Foto

ব্যাংক খাত খুব বেশি বড় হয়ে গেছে


দশ বছরের মেয়াদে দশটি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়া আওয়ামী লীগ সরকারের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এখন মনে করছেন, বাংলাদেশের ব্যাংক খাত ‘খুব বেশি বড়’ হয়ে গেছে। সচিবালয়ে বুধবার সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি এ কথা বলেন। মুহিত বলেন, “ব্যাংকিং খাত খুব বেশি বড় হয়ে গেছে। টু মেনি ব্যাংকস, টু মেনি ফাইনানশিয়াল ইনস্টিটিউশনস।”


বাংলাদেশে এখন সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ৫৮টি বাণিজ্যিক ব্যাংক রয়েছে, ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে ৩৪টি। বাংলাদেশের আর্থিক খাতের চাহিদার তুলনায় ব্যাংকের এই সংখ্যা বেশি বলে অধিকাংশ ব্যাংকারই মনে করেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের গত মেয়াদে ২০১২ সালে নয়টি বেসরকারি ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়া হয়। রাজনৈতিক বিবেচনায় ওই ব্যাংকগুলোর অনুমোদন দেওয়া নিয়ে সে সময় সমালোচনা হয়।

পরে বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশের (বিজিবি) মালিকানায় সীমান্ত ব্যাংকের অনুমোদন দেয় সরকার।

ঋণ কেলেঙ্কারির কয়েকটি বড় ঘটনায় গত কয়েক বছর ধরেই দেশের ব্যাংক খাত আলোচনায় রয়েছে। সর্বশেষ অনুমোদন পাওয়া কয়েকটি ব্যাংকও অনিয়ম আর তারল্য সঙ্কটে ধুকছে।

এই অবস্থায় গতবছরের শেষে আরও তিনটি নতুন ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, “আমাদের অনেক ব্যাংক আছে ঠিক, কিন্তু তারপরও প্রচুর অঞ্চল ব্যাংক সেবার বাইরে আছে। এ কারণেই নতুন ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে।”

গত জুন পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে ব্যাংক খাতের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকার মত, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ১৫ শতাংশ।

এই বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ নিয়ে দেশে অর্থনীতিবিদদের যেমন উদ্বেগ আছে, তেমনি দুই সপ্তাহ আগে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে বিশ্ব ব্যাংক-আইএমএফ বার্ষিক সম্মেলনে বিভিন্ন বৈঠকেও এ বিষয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় মুহিতকে।

সে সময় তিনি বলেছিলেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদ যেহেতু শেষ হয়ে আসছে, সেহেতু তিনি এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে যাবেন, যোতে পরবর্তী সরকার এসে এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারে।

বুধবার এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আর্থিক খাত নিয়ে তার সেই প্রস্তাব এখনও তৈরি হয়নি। তবে সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তিনি তা দিয়ে যাবেন।

ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মুহিত বলেন, “আপনারা (সাংবাদিক) দেখতে পাবেন, সিক্রেট কিছু হবে না।”

Facebook Comments

" বিশ্ব অর্থনীতি " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ