Foto

ব্রুকলিনে পোড়া বাড়ির চমচম


বিশ্বাস না-হলে একবার ঢুঁ মেরে দেখতে পারেন। যারা চমচমের ভক্ত তাদের বলছি। নিউইয়র্ক আসার পর থেকে মিষ্টি খেয়ে মজা পাচ্ছিলাম না। দেশে থাকতে টেলিভিশন বিজ্ঞাপনে ‘শাপলা গ্রোসারী’, ‘মান্নান গ্রোসারী’ দেখতাম। ভাবতে ভালো লাগত, দেশি সবকিছু এসব গ্রোসারিতে পাওয়া যাবে। নিউইয়র্ক এসে ব্রুকলিনে উঠলাম ভাইয়ের বাসায়। ভাই গ্রোসারি করে ‘ভিক্টোরিয়া গ্রোসারী’ থেকে। মিষ্টি মণ্ডা কিনে ‘কবিরস বেকারী’ থেকে। মিষ্টি খেলে মনে হয় ময়দার দলা। স্বাদ লাগে না। জ্যাকসন হাইট্‌সে প্রিমিয়াম আর অ্যাস্টোরিয়ায় আলাউদ্দিন সুইট মিটেও মিষ্টি খাই। স্বাদ পাই না।


জ্যামাইকার টিক্কা গার্ডেন রেস্টুরেন্টে একবার এক বড়ভাইয়ের বিবাহবার্ষিকীতে দাওয়াত। পোলাও রোস্ট খাওয়ার পর গোলাপ জামুন অর্ডার দিলেন। অনেক দিন পর মিষ্টি খেয়ে মজা পেলাম। একটি–দুটি করে প্রায় ছয়/সাতটা খেয়ে ফেললাম। এরপর নিজেই গোলাপ জামুন বানানো শিখলাম। আর দেশের প্রিয় মিষ্টি ভুলেই গেলাম।
গ্রিনহাউস সুপার মার্কেটে আমরা গ্রোসারী করি আজ প্রায় পাঁচ বছর। কিছুদিন আগে আমরা গ্রোসারী করতে গেলে দোকানের ম্যানেজার জাহাঙ্গীর পোড়াবাড়ির চমচম নিতে বললেন।
জাহাঙ্গীর বাংলাদেশের সন্দীপ অঞ্চলের মানুষ। শাপলা গ্রোসারী আগুনে পুড়ে গেলে ওই দোকানের কাছাকাছি গ্রিনহাউস সুপার মার্কেট চালু হয়। তখন থেকে আমরা এই এক দোকানে সব কেনাকাটা করি। বড় অমায়িক তার ব্যবহার। নতুন কিছু আসলে উনিই আমাদের জানান দেন। সেই চমচম খেয়ে টাঙ্গাইলের পোড়াবাড়ির চমচমের স্বাদ ফিরে পেলাম। এখানে পোড়াবাড়ির চমচম ছাড়াও কুমিল্লার রসমালাই পাওয়া যায়। এখন আমরা শুধু চমচমই খাই। ব্যস্ততা থাকলে ফোনে অর্ডার দিলে সব রেডি করে রাখেন।

Facebook Comments

" রান্না বান্না " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ