বৈরিতার সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হচ্ছি আমরা।

গত কয়েক সপ্তাহে কাশ্মীরের বহু বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাকে আটক করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি বিজেপির প্রধান বলেছেন, সরকার তাদের পরিষ্কারভাবে বলছে- যদি তারা ভারতে থাকতে চান, তাদের ভারতের ভাষায় কথা বলতে হবে, পাকিস্তানের ভাষায় নয়।

মেহবুবা মুফতির বাবাও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। তিনি বলেন, ভারতের কঠোর মনোভাবের কারণে ওপরে ওপরে কিছুটা শান্তি আসবে। গণতন্ত্রের ভেতরে ভিন্নমতের জায়গাটুকু যদি আপনি নষ্ট করে দেন, লোকজন মনে করবে, তাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। এতে আরও ভিন্নমত ও উত্তেজনা দেখা দেবে।

গত বছরের অন্তত ২৪৮ বিদ্রোহীকে হত্যা করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। গত এক দশকের যেটি সর্বোচ্চসংখ্যক।

Facebook Comments

" বিশ্ব সংবাদ " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ