Foto

ভারতের শাষন ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে কংগ্রেস


ভারতে বিজেপি–শাসিত তিনটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের উত্থানে নতুন স্বপ্ন দেখা শুরু করেছে কংগ্রেস নেতৃত্ব। তারা নতুন করে ভারতের শাসনক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে।


পশ্চিমবঙ্গের নেতারা গতকাল বুধবার ধর্মতলায় বিজয় উৎসবে যোগ দেন। সেখানে তাঁরা বলেন, সামনে আসছে কংগ্রেসের দিন। আগামী বছর ভারতের শাসনক্ষমতায় আসছে কংগ্রেসই। ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাহুল গান্ধীর নাম ঘোষণাও করে দিয়েছেন তাঁরা।

কিন্তু সত্যি কি কংগ্রেস ক্ষমতায় আসতে পারবে? একসময়ে কংগ্রেসের দুর্গ ছিল উত্তর প্রদেশ, বিহার আর মধ্যপ্রদেশ। তবে এসব রাজ্যে এখনো রয়েছে আঞ্চলিক দলের দাপট। ফলে, কংগ্রেসের পক্ষে এককভাবে ক্ষমতায় আসা যে কঠিন, তা ফুটে উঠেছে বিভিন্ন জনমত সমীক্ষাও।

প্রতিটি জনমত সমীক্ষায় বলা হয়েছে, কংগ্রেস যদি সমমনাদের নিয়ে জোট করতে পারে, সে ক্ষেত্রে দলটির পক্ষে ক্ষমতায় আসার দরজা হয়তো খুলে যাবে। কারণ, ভারতের লোকসভার ৫৪৩টি আসনের মধ্যে ২০১৪ সালের সর্বশেষ লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস জিতেছিল মাত্র ৪৪টি আসনে। তাই একধাপে কংগ্রেসের জয়ের শিখরে উঠতে বেগ পেতে হতে পারে। তবু বলা যায়, রাজনীতিতে শেষ কথা বলতে কোনো কথা নেই।

এখন দেশব্যাপী চলছে মোদিবিরোধী হাওয়া। মানুষও চরম অসন্তুষ্ট মোদির নানা কাজে—সেই নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত, দেশের বেকার সমস্যা বৃদ্ধি, এমনকি ঋণের দায়ে জর্জরিত কৃষকদের আত্মহত্যার ঘটনা, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে। তা ছাড়া রয়েছে মোদির সাম্প্রদায়িক রাজনীতি। এসব কারণে মানুষ বিজেপির ওপর থেকে মন তুলে নিয়েছে।

গত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি একা জিতেছিল ২৮২টি আসনে। তাই এই মুহূর্তে এটা বলা যায় না যে বিজেপি আগামী নির্বাচনেই ক্ষমতা হারাবে। কারণ, বিজেপি আজ ঐক্যবদ্ধ থাকলেও বিজেপিবিরোধী দলে রয়েছে ক্ষমতা ভাগাভাগির লড়াই। নির্বাচনী জোট করে বিজেপিকে পরাস্ত করার জন্য বিজেপিবিরোধী দল এক পথে এসে দাঁড়ালেও তাদের ভেতর ক্ষমতা ভাগাভাগির লড়াই রয়েছে। তাই ক্ষমতার লোভ ছেড়ে যদি বিজেপিবিরোধী শক্তিশালী জোট করা যায়, সে ক্ষেত্রে এটা নিশ্চিত হবে, মোদির দিন শেষ হয়ে আসছে।

এবার দেখে নেওয়া যাক সর্বশেষ সমীক্ষা কী বলছে? জিটিভি ও ভিএমআর এবারের পাঁচ রাজ্যের বিধানসভার নির্বাচনের পর ফলাফল বিশ্লেষণ করে বলেছে, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ও এনডিএর আসন কমলেও তারা ফের ক্ষমতায় ফিরতে পারে।

সমীক্ষায় বলা হয়, উত্তর ভারতে রয়েছে লোকসভার ১৭২টি আসন। ২০১৪ সালে এই আসনের মধ্যে বিজেপি জিতেছিল ১৩৭টি আসন। আর কংগ্রেস জিতেছিল মাত্র ৯টি আসন। এবার সেখানে বিজেপির আসন কমে দাঁড়াতে পারে ৮৭ এবং কংগ্রেসের আসন বেড়ে দাঁড়াতে পারে ৩০। দক্ষিণ ভারতে রয়েছে ১০৩টি আসন। এর মধ্যে গত নির্বাচনে বিজেপি জিতেছিল ৭৮টি আসনে। কংগ্রেস মাত্র ২টি আসনে জিতেছিল। এবার সেখানে বিজেপির আসন কমে দাঁড়াতে পারে ৬৫ এবং কংগ্রেসের বেড়ে দাঁড়াতে পারে ১৮। পূর্ব ভারতে রয়েছে ১৩৭টি আসন। ২০১৪ সালে এখানে বিজেপি জিতেছিল ৪৫টি আসন। কংগ্রেস জিতেছিল ১৪টি আসন। এবার সেখানে বিজেপির আসন কমে দাঁড়াতে পারে ৪০টি এবং কংগ্রেসের আসন বেড়ে দাঁড়াতে পারে ২২টি। এখানে তৃণমূল কংগ্রেস কংগ্রেস জোটের সঙ্গী হলে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউপিএর আসনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ৭৩ এবং বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএর আসনসংখ্যা হবে ৫৪।

সমীক্ষা প্রতিবেদনে সর্বশেষে বলা হয়েছে, এ ধারা চললে বিজেপির ঝুলিতে যাবে ২১২টি আর কংগ্রেসের ঝুলিতে যাবে ৯৮টি আসন। এতে বিজেপি বা কংগ্রেসকে ক্ষমতায় যেতে হলে ভর করতে হবে আঞ্চলিক দলের ওপর। কারণ, ক্ষমতায় যেতে হলে চাই ২৭২টি আসন, যা এককভাবে জুটবে না বিজেপি বা কংগ্রেসের ঝুলিতে।

যদিও গতকাল বিকেলে কলকাতার রানি রাসমণি অ্যাভিনিউতে কংগ্রেস আয়োজিত বিজয় উৎসবে যোগ দিয়ে রাজ্য কংগ্রেসের নেতারা বলেছেন, ২০১৯ সালে ভারতবর্ষ থেকে বিজেপিকে হটিয়ে গড়া হবে ধর্মনিরপেক্ষ সরকার। আর সেই সরকারের প্রধানমন্ত্রী হবেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। কারণ, বিজেপির সময় ফুরিয়ে এসেছে। মানুষ চাইছে কংগ্রেসকে।

Facebook Comments

" বিশ্ব সংবাদ " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ