Foto

ভোটের আগে বিরোধীদের গ্রেফতার ও ভয়ভীতি


আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) অভিযোগ করেছে, ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মীদের ধরপাকড় এবং ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এ ছাড়া মুক্ত মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে হুমকি সৃষ্টি করা হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেছে সংস্থাটি।


একই সঙ্গে নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচন সম্পন্ন করা এবং নির্বাচনী প্রচারণায় সহিংসতা রোধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, চীন ও অন্যান্য দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থাটি। বিরোধী রাজনীতিবিদদের নিশানা বানানো ছাড়াও সুষ্ঠু-অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রতিবন্ধকতা, স্বাধীন মতপ্রকাশ ও সমাবেশের অধিকারে বাধার সৃষ্টি, ইন্টারনেটের ওপর নজরদারি ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন, নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতিত্ব ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একপেশে ভূমিকার অভিযোগ তোলা হয় বিবৃতিতে।

এইচআরডব্লিউ বলেছে, গত অক্টোবর থেকে চলতি মাসের শুরু পর্যন্ত পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে তারা দেখেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে বিক্ষোভকারী ও বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যমূলক আটক ও গ্রেপ্তার এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ছাত্র ও যুবসংগঠনের হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটছে একের পর এক। এই দমনাভিযান এবং নতুন পাস করা বিস্তৃত পরিসরের ও অস্পষ্ট শব্দগুচ্ছের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন (ডিএসই) আতঙ্কের পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখছে।

এইচআরডব্লিউ অভিযোগ করেছে, প্রচারণা ও নির্বাচনকেন্দ্রিক বিরোধগুলো স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে মীমাংসায় বিচার বিভাগ নির্বাচন কমিশনসহ প্রতিষ্ঠানগুলো পুরোপুরি প্রস্তুত বলে মনে হচ্ছে না।

এইচআরডব্লিউর এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস বিবৃতিতে বলেন, নিরপেক্ষ ও বিরোধী পক্ষের মতপ্রকাশের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকার পদ্ধতিগতভাবে দমনাভিযান চালাচ্ছে; যাতে পুরোপুরি রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় ক্ষমতাসীন দলটি কোনো বাধার মুখে না পড়ে, তা নিশ্চিত করা যায়। তিনি আরও বলেন, প্রধান বিরোধী দলগুলোর সদস্য ও সমর্থকদের গ্রেপ্তার, খুন, এমনকি গুম করা হচ্ছে। এটি আতঙ্ক ও নির্যাতনের পরিবেশ তৈরি করছে; যা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের উচিত নির্বাচনের আগে বিরোধী রাজনীতিক ও মুক্ত মতপ্রকাশের ওপর দমনাভিযান বন্ধ করা, যাতে দেশের মানুষ তাদের অধিকার অনুযায়ী পছন্দসই সরকার নির্বাচন করতে পারে। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অনেক গুরুতর সমস্যা আছে। যেমন বিরোধীপক্ষের পোলিং এজেন্টসহ প্রধান প্রধান নেতার ওপর নজরদারি, গ্রেপ্তার, ভয়ভীতি দেখানো এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক মামলা দেওয়া। এ ছাড়া নিরপেক্ষ গণমাধ্যমের ওপর দমন–পীড়ন এবং মতপ্রকাশ ও সভা-সমাবেশ নিয়ন্ত্রণে দমনমূলক আইন নিয়েও উদ্বেগ আছে।

এইচআরডব্লিউ জানায়, জোরালো দমন-পীড়নের শুরু গত সেপ্টেম্বর থেকে। বিএনপি জানিয়েছে, তাদের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে তিন লাখের বেশি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক মামলা হয়েছে। আর গ্রেপ্তার করা হয়েছে হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা-কর্মীদের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটছে।

সবাই যাতে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলে, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা। তবে বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, কমিশন ক্ষমতাসীন দলের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করছে। যেমন আওয়ামী লীগের মাত্র তিন প্রার্থীকে যেখানে নির্বাচনের অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে, সেখানে বিএনপির ক্ষেত্রে এই সংখ্যা ১৪১।

Facebook Comments

" রাজনীতি " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ