Foto

বাংলাদেশে দুই কোটি মানুষ মানসিক রোগে আক্রান্ত


বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে বুধবার জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এই তথ্য তুলে মনোরোগ চিকিৎসকের অপ্রতুলতার কথাও বলা হয়। অনুষ্ঠানে মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক ফারুক আলম বলেন, “দেশে সোয়া দুই কোটি মানসিক রোগে আক্রান্ত হওয়ার কথা জরিপ চালিয়ে জানা গেছে। আর সারাদেশে মনোরোগ চিকিৎসক রয়েছেন মাত্র ২৩০ জন। এই অপ্রতুল চিকিসকের কাছে থেকে মাত্র ১৫ থেকে ২০ শতাংশ রোগী সেবা পাচ্ছেন।”


অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধে মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে ১৮ বছরের বেশি বয়সী ১৬ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ মানুষ মানসিক রোগে ভুগছে। এই বয়সের চেয়ে কম বয়সীদের মধ্যে রয়েছে ১৮ দশমিক ৪ শতাংশ।

কিশোরদের মনোবিকাশ নিয়ে সমাজে সচেতনতার অভাবের কথা বলেন এই চিকিৎসক। তিনি আরও বলেন, বাবা-মায়ের পারিস্পরিক দ্বন্দ্বের কারণে এর প্রভাব গিয়ে পড়ছে সন্তানের উপর।

মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক ডা. হেদায়েতুল ইসলাম বলেন, “মানসিক রোগ বেড়ে গেলেও তা মোকাবেলায় আমাদের প্রস্তুতি অপ্রতুল।”

সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক বলেন, “আমাদের অনেক মেধাবী ডাক্তার থাকা সত্ত্বেও তাদেরকে গ্রামাঞ্চলে পাঠানো যাচ্ছে না। এ কারণেই চিকিসা সেবা সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।”

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. এ এইচ এম এনায়েত হোসেন, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব সাইকিয়াট্রিস্ট-এর সভাপতি ডা. মো. ওয়াজিউল আলম চৌধুরী, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. গোলাম রবাবানী বক্তব্য রাখেন।
ঢাবিতে প্রদর্শনী-কর্মশালা

মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজন করা হয়েছে তিন দিনব্যাপী উন্মুক্ত মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রদর্শনী, সেমিনার ও কর্মশালা।

‘পরিবর্তনশীল বিশ্বে তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য’ প্রতিপাদ্য নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি অ্যান্ড কাউন্সেলিং বিভাগ, ন্যাশনাল ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টার, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে এর আয়োজন করা হয়।

বুধবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তনে কর্মসূচি উদ্বোধন করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি।

বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মাহমুদুর রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাছিমা বেগম।

অনুষ্ঠানে ‘পরিবর্তনশীল বিশ্বে তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মো. জহির উদ্দিন।

মূল প্রবন্ধে মো. জহির উদ্দিন মানসিক সমস্যার লক্ষণ এবং এর কারণ তুলে ধরেন। তিনি মানসিক সমস্যার ফলে সৃষ্ট পারিবারিক ও সামাজিক বিভিন্ন সমস্যার বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন।

বাংলাদেশে সাইক্রিয়াটিস্টদের সংখ্যা কম বলে তা থেকে উত্তরণে ডিপ্লোমা কোর্স চালুর পরামর্শ দেন তিনি।

অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের ড. মুহাম্মদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, "তরুণদের মানসিক সমস্যা এখন গুরুত্ব দিয়ে ভাববার বিষয়। বিশ্ব বর্তমানে এগিয়ে যাচ্ছে, পরিবর্তন হচ্ছে। এই পরিবর্তনের জন্যে তরুণ সমাজ তৈরি কিনা সেটি দেখার বিষয়। বর্তমান সমাজে বড় পরিবারগুলো ভেঙে ছোট পরিবার হয়ে যাওয়ার প্রবণতার কারণে এর প্রভাব পরিবারের শিশুদের উপর পড়ছে।”

তিনি বলেন, “আগে শিক্ষকরা শিশুদের কিছু বললে এ নিয়ে কিছুক্ষণ মন খারাপ করে থাকলেও বন্ধুদের সাথে খেলাধুলা করে সব ভুলে যেত। কিন্তু বর্তমানে শিশুদের কিছু বলা হলে তারা একা নির্জন ঘরে এসব তাকে কেন বলা হলো তা নিয়ে ভাবে। ফলে তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

“বর্তমানে মানুষ উন্নত জীবন যাপনের জন্য অর্থের পেছনে ছুটতে থাকে। ফলে তারা শিশুদের সময় দিতে পারেন না। শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নের তাদের সাথে ‘কোয়ালিটি’ সময় ব্যয় করতে হবে। অনেক সময় শিশুরা অনেক বিষয় নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকে যা তারা তাদের বাবা-মাকে বললেও তারা অনেক সময় গুরুত্ব দেন না। এত শিশুরা একা হয়ে পড়ে যা তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে।"

মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে সরকারি হাসপাতালে সীমিত পরিসরে ১০ টাকার টিকিটের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা চালু করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি পাবনায় অবস্থিত মানসিক হাসপাতালের মতো আরেকটি মানসিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব করেন।

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী চুমকি বলেন, "অতিরিক্ত প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে আমাদের দেশের মানুষের, বিশেষ করে তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য খারাপ হচ্ছে। আমাদের এ কারণে আরও সাইক্রিয়াটিস্ট থাকা উচিত। প্রত্যেক হাসপাতালে সাইক্রিয়াটিস্ট থাকা উচিত।”

মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক এ প্রদর্শনী ও কর্মশালা চলবে ৯, ১০ এবং ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত।

 

Facebook Comments

" সুস্বাস্হ্য " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ