Foto

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শামীমার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিল


বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শামীমা বেগমের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিল করেছে যুক্তরাজ্য। মঙ্গলবার পূর্ব লন্ডনে বসবাসরত শামীমার মায়ের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভেদ।


শামীমার আইনজীবী তাসনিম আখঞ্জি গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান। শামীমা হোম অফিসের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন বলেও চিঠিতে জানানো হয়।

অন্যতম শীর্ষ ব্রিটিশ নিউজ চ্যানেল আইটিভি তাদের অনলাইন সংস্করণে শামীমার মায়ের কাছে লেখা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠিটি প্রকাশ করেছে।

চিঠিতে শামীমার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত জানিয়ে বলা হয়, আপনার মেয়ের সর্বশেষ অবস্থা পর্যালাচনা করে তার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন হোম সেক্রেটারি। চিঠির সাথে সংযুক্ত ডকুমেন্টটি এ বিষয়ক। সিরিয়া রিফিউজি ক্যাম্পে অবস্থানরত শামিমাকে এ তথ্য জানানোর পরামর্শও দেওয়া হয়।

চিঠির বিষয়টি উল্লেখ করে শামিমার আইনজীবী তাসনিম আখঞ্জি এক টুইট বার্তায় বলেন, শামীমার নাগরিকত্ব বাতিলের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে তার পরিবার মর্মাহত। তিনি জানান, বিষয়টি আইনগত চ্যালেঞ্জের জন্য তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এর আগে, গত রোববার শামীমার পরিবারের আইনজীবী মোহাম্মদ তাসনিম আখুঞ্জি জানান, তারা জানতে পেরেছেন সিরিয়ায় শামীমা একটি সন্তানের জন্ম দিয়েছেন এবং শিশুটি সুস্থ আছে।

আইনজীবী মোহাম্মদ তাসনিম আখুঞ্জি বলেন, এখনও শামীমার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা যায়নি। তবে জেনেছি একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দিয়েছে শামীমা। ১৯ বছরের শামীমার এটি তৃতীয় সন্তান। তার আগের দুটি সন্তানই অপুষ্টি এবং বিনা চিকিৎসায় মারা গেছে। সিরিয়ায় গিয়ে এই তরুণী নেদারল্যান্ডস থেকে আসা একজন আইএস যোদ্ধাকে বিয়ে করেছিলেন। মাত্র ১৫ বছর বয়সে বাংলাদেশি অধ্যুষিত পূর্ব লন্ডনের বেথনাল গ্রিন এলাকা থেকে আরও দু’জন বান্ধবীসহ আইএসে যোগ দিতে সিরিয়ায় পালিয়ে গিয়েছিলেন শামীমা বেগম।

গত সপ্তাহে লন্ডনের দৈনিক দ্য টাইমসের একজন সাংবাদিক সিরিয়ার একটি শরণার্থী শিবিরে শামীমা বেগমের খোঁজ পান। তার বয়স এখন ১৯ এবং তিনি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। ওই সাংবাদিকের মাধ্যমে তিনি ব্রিটিশ সরকারের কাছে আবেদন করেন যে তার আগত শিশু সন্তানের কথা বিবেচনা করে তাকে যেন ব্রিটেনে ফেরত আসতে দেওয়া হয়। এরপর থেকে ব্রিটেনে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয় যে, নিষিদ্ধ একটি জঙ্গি সংগঠনে যোগ দিতে যাওয়া এই তরুণীকে ফেরত আসতে দেয়া উচিত কি না।

সরকারের একজন মন্ত্রী জেরেমি রাইট সে সময় বিবিসিকে বলেছিলেন, শামীমা বেগমের সন্তানের নাগরিকত্ব সহজ বিষয় নয়। তিনি বলেন, তাকে (শামীমা) তার কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহি করতে হবে। শামিমাকে এ জন্য জবাবদিহি করতে হবে। ব্রিটেন থেকে যে কয়েকশ মুসলিম ছেলে-মেয়ে আইএসে যোগ দিতে সিরিয়া ও ইরাকে গিয়েছিল, তাদেরকে ফিরে আসতে দেয়া না দেয়া নিয়ে তখন থেকেই বিতর্ক চলছিল।

অবশ্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভেদ বিতর্ক শুরু হওয়ার পরই বলেছিলেন, আইএসে যোগ দিতে যাওয়া তরুণ-তরুণীরা যাতে না ফিরতে পারে সে চেষ্টা করে যাবেন তিনি। শামিমার নাগরিকত্ব বাতিলের মাধ্যমে তার সেই চেষ্টাই প্রতিফলিত হলো।

গত সপ্তাহে তুমুল লড়াইয়ের মধ্যে শামীমা বেগম আইএসের নিয়ন্ত্রণাধীন সর্বশেষ এলাকাটি থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন। তার স্বামী আত্মসমর্পণ করেছে বলে তিনি জানান।

Facebook Comments

" লাইফ স্টাইল " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ