Foto

বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীর লাশ বুড়িগঙ্গায়


একাদশ সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের মনোনয়নপ্রত্যাশী যশোর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আবু বকর আবুকে হত্যার পর লাশ বুড়িগঙ্গা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি অভিযোগ করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তুলে নিয়ে যাওয়ার পর চারবারের ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু বকর আবুর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। বৃহস্পতিবার বুড়িগঙ্গা নদীতে তার লাশ পাওয়া গেছে। তাঁকে নির্মমভাবে হত্যার পর লাশ বুড়িগঙ্গায় ফেলে দেয় হত্যাকারীরা।


গত বৃহস্পতিবার রাতে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন রুহুল কবীর রিজভী।

সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবীর রিজভী বলেন, আবু বকর আবু বিএনপির মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সাক্ষাৎকার দেওয়ার জন্য ঢাকার একটি হোটেলে তিনি ছিলেন। গত রোববার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তুলে নেওয়ার পর তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। বুড়িগঙ্গা নদীতে তার লাশ পাওয়া গেছে। একজন জনপ্রতিনিধি আবু বকর আবুকে নির্মমভাবে হত্যা করার পর লাশ বুড়িগঙ্গায় ফেলে দেয় হত্যাকারীরা। কোটা সংস্কার আন্দোলনে এভাবেই একজন আন্দোলনকারীর লাশ ভেসে উঠেছিল বুড়িগঙ্গায়। সরকার এখন আগুন নিয়ে খেলা শুরু করেছে। আবু বকর আবুর মতো জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধিকে হোটেল থেকে তুলে নেওয়া হলো, আর গায়েব করে হত্যা করার মাধ্যমে তার লাশ বুড়িগঙ্গায় ফেলা দেওয়া হলো। বর্তমান সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় এজেন্সির মাধ্যমে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। প্রতিদিনই বিএনপি নেতা-কর্মীদের গুম করা হচ্ছে। হত্যা করে লাশ নদী, খাল-বিল কিংবা রাস্তার ধারে ফেলে দেওয়া হচ্ছে।

রুহুল কবীর রিজভী আবু বকর আবুর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানান। অবিলম্বে হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবিও জানান তিনি।

রুহুল কবীর রিজভী অভিযোগ করে বলেন, শাহবাগ থানাধীন ২০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ঢাকা মেডিকেল ইউনিটের সভাপতি মো. আজিমকে বৃহস্পতিবার দুপুরে সাদা পোশাকধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আটক করে নিয়ে গেছেন। তারা এখন পর্যন্ত তা স্বীকার করছেন না। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজ নিলেও আজিমের সন্ধান মেলেনি। অবিলম্বে মো. আজিমকে জনসমক্ষে হাজির করার জোর দাবি জানান তিনি।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, সূত্রাপুর থানা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুস সাত্তার, ৪৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি কাউসার আহমেদ, সূত্রাপুর থানা বিএনপি নেতা মজিবুর রহমান আনু এবং শ্রমিক দল সূত্রাপুর থানা শাখার সহসভাপতি দেলোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি গ্রেপ্তারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে মুক্তির জোর দাবি জানান।

Facebook Comments

" রাজনীতি " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ