Foto

ভারত-পাকিস্তান সংঘাত : এবার কী হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা?


কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্ত সংঘর্ষে সবসময় যুক্তরাষ্ট্র অগ্রণী ভূমিকা নিয়ে মধ্যস্থতার চেষ্টা করেছিল বলে জানাচ্ছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। কিন্তু চলমান সংকট নিরসনে আমেরিকা কী করতে পারে - তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।


গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পুলওয়ামায় ভারতের একটি সামরিক কনভয়ে আত্মঘাতী হামলায় অন্তত ৪০ জন সেনা সদস্য নিহত হয়। পাকিস্তানভিত্তিক নিষিদ্ধ সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদ এই হামলার দায় স্বীকার করে।

এদিকে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ভারতীয় বিমান বাহিনী দাবি করে, তারা পাকিস্তানের অভ্যন্তরে কাশ্মীরে ’জঙ্গি ঘাঁটিতে’ বিমান হামলা করেছে এবং সেগুলো ধ্বংস করে দিয়েছে। এর পর থেকে দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছে।

তবে সেই হামলায় কোনো ধরনের হতাহত হয়নি দাবি করে পাকিস্তান জানায়, তারা ভারতীয় বিমানটিকে ধাওয়া করে তাড়িয়ে দিয়েছিল। যাওয়ার সময় বালাকোট নামক স্থানে বোমাগুলো ফেলে যায় ভারতীয় বিমান বাহিনী।

ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ?
এই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র সচিব মাইকেল পম্পেও দু’দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাথে কথা বলেন।

একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি জানান, ’আমি দুদেশের মন্ত্রীদেরই বলেছি যেন ভারত ও পাকিস্তান ধৈর্য নিয়ে যেকোনো মূল্যে খারাপ পরিস্থিতি এড়িয়ে চলে।’

’আমি তাদেরকে [ভারত ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের] বলেছি যেন তারা সরাসরি যোগাযোগকে গুরুত্ব দেয় এবং পরবর্তীতে যেকোন সামরিক কর্মকাণ্ড থেকে নিজেদের বিরত থাকে।’

এমন বিবৃতির পরের দিনই গতকাল কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ রেখা বা লাইন অফ কন্ট্রোল বরাবর ভারত আর পাকিস্তানি বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

ভারতীয় গোলার আঘাতে পাকিস্তানের তিনজন নারী ও একটি শিশু মারা গেছে। আহত হয়েছেন ১১ জন। অন্যদিকে, পাকিস্তানি বাহিনীর ছোঁড়া গোলায় পাঁচজন ভারতীয় সৈনিকের আহত হওয়ারও খবর আসে।

পরে পাকিস্তান দাবি করে তারা দুটো ভারতীয় বিমানকে ভূপাতিত করেছে এবং একজন পাইলটকে আটক করেছে। অপরদিকে ভারত দাবি করেছে, তারা পাকিস্তানের একটি বিমান ভূপাতিত করেছে।

এর ফলে সংঘাতে নতুন মাত্রা যোগ হয়।

এদিকে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সাথে আলাপ করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভিয়েতনামে গিয়েছেন।

তারপরও এই সংকট নিরসনে ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ করছেন অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি’র ন্যাশনাল সিকিউরিটি কলেজের প্রধান অধ্যাপক ররি মেডকাল্ফ।

গতকাল সংঘাতের এক মুহূর্তে তিনি এক টুইটবার্তায় বলছেন : ’বিশ্বের জন্য জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রশাসন সবচেয়ে যে ভালো কাজটি করেছিলেন সেটি সম্ভবত ২০০২ সালে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা নিরসন করা।’

’২০০২ সালে রিচার্ড আর্মিটেজের সুক্ষ্ম কূটনীতির কথা স্মরণ করছি। আমার সন্দেহ আছে যুক্তরাষ্ট্র এখনকার পরিস্থিতিতে একই ভূমিকা পালন করতে সক্ষম কি-না,’ লিখেন তিনি।

এবার তেমন কোনো উদ্যোগ কেন দেখা যাচ্ছে না - বিবিসি বাংলার এমন প্রশ্নের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতির অধ্যাপক ড. আলী রিয়াজ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে এই‌ মুহূর্তে কোনোরকম উদ্যোগ নেয়ার বিভিন্ন রকম সমস্যা আছে।

তার মধ্যে অন্যতম প্রধান সমস্যা যুক্তরাষ্ট্রে এখন পাকিস্তানের সাথে ঘনিষ্ঠতা বজায় বজায় রাখতে হচ্ছে, কারণ এখন আফগানিস্তানে তালেবানের সঙ্গে যে আলোচনাটা হচ্ছে সেটা পাকিস্তানের পৃষ্ঠপোষকতায় হচ্ছে, বলছেন তিনি।

’পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এখন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের পক্ষে এমন কোনো অবস্থান নিতে পারবে না যেটা শেষপর্যন্ত আফগানিস্তানে তালেবানের সাথে শান্তি আলোচনাটা ভণ্ডুল হয়ে যায়।’

তিনি জানান, অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সখ্য এখন এমন অবস্থায় যে, ভারতের বিরুদ্ধে কোনো অবস্থান বা পাকিস্তানের পক্ষপাত করার কোনো সুযোগ যুক্তরাষ্ট্রের নেই।

’ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের যে অবস্থা তাতে আমার মনে হয় তারা অপেক্ষা করছে, যে দুপক্ষই যদি কোনভাবে ধৈর্যের পরিচয় দিতে পারে, তাহলে হয়তো পরবর্তীতে তারা পরোক্ষভাবে দুপক্ষকেই এক ধরনের আলোচনায় আনতে চেষ্টা করবেন,’ মত আলী রিয়াজের।

এদিকে মস্কোর কর্তৃপক্ষও দুই দেশের সাথে যোগাযোগ করে উভয়কে ’সংযত থাকতে’ বলেছে। বর্তমানের সমস্যাগুলো রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক প্রথায় সমাধান করতে হবে বলে রাশিয়া মনে করছে। চীন এবং ইউরোপিয় ইউনিয়নও একই ধরনের মতামত প্রকাশ করেছে।

Facebook Comments

" বিশ্ব সংবাদ " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ