Foto

ভারতে দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ চলছে


ভারতের লোকসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে আজ বৃহস্পতিবার ১২টি রাজ্য এবং একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ৯৫টি আসনে ভোট গ্রহণ চলছে। স্থানীয় সময় সকাল সকাল সাতটা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়, চলবে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত।


গত ১১ এপ্রিল প্রথম ধাপে ৯১টি আসনে ভোট হয়। ওইদিন বিক্ষিপ্ত সহিংসতায় দুইজন নিহত হন এবং বিভিন্ন জায়গায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ত্রুটির অভিযোগ ওঠে। ভারতের সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভার সাত ধাপের এই ভোট চলবে ১৯ মে পর্যন্ত। ২৩ মে ভোট গণনা হবে। দিল্লির ক্ষমতায় কে বসছেন ওই দিনই তা জানা যাবে।

আজ আসাম, বিহার, জম্মু-কাশ্মীর, কর্নাটক, মহারাষ্ট্র, মনিপুর, ওড়িশা, উত্তর প্রদেশ, পন্ডিচেরি, ছত্রিশগড়, পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরার ৫৭টি আসন এবং ভেলোর বাদে তামিলনাড়ুর বাকি ৩৮টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। সকাল সাতটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত চলবে ভোট গ্রহণ। এই ধাপে মোট ৯৭টি আসনে ভোট গ্রহণের কথা ছিল। কিন্তু বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধারের প্রেক্ষিতে তামিলনাড়ুর ভেলোর আসনে ভোট গ্রহণ স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। অন্যদিকে নিরাপত্তাজনিত কারণে ত্রিপুরার একটি আসনে ভোট গ্রহণ বন্ধ রাখা হয়েছে। আগামী ২৩ এপ্রিল ওই আসনে ভোট হবে। লোকসভা নির্বাচনের পাশাপাশি কয়েকটি রাজ্যে বিধানসভা উপনির্বাচনের ভোট গ্রহণ চলছে।

প্রথম দফার নির্বাচনে ৬৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের দুটি আসনে ভোট পড়েছে ৮০ শতাংশেরও বেশি আর সবচেয়ে কম ভোট পড়েছে বিহারে। দ্বিতীয় দফায় পশ্চিমবঙ্গে তিনটি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। এই ধাপে নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের জন্য বিশেষ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে নির্বাচন কমিশন।

তামিল নাড়ুতে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতার মৃত্যুর পর গুরুত্বপূর্ণ ভোট হতে চলেছে। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে জয়ললিতার দল এআইএডিএমকে মোট ৩৯টি আসনের মধ্যে ৩৭টিতেই জয়লাভ করে। পরে উপনির্বাচনে একটি আসন হারায় দলটি। এবারের নির্বাচনে জেতা আসনগুলো ধরে রাখার জন্য লড়াই করতে হচ্ছে দলটি। তবে আঞ্চলিক দল ডিএমকে নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হচ্ছে দলটিকে। গত নির্বাচনে এই রাজ্যে একটি আসনে জয় পায় বিজেপি। তবে এআইএডিএমকে"র সঙ্গে জোট করে পাঁচটি আসনে লড়ছে তারা। এই নির্বাচনে অভিনেতা কমল হাসানের দল এমএনএম প্রথমবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। অন্যদিকে গত নির্বাচনে এই রাজ্যে একটি আসনও পায়নি কংগ্রেস। তারা এবার ডিএমকে"র সঙ্গে জোট করে ৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে তাই এই রাজ্যের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে সবাই।

"সবখানে মোদির ক্যামেরা"

দেশের সবখানে ক্যামেরা বসিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কংগ্রেসকে ভোট দিলেই জেনে যাবেন তিনি। এমন বিতর্কিত মন্তব্য করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন গুজরাটের এক বিজেপি বিধায়ক। এই বক্তব্যের পর ভারতের নির্বাচন কমিশন তার বিরুদ্ধে ৪৮ ঘণ্টার জন্য কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। মঙ্গলবার এক জনসভায় বিজেপি বিধায়ক রমেশ কাটারা বলেন, মোদি সব জায়গায় ক্যামেরা বসিয়ে রেখেছেন, বিজেপিকে ভোট না দিয়ে কংগ্রেসকে ভোট দিলেই আমরা জানতে পারব। তিনি আরো বলেন, আধার কার্ডসহ সব কিছুতেই আপনাদের ছবি আছে। কোনো বুথ থেকে কম ভোট এলেই মোদি জানতে পারবেন, কারা তাকে ভোট দেননি। তা হলে আর সে কোনো কাজ বা চাকরি পাবে না। এই বক্তব্য সামনে আসার পরই প্রতিবাদে ফেটে পড়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। নির্বাচন কমিশনে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানো হয়।

 

Facebook Comments

" বিশ্ব সংবাদ " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ