Foto

ফ্রিলেন্সিং নিয়ে যত ভুল ধারনা: ফ্রিলেন্সার ওবায়দুল হক


প্রতি ক্লিকেই টাকা আয় - এমন লোভ কয়জনই বা সামলাতে পারে? ভুয়া স্ক্যাম সাইট থেকে নিজেকে বাচান। ফ্রিলেন্সিং নিয়ে অনলাইনে অনেক ভুল তথ্য দেয়া আছে। সত্যিকারের ফ্রিলেন্সার হয়ে উঠতে হলে আপনাকে প্রফেশনাল কাজে দক্ষ হয়ে উঠতে হবে। রিয়েল বায়ার খুজে নিতে হবে ট্রাষ্টেড ফ্রিলেন্স মার্কেটপ্লেস থেকে।


অনলাইনে আয় করার অনেক মাধ্যম থাকলেও সব গুলো সঠিক নয়। অনেকে বলবে যে, ক্লিক করলেই টাকা আয় করা যায়। কিংবা অমুক এপস টি আপনার এন্ড্রোয়েড ফোনে ইনসটল দিলেই আপনি টাকা আয় করতে থাকবেন। বিকাশে টাকা দেয়া হবে। ক্লিক করবেন আর টাকা আয় করবেন। এগুলো সবই ভুয়া। বিশেষ করে ইউটোবে ফ্রিলেন্সিং নিয়ে সব থেকে ভুল তথ্য দেয়া আছে। অনেক ভিডিও দেখবেন যেগুলোতে অনলাইনে আয় করাকে পানি পান করার চেয়েও সহজ করে দেখানো হয়েছে। মনে রাখবেন, এটা প্রতারণা করার কৌশল মাত্র। সহজে আয় করার ধান্দা ছাড়তে পারলেই এসব প্রতারক থেকে বাচতে পারবেন।

প্রথমেই চিন্তা করুন, যে কাজটি করে আপনাকে টাকা দেয়ার কথা বলা হচ্ছে সেই কাজটা কতটা বাস্তবসম্মত। ধরুন একজন আপনাকে বলল তাকে এরকম একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে দিলে সে আপনাকে এতো টাকা দিবে। কাজটি বাস্তব সম্মত। কেননা যে কেউ তার নিজের জন্য কিংবা তার কোম্পানীর প্রসারের জন্য ওযেবসাইট তৈরি করা প্রয়োজন। কাজটি করতে অবশ্যই আপনার মেধার প্রয়োগ করতে হবে। আপনাকে ডেভোলাপিং জানতে হবে। এই কাজের জন্য অবশ্যই সে আপনাকে পারিশ্রমিক দিবে বাস্তব সম্মত ভাবেই। কেউ আপনাকে বলল , তাদের একটি প্রডাক্টের জন্য কন্টেন্ট লিখে তা ক্যাম্পেইন করে দিতে হবে। এই কাজটিও বাস্তব সম্মত ভাবেই আমরা রিয়েল আর্নিং মেথড হিসেবে ধরে নিতে পারি। আর যারা বলে ক্লিক করলেই টাকা তারা কি জন্য আপনাকে টাকা দিবে একটু চিন্তা করুন। আপনাকে দিয়ে ক্লিক করিয়ে নিয়ে আসলে তারাই টাকা কামাবে। টাকা আয় করা এতো সহজ নয় যে আপনি ক্লিক করলেন আর টাকা আয় হয়ে গেল। এরকম হলে দেশে কোন বেকার থাকত না।

তারপর চিন্তা করে দেখুন, আপনাকে লোভ দেখানো হচ্ছে কি না। আপনাকে উপযুক্ত পরিশ্রমিক দেয়ার কথা বলা হচ্ছে কি না সেটা ভেবে দেখতে হবে। অনেকেই দেখবেন তার কাজের মানের থেকে আপনাকে অনেক বেশী পারিশ্রমিক দেয়ার লোভ দেখাবে। ধরুন সাধারণ মানের একটি ওয়েবসাইট ৭০ ডলার থেকে ২০০ ডলার আবার উন্নত মানের একটি ওয়েবসাইটের খরচ ২৫০ ডলার থেকে ৫০০০ ডলার হতে পারে। কিন্তু সাধারণ মানের একটি ওয়েবসাইট এর জন্য যদি আপনাকে কেউ বলে ৫০০ ডলার দিবে তবে সেটা ভূয়া। তেমনী একটি ক্লিকের জন্য কেউ যদি আপনাকে ১০ সেন্ট থেকে ২ ডলার অফার করে তবে সেটা ভূয়া। আপনার ক্লিকের মধ্যে এমন কি আছে যে তার জন্য আপনাকে এতো টাকা দিবে। কেউ কেউ বলতে পারে, আপনার ক্লিকের মধ্য দিয়ে অন্য একটি প্রডাক্টের মার্কেটিং হবে তাই আপনি টাকা আয় করবেন। বিষয়টি আসলে সত্য নয়। মার্কেটিং এতো সহজ বিষয় নয়। আর ক্লিকের মূল্য এতো টাকা হতেই পারে না। তাই নিজের বিচার বুদ্ধির প্রয়োগ করে দেখুন কাজটি করে আপনি কোন ফাঁদে পড়ছেন না তো?

সাইটের সর্বশেষ আপডেট দেখুন। গুগলি করেও দেখতে পারেন। আবার সাইটের ব্লগপোষ্ট , ফোটার এসব দিকে একটু লক্ষ্য রাখুন। যদি সেখানে রিসেন্ট আপডেট কোন ডাটা না থাকে তবে সেটা ভূয়া।

আসলে আমরা একটু সতর্ক হলেই ভূয়া সাইটগুলো সনাক্ত করতে পারি। এগুলোর পেছনে সময় ব্যায় না করে আমরা অনলাইনে আয়ের রিয়েল ওয়েগুলো নিয়ে সময় ব্যায় করলে একটা সময় আর্নিং আসবেই।


কয়েকদিন আগে একজন ফেইসবুকে আমাকে নক দিয়ে বললেন একটি ওয়েবসাইটে সাইন আপ করতে হবে। এরকম রিকুয়েষ্ট আসলেই আমার মাথা গরম হয়ে যায়। তবুও আমি মাথা ঢান্ডা রেখেই জানতে চাইলাম এটা কিসের লিংক। উনি বললেন এই সাইটে সাইন আপ করলেই ২ ডলার পাবো। তার পর একজন ভিজিটর সেন্ড করলেই ১ ডলার। ৪০ ডলার হলেই টাকা উঠানো যাব. . . ব্লা ব্লা ব্লা,... উনার কথা শুনেই আমি বুঝে যাই যে প্রক্রিয়াটি ভূয়া। আমি বললাম আপনি কত টাকা আয় করেছেন। উনি বললেন উনি একবার উইথড্রো করেছেন। আমার বুঝতে বাকি রইল না উনি মিথ্যে বলছেন। আমি সাইটটিতে ভিজিট করলাম এবং দেখলাম সাইটটি লাষ্ট আপডেট হয়েছে ২০১৩ সালে। আমি উনাকে বললাম, আপনি মিথ্যে বলছেন। উনি আমার কথা চ্যালেঞ্জ করে উনার আয়ের প্রমাণ দেখালেন। আমি বুঝলাম পিকটি উনি গুগলি করে কালেক্ট করে আমাকে দেখাচ্ছে। উনার পিকটি গুগল ইমেজ সার্চেও পেয়ে গেলাম। আমি উনাকে আর সেই বিষয়টি নিয়ে কথা না বলেই বললাম। আপনি যেহেতু ৪০ জন রিয়েল ভিজিটর পেলেই ৪০ ডলার আয় করতে পারবেন এবং টাকা উঠাতে পারবেন তাহলে আপনি আপনার রেফার আইডি আমাকে দিন। আমি ১ ঘন্টার মধ্যেই আপনার লিংকে ৪০ জনের অধিক ভিজিটর পাঠাচ্ছি। আপনি ৪০ ডলার আয় করে আমাকে ১ ডলার দিলেই হবে। আপনার লাভ ৩৯ ডলার কোন কাজ না করেই। উনি রাজি হলেন। আমার নিজস্ব সারভার আছে যেখান থেকে ভিজিটর প্রবাইড করতে পারি। এই কাজটি সহজেই করে ফেলি এবং উনাকে আইপি লিষ্ট সেন্ড করি যে আইপি গুলা উনার রেফার থেকে ভিজিট করেছে। তারপর ২/৩ ঘন্টার মতো উনি ট্রাই করলেন এবং টাকা উঠাতে না পেরে আমার কাছে ক্ষমা চাইলেন। আসলে আমরা আমাদের বোকামির জন্যই ধরা খাই। অনেকেই আছে যারা ৪০ জন ভিজিটর সেন্ড করতে ৩/৪ দিন কাজ করে যাবে। পরে যখন ব্যার্থ হবে এবং সাইটটি ভূয়া দেখবে তখন হতাশা ছাড়া তার জন্য আর কি বা বাকী থাকে। আমার এই আরটিকোলটি পড়ে একজনও যদি নিজেকে ভূয়া আর্নিং থেকে দূরে রাখে এবং রিয়েল আর্নিং এ টাকা আয় করতে চেষ্টা করে তবে আমার লেখাটি সার্থক হবে এবং তার চেষ্টা যেন আল্লাহ উত্তম কাজ হিসেবেই কবুল করেন সেই দোয়া করি।

কোথায় পাব রিয়েল কাজ?
রিয়েল কাজ পাওয়ার আশা করার আগে আপনাকে ভালোভাবে প্রফেশনাল কাজ জানতে হবে। এসইও , ইমেল মার্কেটিং, ভিডিও এডিটিং , ওয়েব ডিজাইন ও ডেবলাপমেন্ট , এপস ডেভলাপমেন্ট , গ্রাফিক্স ডিজাইন ইত্যাদি কাজ জানতে হবে। তাহলে আপনি কাজ পাওয়ার আশা করতে পারেন। কাজ পাবেন 99design.com, freelancer.com, upwork.com, peopleperhour.com, envato.com , fiverr.com, creativemarket.com, codegrape.com

এগুলোতে যে কাজগুলো পাবেন তার সবগুলো যে রিয়েল তাও কিন্তু নয়। সব সময় রিয়েল বায়ার খুজে পাওয়া একটু কষ্টকর হলেও অসম্ভব নয়। আসলে বায়ারের কাজের ডেসক্রিপশন দেখলেই বুঝা যায় এই কাজটি রিয়েল হবে কি না। কাজ করতে করতে এবং বায়ারদের সাথে কথা বলেই সেটা বুঝা যায়। বায়ারের প্রফাইল এবং পূর্বের কাজের রিভিউ দেখলেই আন্দাজ করা যায়।

লেখক - ওবায়দুল হক

ফ্রিলেন্স ওয়েব ডেভলাপার , সিলেট, বাংলাদেশ।

Mobile : 01718023759

Facebook; www.facebook.com/obaydul.shipon

Facebook Comments

" ফ্রিলেন্সিং " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ