Foto

প্রধান পর্যটন গন্তব্য হতে পারে বাংলাদেশ, মত বিশেষজ্ঞের

ড. আফজাল বলেন, ‘আমাদের এখানে “নাইট লাইফ” নামে কিছু নেই। আমাদের এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট জোনে “বার” থাকা দরকার। এটি সত্যি নয় যে, বিদেশি পর্যটকরা শুধুমাত্র মদ খেতে বাংলাদেশে আসবেন। তবে কিছু পর্যটক মদ খেতে চাইতে পারেন।’ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ ও সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ এশিয়ার একটি ‘প্রধান’ পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. এম আফজাল হোসেন। বার্তা সংস্থা ইউএনবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আফজাল এই মন্তব্য করেন।

এই পর্যটন বিশেষজ্ঞ বলেন, আমাদের যা আছে, সেটি অসাধারণ, প্রাকৃতিক ও সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত। কিন্তু আমাদেরকে বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে আরও অনেক কিছু করা প্রয়োজন।

যেহেতু বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অবকাঠামোর সঙ্গে দ্রুত উন্নয়ন হচ্ছে, সেহেতু দেশি-বিদেশি পর্যটকদের সংখ্যা বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে পর্যটন খাত আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে জাতীয় অর্থনীতিতে ব্যাপকভাবে অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

পর্যটন খাত বাংলাদেশে তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনৈতিক খাত হতে পারে বলে মনে করেন এ অধ্যাপক।
বাংলাদেশের মানুষ অতিথিপরায়ণ ও বন্ধুসুলভ। আমাদের স্থিতিশীলতা রয়েছে। আমরা এখন আর “তলাবিহীন ঝুড়ি” বা ভিক্ষুকদের দেশ নই। বাংলাদেশের ভালো দিকগুলো আমাদের বিদেশিদের কাছে উপস্থাপন ও প্রচারণা করতে হবে, বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপক।

ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ব্যাপক প্রচারমূলক কার্যক্রম এবং বিদেশির কাছে বাংলাদেশকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন ড. আফজাল।

ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করে পর্যটন খাতের এই বিশেষজ্ঞ বলেন, কম সময়ে বাংলাদেশের প্রধান পর্যটন স্থানগুলোতে যাওয়া সম্ভব হলে বিদেশিরা বাংলাদেশে আসতে আরও বেশি উৎসাহিত হবে। সময় এবং বাজেট বিবেচনা করে কম সময়ে পর্যটন স্থানগুলোতে আরামদায়কভাবে যেতে চান বিদেশি পর্যটকরা।

ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের এই অধ্যাপক বলেন, কোনো পর্যটন স্পট সুন্দরভাবে উপভোগ করতে বিদেশি পর্যটকদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ১০ ঘণ্টা সময় যেন আমরা নিতে পারি, সেদিকে নজর দেওয়া উচিত। শুধুমাত্র সমুদ্র সৈকতে বেশিক্ষণ সময় কাটানোর জন্য যথেষ্ট নয়। আমাদের এর সঙ্গে আরও কিছু করার আছে। যেমন আমাদের থিয়েটার হল, স্থানীয়দের নাটক করার জন্য মুক্ত মঞ্চ, মিউজিক্যাল ব্যবস্থাপনা এবং থিম পার্ক করা দরকার।

আমাদের এখানে “নাইট লাইফ” নামে কিছু নেই। আমাদের এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট জোনে “বার” থাকা দরকার। এটি সত্যি নয় যে, বিদেশি পর্যটকরা শুধুমাত্র মদ খেতে বাংলাদেশে আসবেন। তবে কিছু পর্যটক মদ খেতে চাইতে পারেন। এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট জোনে তারা মদ খেলে আমাদের কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

পর্যটনকে একটি স্মার্ট খাত উল্লেখ করে এ খাতে সরকারের বাজেট প্রসঙ্গে অধ্যাপক আফজাল বলেন, পর্যটন খাতের জন্য বার্ষিক বাজেট বরাদ্দ মোটেও যথেষ্ট নয়। প্রায় ৮.৪ লাখ বিদেশি প্রতি বছর বাংলাদেশ সফর করেন।

আমাদের বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা আরও অনেক বাড়ানো দরকার। এ ছাড়া আমরা আশা করি, দেশি পর্যটকদের সংখ্যা বছরে ৪-৫ কোটি ছাড়িয়ে যাবে।

এদিকে ফেসবুক ও টুইটারের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে সারা বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের পর্যটন খাতকে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করার জন্য শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী একেএম শাহজাহান কামাল। তিনি বলেন, অনেক দেশে পর্যটনকে অর্থনীতির একটি প্রধান উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়। আমরা যদি আমাদের পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন করতে চাই। তবে আমাদের অবশ্যই বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করার জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহার করতে হবে।

বিদেশি পর্যটকদের জন্য বাংলাদেশের আরও অনেক প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এদিকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব এম মহিবুল হক জানান, সরকার পর্যটন শিল্পের উন্নয়নের জন্য বছরব্যাপী কাজ করতে চায় এবং বিদেশে বাংলাদেশি পর্যটন খাতের ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করছে।

বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনৈতিক খাতগুলোর একটি হিসেবে ভ্রমণ ও পর্যটন খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি এবং সারা বিশ্বে সমৃদ্ধিতে অবদান রাখে।

ভ্রমণ ও পর্যটন খাতের বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে ওয়ার্ল্ড ট্র্যাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিলের (ডব্লিউটিটিসি) বার্ষিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০১৭ সালে এই খাতটি বিশ্বের জিডিপির ১০.৪ শতাংশ এবং ৩১৩ মিলিয়ন কর্মসংস্থান (মোট কর্মসংস্থানের ৯.৯ শতাংশ) সৃষ্টিতে ভূমিকা রেখেছে।

ডেইলী সুরমা

all bangla newspapers

ডেইলী সুরমা ডট কমে প্রকাশিত নিউজ সমূহ আমাদের নিজস্ব নিউজ রিপোর্টারের পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট , ব্লগ ওয়েবসাইট, বাংলা এবং ইংরেজী ওয়েবসাইটের সূত্র থেকেও নেয়া হয়েছে। আমাদের নিজস্ব রিপোর্টের বাহিরে অন্য নিউজগুলোর জন্য কোন প্রকার দ্বায় ডেইলী সুরমার নেই। প্রতিটি নিউজে নিউজের সোর্স দেয়া আছে। তদাপি কোন প্রকার নিউজ নিয়ে শংকা থাকলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। আমরা নিউজ রিমোভ করে দেব। তাছাড়া ডেইলী সুরমায় আপনি আপনার আসে পাশের ঘটে যাওয়া ঘটনা প্রকাশ করতে আমাদের ইমেল করুন বা যোগাযোগ পাতা থেকে যোগাযোগ করুন..

Facebook Comments

সমশ্রেণীর সংবাদ