Foto

বৈশাখেই নামছে শীত!


২৩ বছর হয়ে গেল, জর্জ রেমন্ড রিচার্ড মার্টিন কথা রাখেননি। সেই কবে ১৯৯৬ সালে নেড স্টার্কের মুখ থেকে বলিয়েছেন, ‘শীত আসছে।’ সে ‘শীত’ আর এল না। বরফ ও আগুনের গানের পাঠকেরা সবাই বুভুক্ষুর মতো শেষ দুই বইয়ের অপেক্ষায় আছেন। কে জানে ‘শীতের বাতাস’ আর ‘বসন্তের স্বপ্ন’ দেখার অপেক্ষাটা সুনীলের ৩৩ বছরকেও ছাড়িয়ে যায় কি না!


"শীত যে আসছে" সে কথা পরেও জানা গেছে নতুন করে। যদি দিনক্ষণের পাকা হিসাব দিতে হয় তাহলে বলতে হয়, সেটি ছিল এমনই এক এপ্রিলের দিন। ২০১১ সালের ১৭ এপ্রিল টিভি পর্দায় নেড স্টার্ক শুনিয়েছিলেন সেই অমোঘ বাণী, "শীত আসছে।" সেদিনই শুরু হয়েছিল "গেম অব থ্রোনস"–এ শীতের অপেক্ষা।

নেড স্টার্ক আর নেই, হারিয়ে গেছেন আট বছর আগেই। কিন্তু নেড স্টার্কের কথা সত্য প্রমাণিত হয়েছে। অবশেষে আট বছর অপেক্ষায় রেখে শীত হাজির হয়েছে আমাদের মধ্যে। কী কাকতাল, টিভি পর্দার সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত শীতের আগমন হচ্ছে গ্রীষ্মের প্রথম দিনে! বহুকাঙ্ক্ষিত সিরিজের শেষের শুরুটা দেখানোর জন্য দাবদাহ আর ঝড়–বৃষ্টিমাখা বাংলার পয়লা বৈশাখকেই কেন যেন পছন্দ হয়েছে "এইচবিও"র। সন্দেহ বাতিকেরা যদিও বলতে পারেন, ১৪ এপ্রিল মুক্তি পেলেও সময়টা বাংলাদেশ সময় ১৫ এপ্রিলের সকাল সাতটা। বাংলা দিনের হিসাবে সূর্যোদয়ের নিয়ম খাটিয়েও পয়লা বৈশাখে আটকে রাখা যাচ্ছে না। অবশ্য এবার এক সপ্তাহ আগেই পয়লা বৈশাখের উদ্‌যাপন করতে দেখা গেছে, তাই এক দিন পরে করতেও আপত্তি থাকার কথা নয়!

বিতর্কিত বিষয়ে কথা না বাড়ানোই ভালো। আমরা বরং শীতের গল্প করি। নাকি আরিয়া স্টার্কের গল্প হবে? নিডল হাতে তলোয়ার চালাতে শেখার জন্য একসময় বাবার কাছে আবদার করা আরিয়া বড় হয়েছে। এই আরিয়া মৃত্যুর সব দিক দেখে এসেছে, মৃত্যুই এখন বরং আরিয়া থেকে আড়াল খোঁজে। সেই আরিয়াকেও কিনা ট্রেলারে দেখা গেল অন্ধকার করিডর ধরে ছুটে পালাতে। আরিয়ার প্রতিটি পদক্ষেপের সঙ্গে মিশে থাকা বড় বড় শ্বাসের মধ্যেই টের পাওয়া যাচ্ছে রক্ত হিম করে দেওয়া ভয়ের রেশ। কী দেখে এমন ভয় পেল "মেনি ফেইসড গড"–এর ইচ্ছাকে পাত্তা না দেওয়া মেয়েটি? উত্তরটা হোয়াইট ওয়াকার, নাকি তাদের উইটস হয়ে ফিরে আসা প্রিয় সব স্টার্করা!

আরিয়ার গল্পটা পাশে রেখে জনের গল্পও করা যেতে পারে, ডেনেরিস টারগেরিয়ানের গল্পটাও হতে পারে। সার্সেই-জেইমির সম্পর্ক নিয়ে নাকসিটকানো লোকজনই এ দুজনকে জুটি হিসেবে দেখতে চেয়েছে। দর্শকের তুষ্টি জাগিয়ে দুজনে "কাছে আসার গল্প"ও লিখে ফেলেছে গত সিজনে। নিজেদের মধ্যকার সম্পর্কের প্যাঁচটা তারা কবে বুঝবে, প্রথম না দ্বিতীয় পর্বে? দর্শকদের প্রিয় সব মুখ উইন্টারফেলে হাজির হচ্ছে, তাদের মধ্যে তৃতীয় পর্ব শেষে কে টিকে থাকবে, সেটাও দেখার আগ্রহ সবার। হ্যাঁ, সেই প্রথম সিজনের প্রথম পর্বে যে শীতের কথা বলা হয়েছিল, সেটা স্টার্কদের উইন্টারফেলে আছড়ে পড়বে তৃতীয় পর্বেই। ট্রেলারে মেরুদণ্ডে ভয়ের চোরাস্রোত বইয়ে দেওয়া মৃত ঘোড়াটির দেখাও দ্বিতীয় পর্বেই পাওয়ার কথা। উপায়ও নেই, টিভি ইতিহাসের সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত সিজন যে মাত্র ছয় পর্বেই শেষ হবে এবার। সেভেন কিংডমের সর্ব উত্তরের রাজ্যটাকে শীতের দখলে আনতে এর চেয়ে বেশি দেরি করা যাচ্ছে না।

জন, ডেনি, আরিয়ারা যখন "হোয়াইট ওয়াকার"দের সঙ্গে জীবন–মরণের লড়াইয়ে ব্যস্ত, সার্সেই ল্যানিস্টার তখনো "আয়রন থ্রোন" নিয়ে স্বপ্ন বুনছে। ইউরন গ্রেজয় আর "গোল্ডেন আর্মি" নিয়ে কিংস ল্যান্ডিং কবজায় রেখে উইন্টারফেলের হারের অপেক্ষায় সে। ওদিকে সারা জীবনের ভালোবাসা জেইমি শীত তাড়ানোর জন্য যে ওই উইন্টারফেলেই আছে, মৃত্যুর মুখে লড়ছে; ওতেও ভ্রুক্ষেপ নেই তার। সাত রাজ্যের রানি হওয়ার সাধ এমনই!

এসব কথাবার্তার মধ্যে ব্র্যানের কথা তোলাই গেল না। অথচ এই ব্র্যানের ওপরই নির্ভর করছে অনেক কিছু। ড্রাগন মাতা ডেনিরেস কিংবা সম্ভাব্য "অ্যাজর আহাই" জন নয়, সেভেন কিংডমের ভাগ্য নির্ভর করছে চলাচলে অক্ষম ব্র্যানের ওপরই। হোয়াইট ওয়াকার ও ব্র্যানের গল্পের রহস্য, তার অসীম ক্ষমতা এবং হোয়াইট ওয়াকারের মূল লক্ষ্য বানাতেই ব্র্যানের গুরুত্ব বোঝা যায়। এতেও যদি ব্র্যানকে পাতে তুলতে ইচ্ছে না হয়, তবে একটু স্মরণ করে দেখুন মার্টিন সাহেব তাঁর এই মহাকাব্যের শুরুটা করেছিলেন ব্র্যানের প্রেক্ষাপট থেকে। সাত রাজ্যের মধ্যে লড়াইয়ের শিকড়টা পোঁতা আছে ব্র্যানের দুর্ঘটনা থেকেই। হোয়াইট ওয়াকারদের "ওয়াল" ভেঙে এত অনায়াসে সেভেন কিংডমে আসার পেছনেও ভূমিকা আছে ব্র্যানের।

সানসা আর টিরিয়নের কথাও তো বলা হলো না। তিন শক্তিশালী সহোদরের মধ্যেও সানসার কথা ভুলে যাওয়া কঠিন। এই জাদু আর ড্রাগনের লড়াইয়েও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা যে কতটা কাজের, সেটা তো গত সিজনেই দেখিয়ে দিয়েছে সে। তার সুবাদে ভেইলের অ্যারেন পরিবারের শক্তিকে উইন্টারফেলেই পাচ্ছে জন ও ডেনি। আড়াল থেকে বের হয়ে আসার সময় এসেছে টিরিয়ন ল্যানিস্টারেরও। তার জন্মরহস্যটা সিরিজে খোলাসা হবে কি না, কে জানে। সেটা না দেখালেও "আয়রন থ্রোন"–এ তাঁকে বসিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা দেখানোর সাহস নির্মাতারা দেখাতেই পারেন। স্যাম, ব্রিয়েন, টরমুন্ড, বেরিক, স্যার ডাভোসদের গল্প টানতে গেলে সিরিজ প্রিমিয়ারের আগেও এ লেখা শেষ করা যাবে না।

২০১৭ সালের আগস্ট থেকে ভক্তদের অপেক্ষায় রেখেছে এইচবিও। টিভি পর্দার ইতিহাসে পর্ব মুক্তির আগেই ফাঁস হয়ে যাওয়ার ঘটনা "গেম অব থ্রোনস"ই দেখিয়েছে। এই একটি সিরিজের জন্য পরের সিজনের স্ক্রিপ্টও ফাঁস হয়েছে বলে গুজব উঠেছে। সেই অবিশ্বাস্য স্ক্রিপ্টই আবার হাজারবার ডাউনলোড হয়েছে, শেষ সিজনে কী হবে তা জানার জন্য। এই সব পাগল ভক্তই এখন দাঁতে দাঁত চেপে ১৪ তারিখের অপেক্ষায় আছেন। কখন হবে সেই আকাঙ্ক্ষিত প্রিমিয়ার। আর কখন আইনি-বেআইনি উপায়ে সেটা চলে আসবে সবার স্ক্রিনে।

ব্র্যানই কি টেক্কা বনবে, নাকি ড্রাগনের পিঠে চড়ে সব মীমাংসা করবে জন ও ডেনি? আরিয়ার ভূমিকা কী হবে? এত সব লড়িয়ের মধ্যে রাজনৈতিক দক্ষতা নিয়েই-বা কী করতে পারবে সানসা স্টার্ক? আয়রন থ্রোনের সত্যিকারের দাবিদার জেন্ড্রি কি জানতে পারবে তার পিতৃপরিচয়? সব প্রশ্নের উত্তর পাঁচ সপ্তাহের মধ্যেই মিলবে। এত প্রশ্নের মাত্র ছয় পর্বে পূরণ করতে পারবে এইচবিও?

 

Facebook Comments

" বিনোদন " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ