Foto

ফাইনাল ফাঁড়া কাটুক আজ


উথালপাতাল ঢেউ পাড়ি দেওয়া নিকষ নিশির পর এমন তীর দেখা সকাল বাংলাদেশের ক্রিকেটে কম আসেনি। এক এক করে সংখ্যাটা এখন পর্যন্ত ছয়, সর্বশেষ ২০১৮-তেই তিন। কিন্তু কোনো এক অমীমাংসিত রহস্যে তীরের কাছাকাছি পৌঁছাতেই যাত্রা থমকে গেছে প্রতিবার। কূলে আর তরী ভেড়ানো হয়নি।


টানা ছয় প্রচেষ্টার সীমাহীন আক্ষেপের পর টাইগাররা এবার লাকি সেভেনে সওয়ার নবউদ্যমে। প্রথম শিরোপায় চোখ রেখে আজ আয়ারল্যান্ডের ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশ নামছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। ডাবলিনের ম্যালাহাইডে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকেল পৌনে ৪টায়।

ফাইনালের গেরো কাটাতে মাঠে নামার আগে বাংলাদেশ দল অবশ্য একাদশ নিয়েও চিন্তায় আছে। বুধবার লীগ পর্বের আয়ারল্যান্ড ম্যাচের সময় সাইড স্ট্রেইনের ব্যথায় মাঠ ছেড়ে গিয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। গতকাল অনুশীলনও করেননি তিনি। সমস্যা গুরুতর নয় বললেও টিম ম্যানেজমেন্ট ফাইনালে খেলার সিদ্ধান্ত তার ওপরই ছেড়ে দিয়েছে। সাকিব খেলুন আর না খেলুন, একাদশে অবশ্য বদল আসছেই। প্রধান নির্বাচক ও আয়ারল্যান্ডে টিম ম্যানেজারের দায়িত্বে থাকা মিনহাজুল আবেদীন নান্নু জানিয়েছেন, সেরা একাদশ নিয়েই মাঠে নামবে বাংলাদেশ। সেরা একাদশ বলতে ৭ মে উইন্ডিজের বিপক্ষে খেলা এগারোজনের দলটি। বিশ্বকাপ ভাবনার প্রথম পছন্দে থাকা একাদশটির সৌম্য সরকার, মুস্তাফিজুর রহমান, মোহাম্মদ মিঠুন ও মেহেদী হাসান মিরাজরা সর্বশেষ ম্যাচে বিশ্রামে ছিলেন। আজ তাদের সবারই একাদশে ফেরার কথা। তবে সাকিবের সম্ভাব্য অনুপস্থিতি নতুন কোনো ফরমেশনেও ফেলে দিতে পারে দলকে। তবে একাদশের ধরন শেষ পর্যন্ত যেমনই হোক, উইন্ডিজের বিপক্ষে বড় চ্যালেঞ্জে মোকাবেলার সক্ষমতা আছে সব খেলোয়াড়েরই; অন্তত আগের দুই ম্যাচের বার্তা ছিল এমনই। ত্রিদেশীয় সিরিজের লীগ পর্বে মোট চার ম্যাচ খেলার কথা থাকলেও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটি বৃষ্টিতে ভেসে গিয়েছিল। তবে উইন্ডিজের বিপক্ষে দুটি ম্যাচ হয়েছিল ঠিকঠাকভাবেই। আর সেই দুটি ম্যাচে ক্যারিবীয়দের এক প্রকার উড়িয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। প্রথমটিতে ২৬১ রানে আটকে দিয়ে ৮ উইকেটে আর দ্বিতীয়টিতে ২৪৭ রানে আটকে ৫ উইকেটে জিতেছিলেন মাশরাফিরা। এর আগে গত বছরের জুলাইয়ে ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে এবং ডিসেম্বরে বাংলাদেশের মাটিতেও জেসন হোল্ডারদের দ্বিপক্ষীয় সিরিজে হারিয়ে দিয়েছিলেন মাশরাফিরা। কেবল বাংলাদেশের বিপক্ষে নয়, ক্যারিবিয়ানরা কোনো দেশের বিপক্ষেই ২০১৪ সালের পর আর কোনো ওয়ানডে সিরিজ জিততে পারেনি। কোনো বহুজাতিক টুর্নামেন্টে না জেতার ঘটনা আরও পুরনো, সর্বশেষ ২০০৮ সালে। এমন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নামার আগে মানসিকভাবে এগিয়ে থাকছে বাংলাদেশ দলই। তবে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে শঙ্কার চোরাস্রোতও একেবারে কম নেই। বহুজাতিক টুর্নামেন্টের টানা ছয়টি ফাইনালে উঠেও যে শিরোপা জেতা যায়নি, সেই অস্বস্তির স্মৃতি কিছুটা হলেও তাড়া করে ফিরতে পারে। সর্বশেষ ২০১৮ সালে ঢাকায় শ্রীলংকা-জিম্বাবুয়েকে নিয়ে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজ, মার্চে কলম্বোয় ভারত, শ্রীলংকাকে নিয়ে অনুষ্ঠিত নিদাহাস ট্রফি আর সেপ্টেম্বরে আমিরাতে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপ- টানা তিন ফাইনালে হেরেছিল বাংলাদেশ। তারও আগে হেরেছিল ২০১২ ও ২০১৬ সালের এশিয়া কাপ এবং ২০০৯ সালের ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টের ফাইনালে। কখনও নিজেদের বাজে বোলিং-ব্যাটিং, কখনও একজন মুরালিধরন বা দিনেশ কার্তিকদের অতিমানবীয় ইনিংসের বলি হতে হয়েছে বাংলাদেশকে। বিশ্বকাপ স্কোয়াডের সাতজন না থাকা এই ক্যারিবীয় দল এ যাত্রায় কতটা কী চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠে, সেটি এখন দেখার বিষয়। আয়ারল্যান্ডের মাটিতে খেলা বলে দেখার আছে আবহাওয়াও। ডাবলিনের পূর্বাভাস বলছে, ম্যাচ ভেন্যু দ্য ভিলেজের ওপর দিয়ে বিকেলের দিকে বৃষ্টি হতে পারে। তবে গোটা ম্যাচ ভেসে যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

কমে যাক বাংলাদেশের হোঁচটের সম্ভাবনাও, রৌদ্দকরোজ্জ্বল হোক জয়ের সম্ভাবনা।

Facebook Comments

" ক্রিকেট নিউজ " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ