Foto

প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারিও কাজে আসছে না


সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যানেস্থেসিস্ট হিসেবে ডা. রাজিব কাওসারকে পদায়ন করা হয়। পদায়নের কয়েক দিন পরই তিনি প্রেষণে সাতক্ষীরা জেলা সদর হাসপাতালে সংযুক্তি নেন। গত দুই বছর ধরে তিনি সেখানেই কর্মরত। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ- সপ্তাহে দুই দিনের বেশি তিনি হাসপাতালে কাজ করেন না। হাজিরা খাতায়ও স্বাক্ষর করেন না।


ব্যস্ত থাকেন প্রাইভেট ক্লিনিকে প্র্যাকটিস নিয়ে। তবুও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, জেলা সিভিল সার্জন তার বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পান না! হাসপাতালের কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলে বদলির হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি সিভিল সার্জনও তাকে নিয়ে তটস্থ থাকেন!

এই চিকিৎসকের সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছে, বাবা ও শ্বশুরের ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে ডা. রাজিব স্থানীয় স্বাস্থ্য প্রশাসনকে তটস্থ রাখেন। রাজিবের বাবা ডা. এসএম মোখলেছুর রহমান সাবেক এমপি ও সাতক্ষীরা জেলা শাখা স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি এবং শ্বশুর এসএম শওকত হোসেন উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি। বাবা ও শ্বশুরের এলাকায় এই শক্তিশালী অবস্থানকে ক্ষমতার খুঁটি হিসেবে ব্যবহার করছেন ডা. রাজিব। হাসপাতালে সপ্তাহে দুই দিন ডিউটি করেন। আর বাকি দিনগুলো সাতক্ষীরায় তার বাবার প্রতিষ্ঠিত নাজমুল ক্লিনিকে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. রাজিব কাওসার হাসপাতালে তার অনুপস্থিতির কথা অপকটে স্বীকার করেন। তিনি জানান, ’আমি এখন নাজমুল ক্লিনিক ভবনের বাসায় আছি। হাসপাতালে সপ্তাহে সোম ও বুধবার দুই দিন আমার ডিউটি করার কথা। ওই দুই দিন ডিউটি করি কি-না, তা দেখেন। অন্য দিনগুলো কোথায় থাকি বা না থাকি, তার জবাব কাউকে দেব না।’ হাসপাতালে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর না করা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ডা. রাজিব বলেন, হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করা বাধ্যতামূলক নয়। তাই স্বাক্ষর করি না।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. রফিকুল ইসলাম এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। অন্য চিকিৎসকরাও ডা. রাজিবকে নিয়ে কোনো ধরনের মন্তব্য করতে রাজি হননি।

দেশের অন্যান্য জেলা ও উপজেলাসহ সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে সাতক্ষীরার ডা. রাজিবের মতো কেউ দাপট দেখিয়ে, কেউ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে, আবার কেউ সমঝোতার ভিত্তিতে, কেউবা কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, কেউবা বছরের পর বছর কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকছেন। একদিকে হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে, অন্যদিকে চিকিৎসকরা কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকছেন। এই দুই কারণে জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলার চিকিৎসা ব্যবস্থা হুমকির মুখে রয়েছে।

টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর চলতি বছরের জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পরিদর্শনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চিকিৎসক ও নার্সদের কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। কর্মস্থলে অনুপস্থিত চিকিৎসকদের ওএসডি করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরাও প্রধানমন্ত্রীর এ অবস্থানকে স্বাগত জানান। তবে অধিকাংশ চিকিৎসক প্রধানমন্ত্রীর ওই হুঁশিয়ারি যেন আমলেই নেননি। তারা আগের মতোই চলছেন। ্‌আবার কোনো কোনো হাসপাতাল বিশেষ করে জেলা সদরের চিত্র কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পরপরই মাঠ পর্যায়ে চিকিৎসকদের কর্মস্থলে উপস্থিতি নিয়ে গত ২৮ ও ২৯ জানুয়ারি দেশের প্রত্যেকটি বিভাগের কয়েকটি জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সরেজমিন পরিদর্শন করে।

জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসকের ৬০ শতাংশেরও বেশি পদ শূন্য পড়ে আছে। উপজেলায়ও একই চিত্র। তবে অধিকাংশ জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসকদের উপস্থিতি বাড়লেও উপজেলার চিত্র ভিন্ন। কারণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর অর্ধেকেরও বেশি পদে চিকিৎসক পদায়ন করা সম্ভব হয়নি। আবার যাদের পদায়ন করা হয়েছে, তাদের মধ্যে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ বিভিন্ন কারণে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকছেন না। কোনো কোনো উপজেলা একজন চিকিৎসক দিয়ে চলছে। আবার কোনো উপজেলায় বাইরোটেশান চিকিৎসকরা দায়িত্ব পালন করছেন। উপজেলায় পদায়ন করা হলেও উচ্চ পর্যায়ে তদবির করে অনেকে প্রেষণে অথবা সংযুক্তি নিয়ে পছন্দমতো কর্মস্থলে চলে যান। অনেকে অনুমতি ছাড়াই বছরের পর বছর কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর প্রায় ৯০ শতাংশ চিকিৎসকের পদ ফাঁকা পড়ে আছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীর চিত্রও একই।

২০১৭ সাল থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সারাদেশের সরকারি হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। ওই বছরের ১ থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত এক মাস ৪৭০টি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বায়োমেট্রিক হাজিরা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তাদের ৬০ শতাংশই কর্মস্থলে অনুপস্থিত। আশঙ্কাজনক হারে উপস্থিতি কমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন উপসচিব খলিলুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে উপস্থিতি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২৮ জানুয়ারি ৪৮৬টি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে মোট ৫৫ দশমিক ৯৫ শতাংশ এবং ২৯ জানুয়ারি ৫৯ দশমিক ৬ শতাংশ চিকিৎসক-কর্মরতা উপস্থিত আছেন। ৮ ফেব্রুয়ারি ৬৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ, ৯ ফেব্রুয়ারি ৬৭ দশমিক ৬ শতাংশ, ১০ ফেব্রুয়ারি ৫৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ কর্মস্থলে উপস্থিত আছেন। অন্যরা অনুপস্থিত। হাজিরার এ চিত্র পাওয়া গেলেও তারা কত সময় হাসপাতালে থাকছেন, তা পরিস্কার নয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, গত দশ বছরে জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় দ্বিগুণ শয্যা বেড়েছে। সে অনুপাতে চিকিৎসকসহ বিভিন্ন জনবল নিয়োগ করা যায়নি। আবার পদের তুলনায় চিকিৎসক সংকট রয়েছে। এ কারণে জেলা ও উপজেলায় পদের বিপরীতে চিকিৎসক পদায়ন করা সম্ভব হয়নি। তবে সংকট দূর করতে গত দুই থেকে তিন বছর ধরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে থাকা অতিরিক্ত চিকিৎসকদের উপজেলায় পদায়ন করা হয়েছে। তাও প্রয়োজনের তুলনায় কম।

অনুপস্থিতির কারণ ব্যাখ্যা করে পরিচালক আরও বলেন, হাসপাতালে রোস্টার পদ্ধতিতে চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়। রাতে যে চিকিৎসক ডিউটি পালন করেন, তিনি দিনে বিশ্রামে থাকেন। এ কারণে দিনে পরিদর্শনে গেলে ওই চিকিৎসককে কর্মস্থলে পাওয়া যাবে না। তবে কেউ যে অনুপস্থিত থাকছেন না, সেটি বলব না। অনুপস্থিতির হার কমাতে এরই মধ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আশা করি শিগগিরই এর সুফল মিলবে।

শূন্য পদ ও অনুপস্থিতির চিত্র :সিলেটের সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসকের ৬০টি থাকলেও ৪২টিই শূন্য। মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ৫৩টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৩৯ জন। দুপুর হতে না হতেই চিকিৎসকশূন্য হয়ে পড়ে হাসপাতালটি। এই জেলার কাউয়াদীঘি হাওরাঞ্চলের রাজনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিকেল অফিসার রয়েছেন দু’জন, কমলগঞ্জে ২৪টি পদের বিপরীতে রয়েছেন মাত্র ছয়জন। একই চিত্র কুলাউড়া, জুড়ী, বড়লেখাসহ সব উপজেলায়। কিশোরগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৮৮টি পদের বিপরীতে ৪০টিই শূন্য। চিকিৎসকরাও গরহাজির। হাওরের ইটনা উপজেলায় ৯ পদের বিপরীতে ছয়জনকে পদায়ন করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন প্রশিক্ষণে ঢাকায় রয়েছেন। প্রেষণে আছেন দু’জন। কুড়িগ্রামের উলিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ২৭ পদের বিপরীতে ছয়জন কর্মরত। তাদের মধ্যে দু’জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রংপুর থেকে আসা-যাওয়া করেন। গাইনি চিকিৎসক ঢাকায় থাকেন। তিনি মাঝে মধ্যে হাসপাতালে যান। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা এবং অন্য দুই চিকিৎসক কুড়িগ্রাম জেলা শহর থেকে যাওয়া-আসা করেন। আবাসিক মেডিকেল অফিসার সব সময়ই প্রাইভেট প্র্যাকটিসে ব্যস্ত থাকেন। সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসকের ৫৮টি পদের ২৯টিই শূন্য। শহীদ এম. মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ২৯ জানুয়ারি পরিদর্শন করে ৩০ থেকে ৩৫ জন চিকিৎককে পাওয়া যায়নি। বগুড়া জেলা সদরে ২৫০ শয্যার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে চিকিৎসকের ৫১ পদের বিপরীতে রয়েছেন মাত্র ৩০ জন। তবে এখানকার উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে শূন্য পদের হার আরও বেশি- ৬৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ। সিভিল সার্জন দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ১১টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের ২৯৮টি পদের মধ্যে ১৩২টিই শূন্য।

সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলায় ১৬ পদের বিপরীতে মাত্র চারজনকে পদায়ন করা হয়। তাদের মধ্যে দু’জন ডেপুটেশনে আছেন। এখন দু’জন দিয়েই চলছে হাসপাতালটি। কালীগঞ্জে ২১ পদের বিপরীতে চারজনকে পদায়ন করা হয়। তাদের মধ্যে একজন প্রেষণে অন্যত্র রয়েছেন। আশাশুনিতে ২১ পদের বিপরীতে সাতজন পদায়ন করা হয়। তাদের মধ্যে দু’জন প্রেষণে অন্যত্র চলে গেছেন। খুলনার নয় উপজেলায় ৩২০ পদের বিপরীতে মাত্র ১১৯ জন চিকিৎসক পদায়ন করা হয়েছে। কয়রা উপজেলা ২৯ পদের বিপরীতে আট চিকিৎসককে পদায়ন করা হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচজনই বেশির ভাগ দিন কর্মস্থলে থাকেন না। পাইকগাছা ও তেরখাদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুই চিকিৎসককেও হাসপাতালে পাওয়া যায় না। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় এক চিকিৎসক চার বছর ধরে কর্মস্থলে নেই। পটুয়াখালীর ১৩ হাসপাতালের ১৭১ পদের বিপরীতে পদায়ন করা হয়েছে মাত্র ৫৮ জন। তাদের মধ্যে কাঁঠালতলী ও কুয়াকাটায় চিকিৎসকই নেই। দ্বীপ জেলা ভোলার সদর হাসপাতাল, আট উপজেলা, দুটি বক্ষব্যাধি ক্লিনিক, সাতটি উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং সিভিল সার্জন অফিসে মোট ৫৭ জন চিকিৎসক পদায়ন করা হয়েছে। এ জেলায় এখনও ১৫৪ চিকিৎসকের পদ শূন্য পড়ে আছে। পদায়নকৃত ৫৭ চিকিৎসকের মধ্যে পাঁচ বছর ধরে চারজন কর্মস্থলে অনুপস্থিত। অন্যরা গরহাজির।

বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পদায়ন হওয়া ১১ জনের মধ্যে একজন ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর যোগদান করে চলে যান। এরপর একদিনের জন্যও কর্মস্থলে আসেননি। চাঁদপুরের হাইমচর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছয় চিকিৎসকের মধ্যে পাঁচজনকেই অনুপস্থিত পাওয়া যায়। পার্বত্য তিন জেলায় ৬০ শতাংশের বেশি পদ শূন্য রয়েছে। অনুপস্থিতও থাকছেন প্রায় ৬০ শতাংশ। বেশিরভাগই বাই-রোটেশনে ডিউটি পালন করেন। নোয়াখালীতেও শূন্য পদের সংখ্যা প্রায় অর্ধেক। অনুপস্থিতির মিছিলও সমানতালে চলছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর এলাকা গোপালগঞ্জে চিত্র ব্যতিক্রম। এখানে পদায়ন করা চিকিৎসকরা সবাই উপস্থিত। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের জেলা মানিকগঞ্জের চিকিৎসকরা ঢাকায় আসা-যাওয়ায় সময় পার করেন। নগরকান্দা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ২১ পদের বিপরীতে পাঁচজন পদায়ন করা হয়। তাদের মধ্যে চারজনই প্রেষণে অন্যত্র চলে গেছেন। এখন একজন চিকিৎসকই হাসপাতাল চালাচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য :গ্রামের কর্মস্থলে চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে না পারাকে সরকারের ব্যর্থতা বলে মনে করেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চিকিৎসকদের প্রতি যে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন, তাতে প্রমাণ হয়েছে, জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে তিনি বদ্ধপরিকর। তবে সে জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিতে হবে।

নতুন পাস করা মেডিকেল শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের মেয়াদ সম্পর্কে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি তার বক্তব্যে ইন্টার্নশিপ দুই বছর করার কথা বলেছেন। আমিও দীর্ঘদিন ধরে এটি বলে আসছি। আশা করি, দ্রুত এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। ইন্টার্নশিপের প্রথম বছর মেডিকেল কলেজে এবং দ্বিতীয় বছর উপজেলায় থাকতে হবে। অন্যান্য চিকিৎসকের পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলায় ১০ জন করে ইন্টার্ন চিকিৎসক থাকলে রোগীদের সেবা পেতে সমস্যা হবে না। এ জন্য সরকারকে অতিরিক্ত কিছু অর্থ বরাদ্দ করতে হবে। যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হবে, রোগীরা তার চেয়ে অনেক বেশি সেবা পাবেন।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই মাহবুব বলেন, চিকিৎসকদের পদায়ন, প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন কোর্সে ভর্তি নিয়ে সরকারের কোনো পরিকল্পনা নেই। মাঠপর্যায়ে সেবা প্রদানে কতসংখ্যক চিকিৎসক প্রয়োজন, কতসংখ্যক চিকিৎসক উচ্চশিক্ষা ও প্রশিক্ষণের জন্য ছুটি ভোগ করবেন, কতসংখ্যক প্রতিবছর অবসরে যাচ্ছেন এবং কতসংখ্যক নতুন করে নিয়োগ করা প্রয়োজন- সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা নেই। কেউ তদবির করে বছরের পর বছর সুবিধাজনক স্থানে থাকছেন, কারও কারও তদবির করার জায়গা না থাকায় তিনি অবহেলিত হচ্ছেন। মনঃক্ষুণ্ণ হয়ে অনেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকছেন। সরকারকে এগুলো বিবেচনায় নিতে হবে। কারণ, জোর করে কাউকে দিয়ে কাজ করানো যায় না। প্রয়োজনে চিকিৎসকদের সঙ্গে সরকার আলোচনায় বসতে পারে। তাদের অভিযোগগুলো কী কী, তা সরকারকে জানতে হবে, কেন তারা গ্রামে থাকতে চায় না, সেটিও জানতে হবে। আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান বের করতে হবে।

বিএমএর মহাসচিব ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী বলেন, কর্মস্থলে কেউ উপস্থিত না থাকলে সেটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তবে চিকিৎসা খাতের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সঠিকভাবে করলে অধস্তনরা ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ পেতেন না। স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা পরিচালনার জন্য যতগুলো স্তর আছে, সবগুলো সঠিকভাবে কাজ করলে কেউ অনুপস্থিত থাকতে পারতেন না।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য :স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, কর্মস্থলে চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পৃথক মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। এ টিম এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বলেছিলাম, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেব। সে লক্ষ্যে কাজ শুরু হয়েছে। আশা করি, সফল হব।

Facebook Comments

" সুস্বাস্হ্য " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ