Foto

বিএনপি নেতা মওদুদ ও মাহবুবের প্রচার গাড়ি ভাঙচুর


নোয়াখালীতে বিএনপির দুই প্রার্থী মওদুদ আহমদ ও এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের নির্বাচনী প্রচার গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া বিএনপি নেতা জয়নুল আবদিন ফারুকের নির্বাচনী গণসংযোগ চলাকালে হামলা হয়েছে বলেও উঠেছে। আজ সোমবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটে।


প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় লোকজন জানায়, বেলা ১১টার দিকে কোম্পানীগঞ্জের চরকাঁকড়া নতুনবাজার এলাকায় হামলা চালিয়ে বিএনপি প্রার্থী মওদুদ আহমদের দুটি প্রচার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। এ সময় মওদুদ ও তাঁর সঙ্গে থাকা দলীয় লোকজন গাড়ি থেকে অল্প দূরে গণসংযোগ করছিলেন। পরে মওদুদ আহমদ নিজ বাড়িতে ফিরে যান।

দুপুরে কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট রুপালী চত্বরের দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে মওদুদের প্রচার গাড়িতে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে আওয়ামী লীগ। উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, ‘মওদুদ আহমদ পরাজয় নিশ্চিত জেনে নিজ দলীয় কর্মীদের দিয়ে নাটক সাজাচ্ছেন।’

এ দিকে দুপুরে নোয়াখালী-১ আসনের চাটখিল উপজেলার সাহাপুর বাজারে বিএনপির প্রার্থী মাহবুব উদ্দিন খোকনের প্রচার গাড়িতে একদল দুর্বৃত্ত ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে দুইটি গাড়ির কাচ ভেঙে যায় এবং ভেতরে থাকা পাঁচজন দলীয় কর্মী আহত হন। ঘটনার পর মাহবুব উদ্দিন খোকন গাড়িগুলো নিয়ে সরাসরি চাটখিল থানায় যান। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম সামছুদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপির প্রার্থীর গাড়িতে হামলার অভিযোগ তিনি পেয়েছেন। দুটি গাড়ির কাচ ভেঙে গেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ গেছে। প্রার্থী নিজেই থানায় এসে অভিযোগ জানিয়েছেন।

এ দিকে দুপুর সাড়ে বারটার দিকে নোয়াখালী-২ আসনের সেনবাগ উপজেলার কাবিলপুর ইউনিয়নের উত্তরসাহাপুর মোল্লা বাড়ির সামনে বিএনপির প্রার্থী জয়নুল আবদিন ফারুকের গণসংযোগে ৫০-৬০ জনের একটি দল হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় দুই পক্ষে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও পাল্টাপাল্টি হামলা হয়। খবর পেয়ে বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে ফারুককে বিজিবি সদস্যরা উদ্ধার করে তাঁর বাড়িতে পৌঁছে দেন।

এই ঘটনার পর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন ডেকে জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, ‘প্রশাসন যদি তাঁর নিরাপত্তা না দেয়, তা হলে তিনি নির্বাচনী প্রচারণা থেকে সরে দাঁড়াবেন।’

বিএনপির প্রার্থী জয়নুল আবদিন ফারুক অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থীর লোকজন আকস্মিক তাঁর গণসংযোগে সশস্ত্র হামলা চালায়। হামলায় তাঁর ১০ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। তিনি ফোন করার পর বিজিবি ও পুলিশ এসে উল্টো তাঁর নয় জন-কর্মীকে আটক করে।

সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপির প্রার্থীর গণসংযোগে গন্ডগোলের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় পুলিশ চারজনকে আটক করে। তাঁরা পূর্বের মামলার আসামি।

Facebook Comments

" রাজনীতি " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ