Foto

বিএনপি নির্বাচন ফোবিয়ায় ভুগছে


আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি আসলে নির্বাচন ফোবিয়ায় (ভীতি) ভুগছে। নির্বাচনে হারতে হারতে তারা এখন জয়ের আশাই ছেড়ে দিয়েছে। বয়কট করলে তো অন্তত বলতে পারবে যে, তারা হারছে না। হেরে যাবে এটা অবধারিত জেনেই উপজেলাসহ সামনের নির্বাচনগুলোও তারা বয়কট করতে পারে।


আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। উপজেলা নির্বাচনের দলীয় মনোনয়ন ফরম বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি।

বিএনপি না আসায় উপজেলা নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে কি-না— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগ পর্যন্ত বলা যাচ্ছে না, কারা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে আর কারা নিচ্ছে না। তবে জাতীয় নির্বাচনের মত উপজেলা নির্বাচনের ট্রেনও কারও জন্য থেমে থাকবে না। উপজেলা নির্বাচনের ট্রেনও আপনগতিতে চলতে থাকবে। তবে বিএনপি দলীয়ভাবে নির্বাচন না করলেও তাদের অনেক প্রার্থী স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করতে পারেন।

পুনর্নির্বাচনের দাবিতে বিএনপির কালোব্যাজ ধারণের কর্মসূচি ঘোষণাকে কীভাবে দেখছে আওয়ামী লীগ— জানতে চাইলে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের জন্য বিএনপির কালো ব্যাজ ধারণ কর্মসূচি। পরাজয়টা এতই শোচনীয়, এত বড় একটা দল জাতীয় নির্বাচনে খুব কম কেন্দ্রেই তারা এজেন্ট দিতে পেরেছে। এজেন্ট দেওয়ার মত ক্ষমতা তাদের ছিল না। বিএনপির অনেকে কেন্দ্র পাহারা দেওয়ার জন্য হুঁশিয়ারি দিলেও নির্বাচনের দিন তাদের ভোটকেন্দ্রে দেখা যায়নি। এটাই তো তাদের সাহসের দৌড়।

কাদের বলেন, চরম ব্যর্থতার জন্য কালো ব্যাজ ধারণ করলে বিএনপি ভালো থাকবে। ওখান থেকে তাদের কর্মীরা এবং জনগণও জানতে পারবে কেন তারা কালো ব্যাজ ধারণ করেছে।

জাতীয় নির্বাচনের মত হবে উপজেলা নির্বাচন— সিইসির এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ’৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে। সিইসির সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশের সুযোগ কোথায়? জাতীয় নির্বাচন যেভাবে হয়েছে, উপজেলা নির্বাচনও তফসিল অনুযায়ী হবে। এতে দ্বিমত প্রকাশ এর কোনো সুযোগ নেই।’

বিএনপির সমাবেশ পিছিয়ে দেওয়া নিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ’অনুমতি না পেয়ে সমাবেশ বন্ধ করেছে— এমন অভিযোগ অন্তত পাচ্ছি না। অনুমতির জন্য কোনো অসুবিধা হবে না। তারা যখনই অনুমতি চাইবে, তখনই সমাবেশের অনুমতি পেয়ে যাবে। তবে রাস্তায় কোনো সভা-সমাবেশ করতে পারবে না। সেটা শুধু বিএনপি নয়, আওয়ামী লীগের জন্যও প্রযোজ্য। বিএনপি পূর্ব অনুমতি নিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করুক। সভা তারা করছে না, তাদের নিজেদের কারণে।’

উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এমপি বা মন্ত্রীর আত্মীয়স্বজনদের মনোনয়ন দেওয়ার পক্ষে নন তিনি। এমপি-মন্ত্রীরা নিজেরাই তো আছেন, আবার তাদের আত্মীয়স্বজনদের টানবেন কেন?

আরেক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ’কোনো অভিযোগ থাকলে মনোনয়ন বোর্ড খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেবে। এখানে কার ভাই, কার বোন, কার ছেলে— সেটা বিষয় নয়। প্রশ্নে হচ্ছে কার জনপ্রিয়তা বেশি, কে উইনেবল। তাদের আমরা মনোনয়ন দেব। আবার কোনো উপজেলায় নিয়ম অনুযায়ী নাম এলে, প্রার্থীর জনপ্রিয়তা থাকলে, দলের ভূমিকাটা আত্মীয়তার জন্য ঢাকা পড়বে— এটাও ঠিক নয়।’

বিএনপি উপজেলা নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় আওয়ামী লীগ প্রতিদ্বন্দ্বিতা উন্মুক্ত করবে কি-না— জানতে চাইলে সেতুমন্ত্রী বলেন, ’উন্মুক্তই যদি করবো তাহলে এতো আয়োজন করে মনোনয়ন ফরম বিতরণ কেন?’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোল্লা মো. আবু কাওছার প্রমুখ।

Facebook Comments

" রাজনীতি " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ