Foto

মালামাল আনতে প্রয়োজন ১শ’ কোটি টাকা


রাজধানীর পূর্বাচলে স্থায়ী বাণিজ্য মেলা কেন্দ্র নির্মাণ কাজ চলছে। এর অংশ হিসেবে চীন থেকে মালামাল আনতে প্রয়োজন ১০০ কোটি টাকা। চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশ থেকে মালামাল, সরঞ্জাম, মেশিনারি আমদানি করতে সিডি ভ্যাট খাতে এ অর্থ ব্যয় করা হবে। বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ইমপ্লিমেন্টেশন এগ্রিমেন্ট বা বাস্তবায়ন চুক্তি অনুযায়ী এ অর্থ দিতে হচ্ছে সরকারকে।


এই অর্থ বরাদ্দ দিতে গত ৪ ডিসেম্বর পরিকল্পনা কমিশনকে চিঠি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এর আগে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত রফতানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (ইপিবি) গত ৮ নভেম্বর এই বরাদ্দের বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের বরাদ্দ চেয়েছে পাঠানো চিঠিতে স্বাক্ষরকারী বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সহকারী প্রধান ফজলে রাব্বি বুধবার যুগান্তরকে জানান, আমরা বরাদ্দ চেয়েছি। পরিকল্পনা কমিশন এখনও বরাদ্দ দেয়নি। তবে বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, মালামাল আমদানির চালান নম্বর ৩২ পর্যন্ত মোট ২৮টি চালানে আমদানিকৃত মালামালের ওপর আরোপিত মোট সিডি ভ্যাট ৫০ কোটি ৬৮ লাখ ৯৭ হাজার ৫৯ টাকা হয়েছে। এছাড়া প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজে মালামাল আমদানি অব্যাহত রয়েছে। তাই চলতি অর্থবছরের (২০১৮-১৯) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) সিডি ভ্যাট খাতে বরাদ্দকৃত ১০০ কোটি টাকা অবমুক্ত করা প্রয়োজন।

সূত্র জানায়, পূর্বাচলে স্থায়ী বাণিজ্য মেলা কেন্দ্র নির্মাণ কাজের মেয়াদ সর্বশেষ আরও দুই বছর বাড়ানো হয়েছে। এর সঙ্গে ব্যয় বেড়েছে প্রায় ১৭০ কোটি টাকা। ফলে ২০০৯ সালে নেয়া এ উদ্যোগটি বাস্তবায়নে সময়ে যাচ্ছে ১১ বছর। এজন্য সম্প্রতি ‘বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার নির্মাণ’ প্রকল্পটির প্রথম সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এ কেন্দ্রটি গত জুন মাসের মধ্যে নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। এটি বর্তমান সরকারের অন্যতম একটি প্রতিশ্রুতিও। কিন্তু সরকারের এ মেয়াদে সেটি আর সম্ভব হয়নি। কেননা গত এপ্রিল মাস পর্যন্ত বাণিজ্য মেলা কেন্দ্রটির ভৌত অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ২৩ শতাংশ। আর অর্থ ব্যয় হয়েছে ৪৯০ কোটি টাকা, যা অনুমোদিত প্রকল্প ব্যয়ের ৩৮ শতাংশ। এ পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে প্রকল্পটির সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়।
পরিকল্পনা কমিশনের দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানিয়েছিলেন, যথাসময়ে জমি না পাওয়া প্রকল্পটির বাস্তায়ন পিছিয়ে যায়। বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার ৪ নং সেক্টরের পূর্বাচল নিউ টাউন এলাকায় ৩৫ একর জমির ওপর এ প্রদর্শনী কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে প্রকল্পটির সংশোধনী প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশে বিশেষায়িত বাণিজ্যমেলা আয়োজন করার জন্য একটি স্থায়ী কেন্দ্র স্থাপন করা সম্ভব হবে। এতে করে ভোক্তাদের আকর্ষণ করার জন্য পণ্য প্রস্তুত ও রফতানিকারকদের পণ্য প্রদর্শনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তাছাড়া ক্রেতা ও ভোক্তাদেরকে আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে পরিচিত করা ও তাদের জন্য বাণিজ্যের উৎকর্ষ সাধনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

এছাড়াও বাংলাদেশ-চীন ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার নির্মাণের মাধ্যমে স্থানীয় পণ্যের ইন্ডাস্ট্র্রিয়াল কম্পিটিটিভনেস সৃদ্ধি পাবে এবং বাণিজ্যিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশ উন্নয়ন ঘটবে। এতে দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত হওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়ন জোরদার হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সর্বশেষ প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয় ৭৯৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে চীনের অনুদান ৬২৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা এবং সরকারি তহবিলের ১৭০ কোটি ৩১ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে বাস্তবতার নিরিখে অতিরিক্ত ১৫ একর ভূমি অধিগ্রহণ, নতুন নতুন স্থাপনা নির্মাণ, সেন্টারের পরিসর বৃদ্ধিসহ রক্ষণাবেক্ষণে ১৭০ কোটি ৬৭ লাখ টাকা বাড়িয়ে মোট ব্যয় ধরা হয় ১ হাজার ৩০৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা। সেই সঙ্গে মেয়াদ ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

সূত্র জানায়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রস্তাবিত এ প্রকল্পটি ২০০৯ সাল থেকে ২০১২ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাব করা হয়। সে সময় এটি তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরের উত্তর-পঞ্চিম কর্নারে খালি জায়গায় তৈরির জন্য প্রস্তাবে বলা হয়েছিল। পরবর্তীতে ভূমি জটিলতায় পূর্বাচলে স্থানান্তর করা হয়।

Facebook Comments

" ব্যবসা ও বাণিজ্য " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ