Foto

প্রযুক্তিনির্ভর লেনদেনে নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দেওয়ার পরামর্শ


প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক লেনদেনে নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ এসেছে বাংলাদেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিয়ে এক সম্মেলন থেকে। মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বাংলাদেশ ডিজিটাল ফাইন্যান্সসিয়াল ইনক্লুশন কনফারেন্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান থেকে এই পরামর্শ আসে।


অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রযুক্তির মাধ্যমে জনগণকে আর্থিক সেবা দেওয়ার অবকাঠামো ইতোমধ্যে তৈরি করেছে সরকার। এখন প্রযুক্তি জ্ঞান-সম্পন্ন মানবসম্পদ ও দক্ষ জনগোষ্ঠী দরকার।
আমরা খুব সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছি। যেন ডিজিটাল মাধ্যম কোনোভাবে বাধাপ্রাপ্ত না হয় বা কেউ যেন এটাকে প্রভাবিত করতে না পারে।”
এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “দুই বছর আগে যে দুর্ঘটনা ঘটেছিল, আমরা সেটা ভালোভাবেই মোকাবেলা করতে পেরেছি। আর্থিক লেনদেনে শক্ত নিরাপত্তা বিধান করতে পেরেছি।”

জাতিসংঘ ক্যাপিটাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (ইউএনসিডিএফ) আয়োজিত দিনব্যাপী এই সম্মেলনে ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন নিয়ে বেশ কয়েকটি সেশন অনুষ্ঠিত হয়।

১০ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভূক্তির খাত প্রসারিত হয়েছে মন্তব্য করে আবুল কালাম আজাদ বলেন, “এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে জনগণকে সেবা দেওয়া হচ্ছে। ২০২১ সালের মধ্যে সব আর্থিক প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ফাইন্যান্সিংয়ের আওতায় আসবে। আকষর্ণীয় পণ্য নিয়ে জনগণকে আকৃষ্ট করবে।”

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে ডিজিটাল অর্থনৈতিক অগ্রগতির নানাদিক তুলে ধরেন ব্র্যাকের অ্যাডভোকেসি ফর সোশ্যাল চেইঞ্জ বিভাগের পরিচালক কেএএম মোরশেদ।

অনুষ্ঠানে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসের সঙ্গে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের তুলনা করে বাংলাদেশে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের চিত্র তুলে ধরেন তিনি।

বর্তমানে ১৮টি ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে মোবাইলে আর্থিক সেবা দিচ্ছে উল্লেখ করে মোরশেদ জানান, ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে এক্ষেত্রে যেখানে এজেন্ট সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৭৭ হাজার ৯২০ জন, সেখানে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৬২ হাজার ১০৩ জনে।

“মোবাইল ব্যাংকিংয়ে গ্রাহক সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৭ লাখ ২৩ হাজার। আর ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে সেই সংখ্যা হয়েছে ৬ কোটি ৬৭ লাখ ৪২ হাজার।”

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব দেশে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের চিত্র

বিষয়

সেপ্টেম্বর ২০১৪

সেপ্টেম্বর ২০১৮

মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্টের সংখ্যা

৪ লাখ ৭৭ হাজার ৯২০জন

৮ লাখ ৬২ হাজার ১০৩

নিবন্ধিত মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহকারী

২ কোটি ৭ লাখ ২৩ হাজার জন

৬ কোটি ৬৭ লাখ ৪২ হাজার জন

লেনদেনের সংখ্যা

৫ কোটি ৪২ লাখ ১১ হাজার ৫৪৮টি

২০ কোটি ৫৯ লাখ ৬৮ হাজার টি

মাসিক লেনদেনের পরিমাণ

১০ হাজার ৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা

৩০ হাজার ১৬৫ কোটি ১৭ লাখ টাকা

গড়ে দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ

৩৩৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকা

১ হাজার ৫ কোটি ৫১ লাখ টাকা

 

শহরের চেয়ে গ্রামে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের বিস্তৃতি বেশি ঘটার চিত্র তুলে ধরে ব্র্যাকের এই কর্মকর্তা জানান, ১৮টি ব্যাংক ৩ হাজার ৯০২টি এজেন্ট ব্যাংকিং কেন্দ্র এবং ৫ হাজার ৭৯১টি আউটলেটের মাধ্যমে মাধ্যমে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছে। যার মধ্যে ৩ হাজার ৫৫১জন এজেন্ট ও ৫ হাজার ৩১৩টি আউটলেটের অবস্থান গ্রামে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব অরিজিত চৌধুরী অনুষ্ঠানে বলেন, “বাংলাদেশ এখন পুরোপুরিই ডিজিটাইজেশনে রূপান্তরিত হচ্ছে। আর্থিক খাতের উন্নয়নেও সরকার কাজ করছে। সরকারের সেবাদানকারি প্রতিষ্ঠান ও মন্ত্রণালয়গুলোও ইতোমধ্যে প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সেবা প্রদান করছে।”

তিনি বলেন, “ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন কৌশল নীতিমালায় ডিজিটালাইজেশনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এটাই আমাদের মূল বিষয়। ডিজিটাল ইকো-সিস্টেমকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।”

 

ইউএনসিডিএফ’র প্রোগ্রাম ম্যানেজার রাজিব কুমার গুপ্ত বলেন,  “আগামী ৫ বা ১০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের মানুষের বিপুল কর্মসংস্থানের প্রয়োজন। এর বিপরীতে প্রতি বছর ১ শতাংশ করে কৃষি জমি হ্রাস পাচ্ছে। এখন আমাদের ভবিষ্য কী?

“আধা-শিক্ষিত, আধা-দক্ষ জনসংখ্যা আমাদের অর্থনীতিতে কতটা প্রভাব রাখতে পারবে সেটা ভেবেই পরিকল্পনা গ্রহণ করা দরকার।”

সম্মেলনের উদ্বোধনী সেশনে অন্যদের মধ্যে আইসিটি ডিভিশনের অতিরিক্ত সচিব রাশেদুল ইসলাম বক্তব্য দেন।

ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল সিস্টেমস (ডিএফএস) মেলায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিজ নিজ পণ্য ও সেবার প্রদর্শনী করে।

Facebook Comments

" প্রযুক্তি " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ