Foto

বিধ্বস্ত বিমানের যাত্রীদের খোঁজ বন্ধ করল ইন্দোনেশিয়া


জাকার্তার অদূরে জাভা সাগরে ১৮৯ জন যাত্রী নিয়ে বিধ্বস্ত লায়ন এয়ারের উড়োজাহাজের নিখোঁজ যাত্রীদের অনুসন্ধান বন্ধ করেছে ইন্দোনেশিয়া। তবে উড়োজাহাজটির দ্বিতীয় ব্ল্যাক বক্স ককপিট ভয়েস রেকর্ডারের খোঁজ অব্যাহত রাখবে বলে শনিবার জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ, খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের। ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় তল্লাশি ও উদ্ধার সংস্থা বাসারনাসের প্রধান মুহাম্মদ সিয়াগি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, “কোনো জয়াগায় তল্লাশি চালানো বাকি নেই। আমরা নিহতদের মৃতদেহ খোঁজা বন্ধ করেছি। আমাদের অভিযান পর্যবেক্ষণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।”


বোয়িং কোম্পানির প্রায় নতুন ৭৩৭ ম্যাক্স যাত্রীবাহী উড়োজাহাজটি ২৯ অক্টোবর জাকার্তা বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের কয়েক মিনিট পরই সাগরে বিধ্বস্ত হয়। উড়োজাহাজটি সুমাত্রার নিকটবর্তী বাংকা দ্বীপের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল।

সিয়াগি জানিয়েছেন, ১৯৬টি লাশ রাখার ব্যাগ ভর্তি দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ফরেনসিক পরীক্ষায় এ পর্যন্ত ৭৭ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে।

এক সপ্তাহ আগে যে ব্ল্যাক বক্সটি (ফ্লাইট ডাটা রেকর্ডার) উদ্ধার করা হয়েছে সেটি থেকে তথ্য ডাউনলোড করেছে কর্তৃপক্ষ, কিন্তু তারা ককপিট ভয়েস রেকর্ডারের খোঁজে এখনও অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।

ইন্দোনেশিয়ার পরিবহন নিরাপত্তা কমিটির (কেএনকেটি) প্রধান সুয়ারিয়ান্তো জাহিওনো জানিয়েছেন, বিধ্বস্তের কারণ বোঝার জন্য ভয়েস রেকর্ডারটি পাওয়া দরকার।

তিনি বলেছেন, “কী হয়েছিল সে বিষয়ে ব্ল্যাক বক্সের তথ্য থেকে ৭০-৮০ ভাগ জানতে পেরেছি আমরা, কিন্তু দুর্ঘটনার কারণ শতভাগ বোঝার জন্য উড়োজাহাজের ককপিটে কী কথাবার্তা হয়েছিল তা জানা দরকার আমাদের।”

ফ্লাইট ডাটা রেকর্ডারের তথ্যে কী পাওয়া গেল তার বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি তিনি।

ভয়েস রেকর্ডারটি খোঁজার কাজে ক্যামেরা বসানো দূর নিয়ন্ত্রিত ডুবোড্রোনের পাশাপাশি কেএনকেটি একটি পিঙ্গার লোকেটর ও কাদা তুলে আনতে পারে এমন একটি জাহাজও মোতায়েন করেছে।

জাহিওনো জানিয়েছেন, উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের সময় ককপিট ভয়েস রেকর্ডারটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে এমন সম্ভাবনায় উদ্বিগ্ন হয়ে আছেন তিনি, কারণ কেএনকেটি এখনও কোনো পিং শব্দ শনাক্ত করতে পারেনি, এ ধরনের শব্দ পাওয়া গেলে ভয়েস রেকর্ডারটি শনাক্ত করা সম্ভব হতো।

এ রকম শব্দের উৎসে সন্ধান চালিয়েই প্রথম ব্ল্যাক বক্সটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল।

তিনি জানিয়েছেন, কর্তৃপক্ষ উড়োজাহাজটির ১৫টি যন্ত্রাংশেরও খোঁজ করছে, এগুলোর মধ্যে অ্যাঙ্গেল অব অ্যাটাক নামে একটি সেন্সর রয়েছে, এটি উড়োজাহাজটির কম্পিউটারকে আকাশযানটি স্থিতিশীল আছে এটি বুঝতে সহায়তা করে। এগুলোর মধ্যে একটি সেন্সর ভ্রান্ত তথ্য পাঠিয়েছিল বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।

Facebook Comments

" বিশ্ব সংবাদ " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ