Foto

বিএনপি সমর্থকদের বাড়িঘর ভাঙচুর-লুটপাট


সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় বিএনপি সমর্থকদের অর্ধশতাধিক বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।


দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের কলাউরা গ্রাম ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় সোমবার সকালে স্থানীয় যুবলীগ নেতা তোফায়েল, ছাত্রলীগ নেতা শাহজালাল, ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের অন্তত ৫০ জন নেতাকর্মী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসব ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।

এ সময় হামলাকারীরা ঘরের আসবাবপত্র, ফ্রিজ, টেলিভিশন ও দরজা-জানালা ভাঙচুরসহ স্বর্ণালঙ্কার এবং নগর টাকাসহ লুটপাট করার অভিযোগ উঠেছে।

খবর পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে পুলিশ, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান।

সরেজমিন গেলে কলাউরা গ্রামের মাদ্রাসাপাড়ার শাহ আলম মেম্বারের ভাইদের ঘর, আবুল হোসেন ওরফে খলিফা হোসেন, আব্দুস সোবহান, তোরাব আলী, আবুল হোসেন, বাবুল মিয়া, হাফিজ উদ্দিনের ছেলেদের ঘর ভাঙচুর, সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন, তার ভাই রুহুল আমিন, জহির ডাক্তার ও তার ভাইদের ঘরের মালামাল, নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায় বলে ভুক্তভোগীরা জানান।

একই কায়দায় ওই ইউনিয়নের উত্তর কলাউরা গ্রামের ইউপি সদস্য ওমর ফারুক, জুবায়ের মাস্টার, মৌলভী বাড়ির সব ঘর, পারুল আক্তার, ফক্কু ভূঁইয়া ও মনিরা বেগমের ঘর ভাঙচুর করা হয়।

এ ছাড়া নদীর পূর্বপারের চাচু মিয়ার বাড়িতেও হামলা চালানো হয় বলে ক্ষতিগ্রস্তরা জানান।

হামলার শিকার উত্তর কলাউরার ফয়জুল হক অভিযোগ করে বলেন, আমার বাড়ির বাইরে থাকা একটি অটোবাইকসহ তিনটি ঘরের দরজা-জানালা ভাঙচুর করে এবং আমার চাচার ঘরে ঢুকে ড্রয়ার ভেঙে টাকা লুট করে নিয়ে যায় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা।

কলাউরা মাদ্রাসাপাড়ার আনোয়ার হোসেন বলেন, আমার ঘরের দরজা ভেঙে আলমারি থেকে একটি স্বর্ণের নেকলেস ও কানের দুল নিয়ে যায় এবং ঘরের সবকিছু ভাঙচুর করে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। এ ছাড়া আমার ভাইয়ের ঘরের ফ্রিজ, সোলারের ব্যাটারিসহ সব আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এতে আমাদের প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

হামলার শিকার ওই ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড মেম্বার ওমর ফারুক বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অতর্কিতভাবে আমার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ঘরের সবকিছু ভাঙচুর করে স্বর্ণালঙ্কারসহ সবকিছু লুট করে নিয়ে যায়। আমি এ বিষয়ে আইনের আশ্রয় নেব।

জানতে চাইলে যুবলীগ নেতা তোফায়েলসহ নেতাকর্মীরা তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নির্বাচনী ফায়দা হাসিল করতে না পেরে স্বাধীনতার দোসররা অযথা হয়রানির উদ্দেশে আমাদের বিরুদ্ধে সাজানো মিথ্যা অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে দোয়ারাবাজার থানার ওসি সুশীল রঞ্জন দাস বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন স্যারের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজনসহ আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি এবং ভাঙচুরের কিছু আলামত দেখতে পাই। ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে এ ব্যাপারে এখনো থানায় কোনো মামলা হয়নি।

Facebook Comments

" রাজনীতি " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ