Foto

বিএনপি নেতারা নিশ্চুপ, স্বস্তি গণফোরামে


বিএনপির ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত দলটির নেতারা। আকস্মিকভাবে দলের চার এমপিকে শপথ নেওয়ার অনুমতি দেওয়ায় এবং মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামকে বিরত রাখায় তারা হতাশ, বিস্মিত ও হতবিহ্বল। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান একক ক্ষমতাবলে এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেবেন- শীর্ষ নেতারা তা ভাবতেও পারেননি। এ পরিস্থিতিতে প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া দেওয়ার ক্ষেত্রেও সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন তারা।


এদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে "আশঙ্কা" ব্যক্ত করা হয়েছে, বিএনপি শিগগিরই ভাঙনের মুখে পড়ছে। বিএনপি নেতারা এ সম্পর্কে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া বা মন্তব্য করেননি। তবে স্থায়ী কমিটির এক সদস্য সমকালকে জানিয়েছেন, দলের সিদ্ধান্তে তাদের এমপিরা শপথ নিয়েছেন-এর বাইরে তার কোনো কথা নেই। নির্বাচনসহ সব বিষয়েই তাদের ফোরামে আলোচনার সুযোগ আছে। সেখানেই কথা হবে।

এমন প্রেক্ষাপটে আগামীকাল শনিবার বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক হবে। এতে শীর্ষ নেতারা নিজেদের অভিমত তুলে ধরবেন। বৈঠকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও স্কাইপের মাধ্যমে সংযুক্ত থাকতে পারেন।

বিএনপির শীর্ষ নেতারা জানাচ্ছেন, নানা চাপ ও কৌশলগত কারণে জাতীয় সংসদে শপথের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও দলের অন্য কোনো পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসছে না। ক্ষমতাসীন সরকার ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অধীনে আর কোনো নির্বাচনে অংশ নেবে না এ দল। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ না নেওয়ায় ইসির শূন্য ঘোষিত বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনেও যাচ্ছে না বিএনপি।

দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিএনপির এমপি জাহিদুর রহমান (ঠাকুরগাঁও-৩) ২৬ এপ্রিল সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন। এ কারণে তাকে বহিস্কারও করা হয়। তবে সাংবিধানিকভাবে শপথ নেওয়ার শেষ দিন ২৯ এপ্রিল মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়া অন্য চার এমপি উকিল আব্দুস সাত্তার (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২), হারুনুর রশীদ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩), আমিনুল ইসলাম (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২) ও মোশাররফ হোসেন (বগুড়া-৪) শপথ নেন। পরে দলটির পক্ষ থেকে বিএনপি মহাসচিব সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশেই বিএনপি সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

স্থায়ী কমিটির একজন নেতা জানান, শপথ নেওয়ার সিদ্ধান্তে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তাদের এতদিনের রাজনীতি ও আদর্শ হুমকির মুখে পড়েছে। সারাদেশে সমালোচনার ঝড় বইছে। কেন ও কীভাবে এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তার কিছুই জানেন না তারা। এ অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে অনেক সময় লাগবে দলের। রাজনৈতিক ও মানসিকভাবে নেতারা যে ধাক্কা খেয়েছেন, তা সামলে তৃণমূলে যেতে হবে। তবে এটা কিছুটা সময়সাপেক্ষ বিষয় বলেও জানান তিনি।

এ পরিস্থিতিতে দলের স্থায়ী কমিটির নেতারা প্রকাশ্যে সংবাদ মাধ্যমকে এড়িয়ে চলছেন। কোনো ধরনের মন্তব্য করছেন না তারা। তবে ঘরোয়াভাবে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি, তার রাজনীতি ও নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা শঙ্কা প্রকাশ করছেন। তবে তাদের ক্ষোভ ও হতাশা যাতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য বক্তব্য-বিবৃতি দেওয়া থেকে দূরে থাকছেন তারা

শপথ নেওয়া সম্পর্কে দলের স্থায়ী কমিটির আরেকজন সদস্য জানান, পরিবারের সন্তান অভিভাবকদের অমতে কোনো অপকর্ম করলেও মান-ইজ্জতের ভয়ে তারা তা মেনে নিতে বাধ্য হন। বিএনপির ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। নির্বাচিত একজন এমপির নাম জানিয়ে তিনি বলেন, ওই এমপির নেতৃত্বে আরও দুইজন শপথ নেওয়ার বিষয়ে শতভাগ তৈরি ছিলেন। এক অর্থে তারা দলের নেতৃত্বকেই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। শেষ পর্যন্ত তাদের শপথকে দলের পক্ষ থেকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন তিনি।

ফুরফুরে মেজাজে গণফোরাম :জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান শরিক বিএনপির নির্বাচিত এমপিরা শপথ নেওয়ায় ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন গণফোরামের নেতাকর্মীরা। এতে ভাগ্যের চাকা ঘুরতে পারে গণফোরামের দুই এমপির। দল ও জোটের সিদ্ধান্ত অমান্য করে শপথ নেওয়ায় বহিস্কৃত হন সুলতান মোহাম্মদ মনসুর। একই কারণে শোকজ করা হয় মোকাব্বির খানকে। বিএনপির এমপিরা শপথ নেওয়ায় অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থায় ফিরে এসেছে গণফোরাম। এ পরিস্থিতিতে তাদের এমপিদের বিরুদ্ধে নেওয়া সাংগঠনিক ব্যবস্থা পাল্টাতে পারে।

সূত্রমতে, সুলতান মোহাম্মদ মনসুরকে বহিস্কার করায় তাকে আর গণফোরামে ফেরানোর পক্ষে না থাকলেও মোকাব্বির খানকে শোকজের জবাবের ভিত্তিতে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। তবে দলের আরেকটি অংশ চাইছে, দুইজনকেই ফিরিয়ে আনা হোক। এতে জাতীয় সংসদে দলের প্রতিনিধিত্ব বাড়বে।

এ প্রসঙ্গে গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী সমকালকে বলেন, শপথ নিয়ে তাদের জোট ও দলের মধ্যকার সংকট দূর হয়েছে। বিএনপির সাংসদরা শপথ নেওয়ায় গণফোরামে সৃষ্ট সমস্যার অনেকটাই দূর হয়েছে। এতদিনের টানাপড়েন শেষ হওয়ায় তারা নতুন উদ্যমে কাজ করতে পারবেন। সাংসদ মোকাব্বির খানের বিষয়ে কেন্দ্রীয় কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন সুব্রত।

গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য জগলুল হায়দার আফ্রিক বলেন, "সবকিছু পাল্টে গেছে। এ অবস্থায় দল থেকে নির্বাচিত দুই সদস্যের বিষয়ে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা হবে কি-না, তা এককভাবে বলতে পারব না। তবে শিগগিরই দলীয় ফোরামে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত আসতে পারে।"

এ প্রসঙ্গে দল থেকে বহিস্কৃত সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ বলেন, "৭ মার্চ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, তা সঠিক ছিল। বিএনপির সংসদে যোগদানের মাধ্যমে তা প্রমাণিত হয়েছে।"

মোকাব্বির খান সমকালকে জানান, তিনি গণফোরামেই আছেন। দলের বাইরে থাকার সুযোগ নেই, প্রশ্নও ওঠে না। তিনি বলেন, গণফোরামের প্রতীক "উদীয়মান সূর্য" নিয়ে ভোট করে জয়ী হয়েছি। জনগণের কথা ভেবেই সংসদে যোগ দিয়েছি।

Facebook Comments

" রাজনীতি " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ